বুধবার, ১২ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ || ২৯শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ১লা শাওয়াল, ১৪৪২ হিজরি

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে নিহতদের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে দেয়ার নির্দেশ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দীর গাছ কাটা ও অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধে রিট

ডেস্ক রিপোর্ট

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পুলিশের গুলিতে নিহত শ্রমিকদের প্রত্যেকের পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে ওই ঘটনায় কেন বিচারবিভাগীয় তদন্তের (জুডিশিয়াল ইনকুয়ারি) নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

পাশাপাশি ওই ঘটনায় পুলিশ ও জেলা প্রশাসকের তদন্ত প্রতিবেদন, আহতদের চিকিৎসার সর্বশেষ তথ্য দেয়াসহ শ্রমিকদের নিরাপত্তা বিধানের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এ সংক্রান্ত ছয় সংগঠনের পৃথক দুই রিটের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (৪ মে) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আজ পাঁচ সংগঠনের করা রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট রিজওয়ানা হাসান। আরেকটি রিটের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না।

 

 

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, বাঁশখালিতে পুলিশের গুলিতে নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে আপাতত পাঁচ লাখ টাকা করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ওই ঘটনায় বিচারবিভাগীয় তদন্তের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

তারা জানান, ওই ঘটনায় গঠিত দুটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ৪৫ দিনের মধ্যে দাখিল করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া আহতদের চিকিৎসার বিষয়েও একই সময়ের মধ্যে জানাতে বলেছেন আদালত।

গত ১৭ এপ্রিল সকালে বাঁশখালীর গণ্ডামারা ইউনিয়নের পশ্চিম বড়ঘোনায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হন। আহত হন অনেক শ্রমিক। এ ঘটনায় বাঁশখালী থানায় দুটি মামলা হয়।

এ ঘটনায় প্রথমে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) একটি রিট করে। সেই সঙ্গে পাঁচটি মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে পুলিশের গুলিতে ছয় শ্রমিক নিহতের ঘটনায় বিচারবিভাগীয় তদন্ত, ক্ষতিপূরণের নির্দেশনাসহ বিভিন্ন দাবিতে আরেকটি রিট করা হয়।

গত রোববার (২ মে) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট ভার্চুয়াল বেঞ্চ এই রিট দুটি শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ঠিক করে আদেশ দেন। তারই ধারাবাহিকতায় আজ সেটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসে।

পরে রিট করা পাঁচটি সংগঠন হলো- বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), নিজেরা করি, সেফটি অ্যান্ড রাইটস এবং অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি)। গত ২৮ এপ্রিল রিটের বিষয়টি জানিয়েছিলেন বেলার প্রধান নির্বাহী আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

তারও আগে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র বিচারিক অনুসন্ধান কমিটি গঠনে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট করেছিল।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের আবেদনে শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা এবং শ্রমিক ও তাদের পরিবারকে নিরাপত্তা দিতে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন বেআইনি হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারির আর্জি জানানো হয়।

এছাড়া নিহতদের পরিবারকে তিন কোটি টাকা করে এবং আহতদের দুই কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণের নির্দেশনা কেন দেয়া হবে না সে বিষয়েও রুল জারির আবেদন করা হয়।

এ রুল বিবেচনাধীন থাকা অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা কিংবা আদালতের মতামত অনুসারে যেকোনো পরিমাণ টাকা দেয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে এ বিষয়ে বিচারিক অনুসন্ধান কমিটি গঠনে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারির আর্জি জানানো হয়েছে।গত ১৮ এপ্রিল এ বিষয়ে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৈয়দা নাসরিন একটি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন।

Responses

লেখক পরিচিতি