বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ || ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ || ৫ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপরাধ এবং শাস্তি

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপরাধ
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপরাধ

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপরাধ- সামনের দিনগুলো হবে তথ্য প্রযুক্তির দিন। মানুষের বিচরণ হবে ভার্চুয়াল জগতে।আর যেখানে মানুষের বিচরণ হবে সেখানেই অপরাধ সংঘটিত হবে।আর এই অপরাধকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রয়োজন হয় আইনের। মানুষ ভার্চুয়াল জগতে বিচরণ করে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে ডিজিটাল ডিভাইস কি?
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ধারা ২(১)(ঞ) অনুযায়ী  ‘‘ডিজিটাল ডিভাইস’’ অর্থ কোনো ইলেকট্রনিক, ডিজিটাল, ম্যাগনেটিক, অপটিক্যাল বা তথ্য প্রক্রিয়াকরণ যন্ত্র বা সিস্টেম, যা ইলেকট্রনিক, ডিজিটাল, ম্যাগনেটিক বা অপটিক্যাল ইমপালস ব্যবহার করে যৌক্তিক, গাণিতিক এবং স্মৃতি কার্যক্রম সম্পন্ন করে, এবং কোনো ডিজিটাল বা কম্পিউটার ডিভাইস সিস্টেম বা কম্পিউটার নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত, এবং সকল ইনপুট, আউটপুট, প্রক্রিয়াকরণ, সঞ্চিতি, ডিজিটাল ডিভাইস সফটওয়্যার বা যোগাযোগ সুবিধাদিও ইহার অন্তর্ভুক্ত হবে;
ধারা ২(১)(ট) অনুযায়ী ‘‘ডিজিটাল নিরাপত্তা’’ অর্থ কোনো ডিজিটাল ডিভাইস বা ডিজিটাল সিস্টেম এর নিরাপত্তা;

ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধ শনাক্তকরণ, প্রতিরোধ, দমন, বিচার করার জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ তৈরি করা হয়।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপরাধ
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপরাধ

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপরাধ এবং শাস্তিঃ

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ষষ্ঠ অধ্যায়ে ১৭ থেকে ৩৮ ধারায় বিভিন্ন অপরাধ ও শাস্তির বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

ধারাঃ ১৭

ধারা ১৭ অনুযায়ী কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃত বা জেনেশুনে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামেতে বেআইনি  প্রবেশ করেন তাহলে তিনি অনধিক ৭(সাত) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ২৫ (পঁচিশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
এবং বেআইনি প্রবেশের মাধ্যমে উহার ক্ষতি বা বিনষ্ট করেন বা করার চেষ্টা করেন তাহলে তিনি অনধিক ১৪(চৌদ্দ) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ১ (এক) কোটি টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
যদি কোনো ব্যক্তি উক্ত অপরাধ দ্বিতীয় বার বা পুনঃপুন সংঘটন করেন তাহলে তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, বা অনধিক ৫(পাঁচ) কোটি টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

ধারাঃ ১৮

ধারা ১৮ অনুযায়ী কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কোন কম্পিউটার, কম্পিউটার সিস্টেম বা কম্পিউটার নেটওয়ার্কে বেআইনি প্রবেশ করেন বা করতে সাহায্য করেন তাহালে তিনি অনধিক ৬(ছয়) মাস কারাদণ্ডে, বা অনধিক ২(দুই) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
এবং যদি তিনি অপরাধ করার জন্য প্রবেশ করেন বা করতে সাহায্য করেন তাহলে তিনি অনধিক ৩(তিন) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ১০(দশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
যদি উক্ত অপরাধ কোন সংরক্ষিত কম্পিউটার, কম্পিউটার সিস্টেম বা কম্পিউটার নেটওয়ার্কে করেন তাহলে তিনি অনধিক ৩(তিন) বৎসর  কারাদণ্ডে, বা অনধিক ১০(দশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
যদি কোনো ব্যক্তি এই ধারার অধীন কোনো অপরাধ দ্বিতীয় বার বা পুনঃপুন সংঘটন করেন, তাহলে মূল অপরাধের জন্য যে দণ্ড নির্ধারিত আছে তিনি তার দ্বিগুণ দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

