মঙ্গলবার, ১৩ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ || ৩০শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ || ২রা রমজান, ১৪৪২ হিজরি

ফৌজদারি মামলায় আপসের বিধান

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিবিরোধী মিছিলে সংঘর্ষ : কারাগারে ৩০ আসামি

ফৌজদারি মামলায় আপসের বিধান

ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রেও এমন কিছু অপরাধ রয়েছে; যেগুলোর নিষ্পত্তি পক্ষদ্বয়ের পারস্পরিক সমঝোতা বা চুক্তির মাধ্যমে করা যায়। ফৌজদারি কার্যবিধিতে এর নাম দেয়া হয়েছে ‘কম্পাউন্ডিং অফেন্স’ বা ‘আপসযোগ্য অপরাধ’।

ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ৩৪৫ নং ধারায় ‘আপসযোগ্য অপরাধ’ বিষয়ক যাবতীয় বিধান উল্লেখ করা হয়েছে। এটি এমন একটা বিধান যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও অভিযুক্ত ব্যক্তি পারস্পরিক চুক্তির মাধ্যমে ও ক্ষতিপূরণের বিনিময়ে আদালতের অনুমতি ব্যতিরেকে কিংবা আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে মামলা নিষ্পত্তি করার সিদ্ধান্তে উপনীত হয়।

কম্পাউন্ডিং অফেন্সের ক্ষেত্রে আইনের নীতি হলো এই যে, যেসব অপরাধ তুলনামূলক কমমাত্রার ভয়াবহ এবং যেগুলোয় রাষ্ট্রের স্বার্থের তুলনায় কেবল ব্যক্তিস্বার্থই ক্ষুণ্ন হয়ে থাকে, সেসব অপরাধের বিচার আপসের ভিত্তিতে নিষ্পত্তি হতে পারে।

উল্লেখ্য, এভাবে মামলা আপস করার অর্থ মামলা প্রত্যাহার করা নয়। কারণ, মামলা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে অভিযোগকারী আদালতের শরণাপন্ন হয় এবং আদালতের সন্তুষ্টির ভিত্তিতে মামলা প্রত্যাহার করে।

 

সম্পত্তি বন্টনের পূর্বে একজন মুসলমান মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির উপর প্রাথমিক দাবিগুলি কি কি
সম্পত্তি বন্টনের পূর্বে একজন মুসলমান মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির উপর প্রাথমিক দাবিগুলি কি কি

 

অন্যদিকে ফৌজদারি মামলায় আপসের উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারেন কেবল ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি। মামলা আপস করার মধ্য দিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি মামলা থেকে রেহাই পেয়ে থাকে। এ কারণে কোনো মামলা একবার আপোস করা হলে পুনরায় একই বিষয়ে আদালতে মামলা দায়ের করা যায় না। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪৫ নং ধারায় দ-বিধির অপরাধগুলোকে আপসযোগ্যতার ভিত্তিতে দুভাগে ভাগ করা হয়েছে।

প্রথম ভাগে রয়েছে ১৭টি অপরাধের তালিকা, যেগুলো আদালতের অনুমতি ছাড়াই তৃতীয় কলামে উলি্লখিত ব্যক্তি আপস করতে পারবে। আর দ্বিতীয় ভাগে আছে আরো ৪৪টি অপরাধের তালিকা, যেগুলো আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে কলামে উলি্লখিত ব্যক্তি আপস করতে পারে। তবে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪৫ নং ধারার উল্লেখ নেই, এমন কোনো অপরাধ আপস করা যাবে না।

বিশেষ আইনে উলি্লখিত অপরাধগুলোও অনাপসযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। যদি কোনো অনাপোসযোগ্য অপরাধ আইনের বিধান লঙ্ঘন করে আপস করা হয়, তাহলে তা কার্যবিধির ২১৩ ও ২১৪ ধারা আনুযায়ী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

অপরাধের আপস সাধারণত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির তরফ থেকে করা হয়। এক্ষেত্রে ব্যক্তি যদি নাবালোক হয় তবে তার আইনানুগ অভিভাবকও আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে আপসের উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারবে। মামলার যেকোনো পর্যায়েই আপসের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।

এমনকি মামলা হাইকোর্ট বিভাগ বা সেশন কোর্টে আপিলরত অবস্থাতেও আপস করা যেতে পারে। তবে কোনো আপস যদি ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্ররোচনা বা জোরপূর্বক করা হয়, তবে তা আপস হিসেবে বিবেচিত হবে না।

লেখকঃ ল ফর ন্যাশনস, ইমেইলঃ lawfornations.abm@gmail.com মোবাইল: 01842-459590

Responses

লেখক পরিচিতি