সদ্যপ্রাপ্ত
প্রশ্ন ফাঁস রোধে দুর্নীতি দমন কমিশনের সক্রিয় ভূমিকা চাচ্ছি

প্রশ্ন ফাঁস রোধে দুর্নীতি দমন কমিশনের সক্রিয় ভূমিকা চাচ্ছি

প্রতিদিনিই প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে । প্রতিদিনিই হাসি তামাশার মধ্য দিয়ে পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করছে দেশের বেশীরভাগ পরীক্ষার্থী । ইচ্ছে করে দুর্নীতিবাজ মানুষ তৈরীর কারখানায় রুপান্তর করা হচ্ছে প্রতিটি শিক্ষাঙ্গন !এভাবেই তবে চলতে থাকবে ? দেশের স্কুল গুলোতে পাশের হার বাড়ানোর অসম প্রতিযোগীতা, পাশের হার বাড়লে অনুদান বাড়বে আর অনুদান বাড়লে বাড়বে দুর্নীতি করার ক্ষেত্র ! অভাবনীয় ঘটনাগুলোই এখন ঘটে যাচ্ছে অহরহভাবে । তবে সন্তানকে বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে লাভ কি ?

এসএসসি পরীক্ষার মধ্যে এবারও সেই আগের অবস্থাই । শিক্ষা মন্ত্রনালয় থেকে বার বার বলা হলেও কোন ব্যবস্থাই কার্যকরী হয়নি । তবে কি ব্যর্থতার দায়ভারই মূল হতাশার জায়গা ? পাশে একজন ফাঁসকৃত প্রশ্নে পরীক্ষ দিয়ে ভালো ফলাফল করবে আর কোন ছাত্র নিজে ভালো থাকার জন্য কোন ফাঁসকৃত প্রশ্নে পরীক্ষা না দিয়ে খারাপ রেজাল্ট করলে সে কি ভালো প্রতিষ্ঠানে পরে পড়তে পারবে ? এই চিন্তার পরই সে দুর্নীতি আরাম্ভ করবে এবং সে ফাঁসকৃত প্রশ্নেই পরীক্ষা দিতে আগ্রহী হয়ে উঠবে । এক কথায় বলা যায় ইচ্ছে করে দুর্নীতি শিক্ষা দেওয়ার একটা বড় ক্ষেত্র হয়ে উঠছে শিক্ষার জায়গাগুলো । শতভাগ পাশের মরন নেশা শিক্ষকদের দুর্নীতিবাজ করে তুলছে । এটা কি শুধু হতাশার বলেই আমরা পার পেয়ে যেতে পারি ?

প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে বসে থাকার সময় নেই । দুর্নীতি বন্ধের জন্য ও প্রতিরোধের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন যে ভালো সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছে যেমন স্কুলে স্কুলে সততা সংঘ গঠন, স্কুলে স্কুলে সততা স্টোর গঠন এই উদ্দেশ্যগুলো ভন্ডুল করে দেবে প্রশ্ন ফাঁসের মত ভয়াবহ রোগগুলো । আমাদের জাতীয় ভাবেই এই বিষয়ট নিয়ে এখন ভাবা দরকার বলে মনে করি । কারা এত বেশী শক্তিশালী হয়ে গেল যে প্রশ্ন কোন ভাবেই ফাঁস রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না ?
যেহেতু ব্যপারটি শিক্ষা ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় দুর্নীতির কারণ সেহেতু দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয় প্রয়োজন বলে মনে করি । শুধু তাই নয় প্রশ্ন ফাঁসের সাথে বড় ধরণের যে বানিজ্য হচ্ছে অবশ্যই এর জন্য টাকা লেনদেন হচ্ছে এবং ব্যাংক লেনদেনের উপর নজরদারিও থাকা উচিৎ বলে মনে করি । যত দ্রুত সম্ভব দুদকের একটি তদন্ত সেল গঠন করে গোপনে এবং প্রকাশ্যে প্রশ্ন ফাঁস রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে অনুরোধ জানাচ্ছি ।
এই তদন্ত হতে হবে প্রশ্নর ফাঁসের সাথে জড়িত সকল কর্মকর্তা কর্মচারী, শিক্ষক এবং যারা প্রশ্ন ছাপার কাজে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ।আশা করি খুব দ্রুত দুর্নীতি দমন কমিশন সহ সংশ্লিষ্ট সকলে প্রশ্ন ফাঁস রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করবেন ।দেশ সুন্দর ভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজন মেধার চাষ আর সেখানে আমরা করছি ফাঁসের চাষ ! এই অস্বাভাবিক প্রক্রিয়া বন্ধ করতেই হবে এবং তা আমাদের স্বার্থেই ।

লেখকঃ সাঈদ চৌধুরী

সদস্য, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি
ও রসায়নবিদ
শ্রীপুর, গাজীপুর

About ডেস্ক রিপোর্ট

[mc4wp_form]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*