ধারাঃ ১৯

ধারা ১৯ অনুযায়ী কোন ব্যক্তি যদি কোন কম্পিউটার, কম্পিউটার সিস্টেম বা কম্পিউটার নেটওয়ার্ক থেকে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ বা স্থানান্তর করেন বা কোন ক্ষতিকারক সফটওয়্যার প্রবেশ করান বা করার চেষ্টা করেন বা কোন কম্পিউটার, কম্পিউটার সিস্টেম বা কম্পিউটার নেটওয়ার্কের ক্ষতিসাধন করেন বা করার চেষ্টা করেন বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে প্রবেশে বাঁধা দেন তাহলে তিনি অনধিক ৭(সাত) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
যদি কোনো ব্যক্তি উক্ত  অপরাধ দ্বিতীয়বার বা পুনঃপুন সংঘটন করেন, তাহলে তিনি অনধিক ১০ (দশ) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ২৫ (পঁচিশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

ধারাঃ ২০

ধারা ২০ অনুযায়ী  কোনো ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে বা জেনেশুনে  কোনো কম্পিউটার প্রোগ্রাম, কম্পিউটার সিস্টেম বা কম্পিউটার নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত কম্পিউটার সোর্স কোড গোপন, ধ্বংস বা পরিবর্তন করেন, বা অন্য কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে উক্ত কোড, প্রোগ্রাম, সিস্টেম বা নেটওয়ার্ক গোপন, ধ্বংস বা পরিবর্তন করার চেষ্টা করেন, এবং উক্ত সোর্স কোডটি যদি সংরক্ষণযোগ্য বা রক্ষণাবেক্ষণ যোগ্য হয়, তাহলে  তিনি অনধিক ৩ (তিন) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ৩ (তিন) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
যদি কোনো ব্যক্তি উক্ত  অপরাধ দ্বিতীয় বার বা পুনঃপুন সংঘটন করেন, তাহালে তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

ধারাঃ ২১

ধারা ২১ অনুযায়ী  যদি কোনো ব্যক্তি ডিজিটাল মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতির পিতা, জাতীয় সংগীত বা জাতীয় পতাকার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার প্রপাগান্ডা ও প্রচারণা চালান বা উহাতে মদদ প্রদান করেন, তাহলে তিনি অনধিক ১০ (দশ) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ১(এক) কোটি টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
যদি কোনো ব্যক্তি উক্ত অপরাধ দ্বিতীয় বার বা পুনঃপুন সংঘটন করেন, তাহলে তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, বা ৩(তিন) কোটি টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপরাধ
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপরাধ

ধারাঃ ২২

ধারা ২২ অনুযায়ী  কোনো ব্যক্তি যদি  বিনা অধিকারে বা প্রদত্ত অধিকারের অতিরিক্ত হিসাবে বা অনধিকার চর্চার মাধ্যমে কোনো কম্পিউটার বা ডিজিটাল ডিভাইসের ইনপুট বা আউটপুট প্রস্তুত, পরিবর্তন, মুছিয়া ফেলা ও লুকানোর মাধ্যমে অশুদ্ধ ডাটা বা প্রোগ্রাম, তথ্য বা ভ্রান্ত কার্য, তথ্য সিস্টেম, কম্পিউটার বা ডিজিটাল নেটওয়ার্ক পরিচালনা করেন তাহলে তিনি অনধিক ৫(পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
যদি কোনো ব্যক্তি উক্ত অপরাধ দ্বিতীয় বার বা পুনঃপুন সংঘটন করেন তাহলে তিনি অনধিক ৭(সাত) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

