রবিবার , ২০ মে ২০১৮
সদ্যপ্রাপ্ত
আমাদের পোষাক শিল্প ও অডিট বিষয়ক কিছু কথা

আমাদের পোষাক শিল্প ও অডিট বিষয়ক কিছু কথা

ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৮

একটা সময় বড় অফিসার মানেই রাগ, গম্ভীর আর অন্য রকম একজন মানুষ হিসেবে গন্য করা হত ! সময়ের পারিবর্তনের সাথে সাথে অনেক কিছু বদলে গেছে । এখন কমপ্লায়ানস নামক ব্যপারটি অফিসের মূল ভিত্তির মধ্যে ঢুকে যাওয়ার পর মূল পরিবর্তনটি পরিলক্ষিত হচ্ছে । অফিসার নামক বড় কর্তারা সবার সাথে ভালো ব্যবহার করে, ভালো ব্যবহার করার জন্য বিভিন্ন কোর্স করে এবং আরও উপরের যারা তারা পারলে বাইরে থেকেও কোর্স করে আসে ! যাতে করে একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সকলেই তাদের কাজ নির্বিঘ্নে ও মিলেমিশে করতে পারে সে লক্ষেই সকলের সাথে ভালো আচরণের প্রাকটিসগুলো বাড়ানোর চর্চা চলছে প্রতিনিয়ত ।বিদেশী কোম্পানি যারা আমাদের ওয়ার্ডার করে থাকে তারাও চায় শ্রমিক নিরাপত্তা ও শ্রমিকদের সাথে ব্যবহারের উন্নতি ঘটুক ।

এখন বড় অফিসারদের ভূমিকায় গিয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের থার্ডপার্টি অডিটররা । অডিটর বলতেই এখনও সেই গম্ভির চরিত্র কখনও কখনও ! হ্যা এখন সময় হয়েছে অডিটিং ব্যপারটি কমপ্লায়ান্সের আওতায় নিয়ে আসা । অডিটরদের আচরণ ঠিক করার জন্য কাজ না করতে পারলে অনেক বিষয়েই প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিক উপায়ে ইমপ্লিমেন্ট করতে অনুৎসাহিত হয়ে যেতে পারে ।
দিন যতই যাচ্ছে প্রত্যেকটি পণ্য, পরিবেশ, বিল্ডিং কোয়ালিটি, টেস্টিং কোয়ালিটি সহ সকল ধরণের মান নিশ্চিত করতে অডিটিং ব্যপারটি সামনে চলে আসছে । এবং এই অডিটগুলো করার জন্য বায়াররা কখনও কখনও নিজেরা এবং কখনও কখনও থার্ড পার্টি দিয়ে আমাদের দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে পোষাক শিল্পগুলোর অডিট করিয়ে আসছে ।

