সদ্যপ্রাপ্ত
আপসনামা কীভাবে করবেন

আপসনামা কীভাবে করবেন

জানুয়ারি ১৩, ২০১৮

কোনো বিরোধ মীমাংসা কিংবা কোনো বিষয়ে নিষ্পত্তির জন্য অনেকে আপস মীমাংসার পথ বেছে নেন। বিরোধ নিষ্পত্তি কিংবা কোনো আইনি বিষয় নিষ্পত্তির জন্য আপস মীমাংসাই কার্যকর উপায়। কেননা এতে করে যেমন অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় এড়ানো যায়। আবার আদালতের দীর্ঘসূত্রতা থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়। প্রচলিত আইন তাই আপস মীমাংসার প্রতি জোর দিয়েছে বেশি। আপস মীমাংসা করতে হলেও নির্দিষ্ট কিছু নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে।
মামলা-মোকদ্দমা চলাকালীন আপস
কোনো বিষয় নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা হলে তা চলাকালীন অবস্থায় আপস মীমাংসা করে নিজেদের মধ্যে বিরোধ মিটিয়ে ফেলার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে সব ধরনের দেওয়ানি প্রকৃতির মোকদ্দমায়। বর্তমান দেওয়ানি আইনে এই আপস মীমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দুই পক্ষ আদালতে হাজির হওয়ার পরে অনুমতিক্রমে আদালতের আপস মীমাংসার মাধ্যমে বিরোধটি মিটিয়ে ফেলতে পারেন। এমনকি আপিলে গেলেও এই সুযোগ রয়েছে। একে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বলা হয়। দেওয়ানি কার্যবিধিতে সমঝোতার মাধ্যমে আদালত থেকে ডিক্রি নেওয়ার বিধানও রয়েছে। আদালতে যেকোনো সময় আপসনামা দায়ের করে নিষ্পত্তি চাওয়া যায়। একে আইনি ভাষায় সোলেমূলে নিষ্পত্তি বলে পারিবারিক আদালতে প্রথমে বিচার শুরু হওয়ার আগে একবার এবং রায় ঘোষণার আগে দ্বিতীয়বার আপস মীমাংসার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান আছে। সোলেমূলে নিষ্পত্তির জন্য উভয় পক্ষÿসম্মতিক্রমে কার্ট্রিজ কাগজে নিষ্পত্তির বিষয়ে বিভিন্ন শর্ত লিখে এবং তাদের আইনজীবীরা স্বাক্ষর দিয়ে আদালতে জমা দেন। আদালতে জমা দেওয়ার পর নিজেরা আদালতে জবানবন্দি দিয়ে বলেন যে তাঁরা আপস করে নিয়েছেন। আদালত তখন এ আপসনামাকে রায়ের অংশ হিসেবে ঘোষণা করেন। একবার আদালতে আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হলে তার বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না। অর্থঋণ-সংক্রান্ত মামলায়ও আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তির বিধান আছে। কিছু ক্ষেত্রে ফৌজদারি মামলায়ও আপসের সুযোগ রয়েছে। তবে গুরুতর অপরাধের ফৌজদারি মামলাগুলো আপস করা যায় না।আদালতের বাইরে নিষ্পত্তি
আদালত না গিয়েও বিরোধের নিষ্পত্তি করা সম্ভব। এ জন্য তিন শ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে কী কী শর্তে আপস হচ্ছে তা লিখে স্বাক্ষর করতে হবে। আপসনামা লেখার সময় সাক্ষী রাখা উচিত এবং সাক্ষীদের স্বাক্ষর রাখাও দরকার। এই আপসনামা প্রয়োজনে রোটারি করে নেওয়া উচিত। আপসনামা পারিবারিক, ব্যবসায়িক, জমিজমা যেকোনো বিষয়েই করা যায়। বাবা-মায়ের রেখে যাওয়া সম্পত্তির বণ্টনের জন্য আপসের মাধ্যমে বণ্টন করে নেওয়া যায়। একে বণ্টননামা দলিল বলা হয়। তবে বণ্টননামা দলিল নোটারি করলে হবে না। এ দলিল অবশ্যই সাবরেজিস্ট্রির মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করে নিতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে নারী নির্যাতনের কোনো ঘটনায় আপস মীমাংসা করা উচিত নয়। আপসনামা নিয়ে কোনো মিথ্যা বা জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ নেই। যদি কেউ কোনো জাল আপসনামা তৈরি করেন তাহলে তিনি শাস্তিযোগ্য অপরাধ করবেন।

লেখক:তানজিম আল ইসলাম,আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

About বিডিএলএন রিপোর্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*