ধারাঃ ২৩

ধারা ২৩ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি যদি  ইচ্ছাকৃতভাবে বা জেনেশুনে  অনুমতি ছাড়া  কোনো কম্পিউটার প্রোগ্রাম, কম্পিউটার সিস্টেম, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল ডিভাইস, ডিজিটাল সিস্টেম, ডিজিটাল নেটওয়ার্কে বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কোনো তথ্য পরিবর্তন করেন, মুছে ফেলেন, নূতন কোনো তথ্য যুক্ত বা বিকৃতি ঘটানোর মাধ্যমে তার মূল্য বা উপযোগিতা হ্রাস করেন, তার নিজের বা অন্য কোনো ব্যক্তির কোনো সুবিধা প্রাপ্তির বা ক্ষতি করার চেষ্টা করেন বা ছলনার আশ্রয় গ্রহণ করেন তাহলে তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
যদি কোনো ব্যক্তি উক্ত  অপরাধ দ্বিতীয় বার বা পুনঃপুন সংঘটন করেন, তাহলে তিনি অনধিক ৭(সাত) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

ধারাঃ ২৪

ধারা ২৪ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃত বা জেনেশুনে কোনো কম্পিউটার, কম্পিউটার সিস্টেম, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে প্রতারনার উদ্দেশ্যে অন্য কোনো ব্যক্তি পরিচয় ধারন করেন বা জালিয়াতির মাধ্যমে অন্য কোনো জীবিত বা মৃত ব্যক্তির পরিচয় নিজের বলে ধারন করেন তাহলে তিনি অনধিক ৫(পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
যদি কোনো ব্যক্তি উক্ত অপরাধ দ্বিতীয়বার বা পুনঃপুন সংঘটন করেন, তাহলে তিনি অনধিক ৭ (সাত) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

ধারাঃ ২৫

ধারা ২৫ অনুযায়ী যদি কোনো ব্যক্তি ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যমে ইচ্ছাকৃত বা জেনেশুনে এমন কোনো তথ্য প্রকাশ করে যা আক্রমনাত্মক বা ভীতি প্রদর্শক অথবা মিথ্যা জানা শর্তেও কোন ব্যক্তিকে বিরক্ত, অপমান, অপদস্ত বা হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে তথ্য প্রকাশ করেন বা রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বা সুনাম ক্ষুন্ন করার বা বিভ্রান্তি ছড়াবার অথবা এই উদ্দেশ্যে অপপ্রচার বা মিথ্যা জানা শর্তেও কোন তথ্য সম্পূর্ণ বা আংশিক বিকৃত করে প্রকাশ করেন তাহলে তিনি অনধিক ৩ (তিন) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ৩ (তিন) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
যদি কোনো ব্যক্তি উক্ত  অপরাধ দ্বিতীয় বার বা পুনঃপুন সংঘটন করেন, তাহলে তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

ধারাঃ ২৬

ধারা ২৬ অনুযায়ী  কোনো ব্যক্তি যদি আইনগত অধিকার ছাড়া  অপর কোনো ব্যক্তির কোনো বাহ্যিক, জৈবিক বা শারীরিক তথ্য বা অন্য কোনো তথ্য যা এককভাবে বা যৌথভাবে একজন ব্যক্তি বা সিস্টেমকে শনাক্ত করে, যার নাম, ছবি, ঠিকানা, জন্ম তারিখ, মাতার নাম, পিতার নাম, স্বাক্ষর, জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নম্বর, ফিংগার প্রিন্ট, পাসপোর্ট নম্বর, ব্যাংক হিসাব নম্বর, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ই-টিআইএন নম্বর, ইলেকট্রনিক বা ডিজিটাল স্বাক্ষর, ব্যবহারকারীর নাম, ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড নম্বর, ভয়েজ প্রিন্ট, রেটিনা ইমেজ, আইরেস ইমেজ, ডিএনএ প্রোফাইল,  সংগ্রহ, বিক্রয়, দখল, সরবরাহ বা ব্যবহার করেন,তাহলে তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
যদি কোনো ব্যক্তি উক্ত  অপরাধ দ্বিতীয় বার বা পুনঃপুন সংঘটন করেন, তাহলে তিনি অনধিক ৭ (সাত) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