অডিট মানেই অডিটররা একটি প্রতিষ্ঠানে ঢোকার পর ডকুমেন্ট এবং বাস্তবিক কর্মকান্ড দেখে আরও কিভাবে এই বিষয়গুলো উন্নত করা যায় বা কেন এখনও সঠিক মানে পৌছায়নি এই বিষয়গুলো সামনে নিয়ে আসে । আর এজন্যই যারা অডিটর থাকেন তারা ভিসিটের পর একটি নির্দেশনামূলক ক্যাপ ঐ প্রতিষ্ঠানকে ও বায়ারকে দিয়ে দেন । একটি সাধারণ কোন ব্যপারকে ক্যাপের মধ্যে অসাধারণ খারাপভাবে তুলে ধরলে যে কোন ভালো প্রতিষ্ঠান আশা হত হতেই পারে । কিন্তু এই ধরনের বিপরীত রিপোর্ট করে অডিটররা নিজেদের ক্রেডিটকে দেখাতে চায় এবং এর কারণে একটি ভালো প্রতিষ্ঠান পিছিয়ে পড়ে । এতে করে নতুন নতুন কাজে আগ্রহ হারানোর সম্ভাবনা তৈরী হতে পারে যা সামগ্রিক অর্থনীতি ও সাসটেইনিবিলিটির জন্য ক্ষতিজনক ।
শুধু তাই নয় যারা একেবারেই নতুনভাবে বাজারে আসছে তারা অনেক ক্ষেত্রেই অনেক ধরনের নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে অবগত না থাকার কারণে সম্পূর্ণ প্লান্ট ইনস্টলেশন করার পর অডিটে গিয়ে যখন দেখতে পায় তারা অন্যান্যদের থেকে পিছিয়ে পড়েছে প্রথমেই তাদের ক্ষেত্রে উঠে আসার ব্যপারগুলোতে যথেষ্ঠ সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে । এখন যখন অডিট হয় তখন এক হল অডিটরদের আচরণ এবং অডিটরদের প্রদত্ত বিভিন্ন ধরনের ক্যাপ । আচরণগত দিকে যদি অডিটরগণ প্রথমেই তাদের বড়ত্ব দেখাতে চেয়ে কোন কোম্পানিকে শুরুতেই ধরাশায়ী করে ফেলে সে ক্ষেত্রে ঐ কোম্পানি এমনিতেই অডিটিংয়ের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়তে বাধ্য হয় । হ্যা, অডিটররা বিভিন্ন ফাইডিংসগুলো নিয়ে কাজ করবে এটাই স্বাভাবিক কিন্তু আমাদের দেশের প্রবৃদ্ধি যেখানে পোষাক শিল্পের উপর অনেকটা নির্ভরশীল এবং তা বাঁচানোর জন্য তাদেরকে কাজ করার সুযোগও দিতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময়য়ের যে বিভিন্ন ধরনের ক্যাটাগরি রয়েছে সেখানেও আরও ভালোভাবে তদারকি ও কনসালটেন্সির আওতা বাড়াতে হবে ।
অডিটরদের আচরণ ও কোন ক্যাপ দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও যৌক্তিক ব্যখ্যা দেওয়ার রীতি ও সাথে কারেক্টিভ একশন দেওয়ার রীতিও চালু করা সময়ের দাবি ।

কোন প্রতিষ্ঠানে অডিট হল, মুড অফ করে কতগুলো ক্যাপ মুখস্থ করে দিয়ে গেল আর সবাই এটা নিয়েই ভাবতে শুরু করলো কিভাবে এগুলো করা যায় তা নিয়ে ! এতে কাজ হওয়ার চেয়ে অকাজটাই বেশী হয় । আর একারণেই অডিটিং সিস্টেম আরও কমপ্লায়ান্স সমৃদ্ধ হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি ।অডিটরদের আচরণ যেন একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য নিয়ম পালন করার পাথেয় হিসেবে ব্যবহার করা যায় সে লক্ষে অডিটরদের আচরনীয় প্রশিক্ষনগুলো আরও বাড়ানো ও যেকোন প্রতিষ্ঠানকে কাজের সুযোগের সুযোগ তৈরী করে দেওয়ার ব্যপারে আগ্রনী ভূমিকা পালন করতে হবে ।
এছাড়াও বিভিন্ন বড় বড় প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অডিটগুলো তাদের স্বচ্ছতা নিয়ে কতটুকু সতর্ক সে ব্যপারেও ভাবা প্রয়োজন । যেহেতু আমাদের অর্থনীতির সাথে অডিট ব্যপারটি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে সুতরাং সঠিভাবে উৎপাদন ও শ্রমিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য উভয় পক্ষের একটি মেলবন্ধন থাকতেই হবে ।
অডিটরগন অডিট করার পর যে সমস্যাগুলো পাবে তার একটি সমাধান পত্র অডিট কোম্পানিগুলো কারেক্টিভ একশন হিসেবে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে । এভাবে প্রতিটি কাজের সঠিক দায়বদ্ধতার জায়গা তৈরী করতে পারলে তৈরী পোষাক খাত আরও দ্রুত সমৃদ্ধশালীর দিকে এগিয়ে যেতে সমর্থ হবে ।

লেখকঃ সাঈদ চৌধুরী
সদস্য, উপজেলা ‍দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি
ও রসায়নবিদ, শ্রীপুর, গাজীপুর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*