Home » দৈনন্দিন জীবনে আইন » জাল দলিলের ফাঁদে পড়লে কী করবেন?
নিষ্কণ্টক জমি ক্রয় করছেন

জাল দলিলের ফাঁদে পড়লে কী করবেন?

0

যদি কোন ব্যক্তি জানতে পারেন যে তার জমি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে কেউ জাল দলিল রেজিস্ট্রেশন করেছে তবে সম্পত্তির মালিক জালিয়াতির বিষয়টি জানতে পারার দিন হতে সর্বোচ্চ তিন বৎসরের মধ্যে নির্ধারিত কোর্ট ফী প্রদান করে জাল-দলিলকারীর বিরুদ্ধে দেওয়ানী আদালতে সুনির্দিষ্ট প্রতীকার আইনের ৩৯ ধারায় জাল-দলিল বাতিলের এবং একইসাথে ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক মোকদ্দমা দায়ের করতে পারেন। বাদী দণ্ডবিধির ৪০৬/৪২০/৪৬৩-৪৭৩ ধারায় শাস্তির প্রার্থনা করতে পারেন। এক্ষেত্রে বাদীকে দণ্ডবিধির ৪৬৩ ও ৪৬৪ ধারা মোতাবেক অপরাধ প্রমাণ করতে হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে জাল দলিলকারীর ৪৬৫ ও ৪৬৬ ধারানুযায়ী দুই থেকে সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

সম্পত্তির মালিক একাধিক হলে তাদের সবাই বা তাদের পক্ষ থেকে যেকোন একজন মোকদ্দমা করতে পারবেন।
যদি সম্পত্তির মালিক নাবালক হয় তবে তার বৈধ অভিভাবক মোকদ্দমা করতে পারবেন অথবা নাবালক ব্যক্তি সাবালক হওয়ার পরবর্তী তিন বছরের মধ্যে মোকদ্দমা করতে পারবেন।
তথ্য প্রমানের ভিত্তিতে আদালত সন্তুষ্ট হয়ে জাল-দলিল বাতিলের আদেশ দিয়ে রায় প্রদান করলে রায়ের একটি কপি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রেরণ করবেন। সাব রেজিস্ট্রি অফিস আদালতের আদেশ অনুযায়ী জাল-দলিল বাতিলের বিষয়টি রেজিস্ট্রি বইতে লিপিবদ্ধ করবেন।
তবে দলিল জাল না হয়ে যদি এমন হয় যে প্রকৃত দলিলেই কোন ভুলভ্রান্তি হয়েছে সেক্ষেত্রে তিন বছরের মধ্যে দেওয়ানী আদালতে ভুল সংশোধনের মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে।
লেখকঃ মসনদ বিন তৈফুর (নিলয় ভূঁইয়া)
বি.এ, এলএল.বি, আই.টি.পি (এন.বি.আর)
সদস্যঃ ঢাকা ট্যাক্সেস বার এ্যাসোসিয়েশন
বাংলাদেশ কোম্পানি ল’ প্র্যাক্টিশনার’স সোসাইটি

Bookmark(0)

Check Also

ওসি প্রদীপ কুমার গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় কক্সবাজারের টেকনাফ থানার প্রত্যাহারকৃত …

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.