ধারাঃ ২৭

ধারা ২৭ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি যদি রাষ্টীয় অখন্ডতা,নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করা এবং  জনগণ বা জনগণের কোনো অংশের মধ্যে ভয়ভীতি দেখানোর উদ্দেশ্যে কোনো কম্পিউটার, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেট নেটওয়ার্কে বৈধ প্রবেশে বাধা দান করেন বা বেআইনি  প্রবেশ করেন বা করান অথবা ডিজিটাল ডিভাইসে ম্যালওয়ার প্রবেশ করান যার ফলে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু বা গুরুতর যখম হন বা হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যায় অথবা জনসাধারণের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের সরবরাহ ও সেবার ক্ষতিগ্রস্ত করেন অথবা এমন কোনো সংরক্ষিত তথ্য উপাত্ত বা কম্পিউটার ডাটাবেইজে প্রবেশ করেন যা বৈদেশিক কোনো রাষ্ট্রের সাথে বন্ধুত্বপূর্ন সম্পর্ক বা জনশৃঙ্খলা পরিপন্থী কোনো কাজে ব্যবহৃত হতে পারে অথবা বৈদেশিক কোনো রাষ্ট্র বা ব্যক্তি বা কোনো গোষ্ঠীর সুবিধার্থে ব্যবহার হতে পারে তাহলে তিনি অনধিক ১৪ (চৌদ্দ) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ১ (এক) কোটি টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
যদি কোনো ব্যক্তি উক্ত  অপরাধ দ্বিতীয় বার বা পুনঃপুন সংঘটন করেন, তাহলে তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, বা অনধিক ৫ (পাঁচ) কোটি টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

ধারাঃ ২৮

ধারা ২৮ অনুযায়ী যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে বা জেনেশুনে ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতিতে আঘাত করবার বা উস্কানি প্রদানের অভিপ্রায়ে ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা প্রচার করেন বা করান, যা ধর্মীয় অনুভূতি বা ধর্মীয় মূল্যবোধের উপর আঘাত করে,তাহলে তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
যদি কোনো ব্যক্তি উক্ত  অপরাধ দ্বিতীয় বার বা পুনঃপুন সংঘটন করেন, তাহলে তিনি অনধিক ১০ (দশ) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ২০ (বিশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

ধারাঃ ২৯

ধারা ২৯ অনুযায়ী যদি কোনো ব্যক্তি ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে পেনাল কোড ১৮৬০ এর ধারা ৪৯৯ এ বর্ণিত মানহানিকর তথ্য প্রকাশ বা প্রচার করেন, তাহলে তিনি অনধিক ৩ (তিন) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
যদি কোনো ব্যাক্তি উক্ত  অপরাধ দ্বিতীয় বার বা পুনঃপুন সংঘটন করেন, তাহলে উক্ত ব্যক্তি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

ধারাঃ ৩০

ধারা ৩০ অনুযায়ী যদি কোনো ব্যক্তি আইনানুগ অধিকার ছাড়া কোনো ব্যাংক, বীমা বা অন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা মোবাইল আর্থিক সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে ইলেকট্রনিক বা ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে ই-ট্রানজেকশন করেন তাহলে তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
যদি কোনো ব্যক্তি উক্ত  অপরাধ দ্বিতীয় বার বা পুনঃপুন সংঘটন করেন, তাহলে তিনি অনধিক ৭ (সাত) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

ধারাঃ ৩১

ধারা ৩১ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি যদি  ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইট বা ডিজিটাল বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন বা করান, যা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শ্রেণি বা সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা, ঘৃণা বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করে বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে বা অস্থিরতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে অথবা আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটায় বা ঘটিবার উপক্রম হয়, তাহলে তিনি অনধিক ৭ (সাত) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
যদি কোনো ব্যক্তি উক্ত অপরাধ দ্বিতীয় বার বা পুনঃপুন সংঘটন করেন, তাহলে তিনি অনধিক ১০ (দশ) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

ধারাঃ ৩২

ধারা ৩২ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি যদি Official Secrets Act, 1923 এর আওতাভুক্ত কোনো অপরাধ কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটন করেন বা করতে সহায়তা করেন, তাহলে তিনি অনধিক ১৪ (চৌদ্দ) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ২৫ (পঁচিশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন
যদি কোনো ব্যক্তি উক্ত অপরাধ দ্বিতীয়বার বা পুনঃপুন সংঘটন করেন, তাহলে তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, বা অনধিক ১(এক) কোটি টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

ধারাঃ ৩৩

ধারা ৩৩ অনুযায়ী যদি কোনো ব্যক্তি কম্পিউটার বা ডিজিটাল সিস্টেমে বে-আইনি প্রবেশ করে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থা বা কোনো আর্থিক বা বাণিজ্যিক সংস্থার কোনো তথ্য-উপাত্তের কোনোরূপ সংযোজন বা বিয়োজন, স্থানান্তর বা স্থানান্তরের উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করেন বা করতে সহায়তা করেন, তাহলে তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
যদি কোনো ব্যক্তি উক্ত অপরাধ দ্বিতীয় বার বা পুনঃপুন সংঘটন করেন, তাহলে তিনি অনধিক ৭ (সাত) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ১৫ (পনেরো) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

ধারাঃ ৩৪

ধারা ৩৪ অনুযায়ী যদি কোনো ব্যক্তি হ্যাকিং করেন, তাহলে তিনি অনধিক ১৪ (চৌদ্দ) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ১ (এক) কোটি টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
যদি কোনো ব্যক্তি উক্ত অপরাধ দ্বিতীয় বার বা পুনঃপুন সংঘটন করেন, তাহলে তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, বা অনধিক ৫ (পাঁচ) কোটি টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

ধারাঃ ৩৫

ধারা ৩৫ অনুযায়ী যদি কোনো ব্যক্তি এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করেন তাহলে মূল অপরাধটির জন্য যে দণ্ড নির্ধারিত আছে, উক্ত ব্যক্তি সেই দণ্ডেই দণ্ডিত হবেন।

ধারাঃ ৩৬

ধারা ৩৬ অনুযায়ী  কোনো কোম্পানির দ্বারা  এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ হলে উক্ত কোম্পানির প্রত্যেক মালিক, প্রধান নির্বাহী, পরিচালক, ম্যানেজার, সচিব, অংশীদার বা অন্য কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী বা প্রতিনিধি উক্ত অপরাধের জন্য অপরাধী হবেন যদি না তিনি প্রমাণ করতে পারেন যে, ঐ অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে হয়েছে বা ঐ অপরাধ বন্ধ করার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন।

ধারাঃ ৩৭

ধারা ৩৭ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি ধারা ২২ এর অধীন ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক জালিয়াতি, ধারা ২৩ এর অধীন ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক প্রতারণা এবং ধারা ২৪ এর অধীন পরিচয় প্রতারণা বা ছদ্মবেশ ধারণের মাধ্যমে অপর কোনো ব্যক্তির আর্থিক ক্ষতিসাধন করলে, ট্রাইব্যুনাল, সৃষ্ট ক্ষতির সমতুল্য অর্থ বা তদ্‌বিবেচনায় উপযুক্ত পরিমাণ অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে প্রদানের জন্য আদেশ দিতে পারবে।

ধারাঃ ৩৮

ধারা ৩৮ অনুযায়ী তথ্য পাওয়ার ব্যবস্থা করার জন্যে কোনো সেবা প্রদানকারী এই আইনের অধীন দায়ী হবেন না, যদি তিনি প্রমাণ করতে পারেন যে, উক্ত  অপরাধ তার অজ্ঞাতসারে হয়েছে বা উক্ত অপরাধ যাতে না হয় সেজন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপরাধ কি ও মামলা করার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

সময়ের সাথে সাথে নতুন নতুন অপরাধ তৈরি হয়, অপরাধগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নতুন আইন তৈরি করা হয়।আমাদের উচিৎ সকল আইন মেনে চলা।

লেখকঃ মোঃ মনিরুজ্জামান
শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ
মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

লেখক পরিচিতি

Responses