সদ্যপ্রাপ্ত
বাংলাদেশে প্রথম সিমকার্ড এর মালিকানা নিয়ে মামলা এবং মালিক ব্যতীত অন্য কাউকে সিম হস্তান্তর না করার নির্দেশ

বাংলাদেশে প্রথম সিমকার্ড এর মালিকানা নিয়ে মামলা এবং মালিক ব্যতীত অন্য কাউকে সিম হস্তান্তর না করার নির্দেশ

এপ্রিল ২৮, ২০১৬

বিগত ২৬.০৪.২০১৬ ইং তারিখে বাদী হিসেবে জনাব মোস্তফা কামাল, পিতা- সামশুল আলম, গ্রাম- ধলই, ডাকঘর- এনায়েতপুর, থানা- হাটহাজারী, জেলা-চট্টগ্রাম, বর্তমান ঠিকানাঃ ৪/১৪, জয়েন্ট কোয়ার্টার, মোহাম্মদপুর, ঢাকা, তার ব্যবহৃত রবি সিমকার্ডে ষোল আনা স্বত্ব স্বার্থ মালিকানা ও দখল সত্ব বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও রবি আজিয়াটা লিমিটেড অন্যায় ও বেআইনীভাবে উক্ত রবি সিমটির স্বত্ব ও দখল যাতে অন্য কাউকে হস্তান্তর না করতে পারে এবং তজ্জন্য রবির বিরুদ্ধে বিজ্ঞ প্রথম সিনিয়র সহকারী জজ আদালত, ঢাকা – তে একটি চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলা (দেওয়ানী মোকদ্দমা নং- ১৭৬/২০১৬) করেন। বাদী মোস্তফা কামাল এর পক্ষে তার নিযুক্ত আইনজীবি ইমরান হোসেন রুমেল বলেন, বিজ্ঞ আদালত এই মর্মে অর্ন্তবতীকালীন আদেশ প্রদান করেন যে, রবি আজিয়াটা লিমিটেড যেন উক্ত সিম বাদী ব্যতীত অন্য কাউকে হস্তান্তর না করেন এবং ১৫ দিনের মধ্যে বিবাদীগনের বিরুদ্ধে কেন অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারী করা হবে না, এই মর্মে কারন দর্শানোর জন্য আদেশ প্রদান করেন।

sim-card14

বাদী পক্ষের নিযুক্ত আইনজীবি ইমরান হোসেন রুমেল বিডিলনিউজকে বলেন যে, বাদী জনাব মোস্তফা কামাল চট্টগ্রামস্থ মুরাদপুরের একটি সাধারণ ফোন-ফ্যাক্সের দোকান থেকে ২০০৪ সালে একটি রবি সিম কিনেন যাহার নম্বর- ০১৮১৯-৮৯৪৬xx । তৎকালীন ২০০৫ সালের শেষের দিকে সিম খানা সহ একটি মোবাইল সেট কিছুদিনের জন্য বাদী তার বন্ধু জাহেদ উদ্দীনকে ব্যবহার করতে দেন। কিছুদিন ব্যবহারের পর সে নিজেই একটি সিম ক্রয় করে তাকে তার সিমটি ফেরত দেয়। পরবতীর্তে ২০১০ ইং সালে তার ক্রয়কৃত ঐ সিমটি হারিয়ে যাওয়ার ফলে পুনরায় বাদীর কাছে কিছু দিনের জন্য একটি মোবাইল সেট সহ (০১৮১৯-৮৯৪৬xx) ধার চাইলে, তিনি তাকে তা হাওলাত হিসাবে দেন। পুনরায় ২০১১ সালের জুলাই মাসে, তার সাথে সম্পর্ক অবনতি হলে, নিরাপত্তার খাতিরে বাদী তার সিমটি ফেরত নেন।

অত:পর ২০১২ সাল হতে বাদী দেশের বাহিরে অবস্থান করে এবং ২০১৪ সালে দেশে এসে সিমটি উত্তোলন করে পুনঃ ব্যবহার শুরু করে। সংগত কারনে গত ২৫/১০/২০১৫ ইং তারিখে চট্টগ্রাম আদালত ভবনে গেলে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে কতিপয় দুষ্কৃতকারী পুলিশ বাদীকে ঝাপটে ধরলে, কার হাতে থাকা কিছু গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টস এবং মোবাইলের কিছু ডকুমেন্ট/সিমের বক্স হাত থেকে পড়ে যায়। গত ২০/১১/২০১৫ ইং তারিখে বাদী তার মোবাইল নং- ০১৮১৯-৮৯৪৬xx এ ফোন করলে, কোন একজন নিজের নাম শফিক, চট্টগ্রাম আদালতের উকিলের ক্লার্ক হিসাবে পরিচয় দেন। সিম খানা ফেরত দেয়ার জন্য উক্ত শফিককে অনুরোধ করলে সে গত ১৮/১২/২০১৫ইং তারিখে চট্টগ্রাম হতে ঢাকা আগমনকৃত একজন গাড়ীর হেলপারের মাধ্যমে সিমটি পাঠিয়ে দিলে, ভোর অনুমান ৫টায় যমুনা ফিউসার পার্ক, থানা- ভাটারা এলাকা থেকে বাদী তা গ্রহণ করেন, কিন্তু যমুনা ফিউচার পার্ক হতে নতুন বাজারে আসার পথে, সিমখানা আবারো হারিয়ে যায়।

অতঃপর গত ১৯/১২/২০১৫ইং ভাটারা থানায় হারানো জি.ডি করে, যমুনা ফিউচার পার্কের রবি কাষ্টমার সার্ভিসে গিয়ে, বাদী একজন মালিক হিসাবে, সিমের সকল তথ্য দিয়ে, উক্ত সিম খানা রিপ্লেস করে নেন। পরবর্তীতে ২০/১২/২০১৫ তাং সকালে তার সিমটি অকার্যকর হয়ে যায় এবং কে-বা কারা নতুনভাবে রিপ্লেস করে নেয়। পরক্ষণে তিনি ১২৩ নাম্বারে ফোন করেন এবং নাম্বারটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে, পরে পুনঃ চালু করেন। গত ২০/১২/২০১৫ তারিখ হইতে ০৬/০১/২০১৬ইং তারিখ পর্যন্ত কতিপয় ব্যক্তিদ্বারা সিমটি ৪/৫ বার রিপ্লেস হয় এবং বাদীর হাতে থাকা সিমখানা রবি কলসেন্টার ও কাষ্টমার সার্ভিস সেন্টারকে একজন মালিক হিসাবে সকল তথ্য ও যথাযথ ডকুমেন্ট দেখিয়ে সিমখানা আবার চালু করেন এবং সিমটির রিপ্লেসম্যান্ট বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানায় একটি জিডি করেন, জিডি নং ৩১ তাং ০১.০১.২০১৬। বিগত ০৬/০১/২০১৬ইং তারিখ হতে বাদীর হাতে থাকা তার সিমটি অকার্যকর অবস্থায় আছে।

বাদী আরও উল্লেখ করেন যে, অবিরাম ব্যবহার কারী হিসাবে নি¤œ বর্ণনাই যথেষ্ট:
১। আমার নাম্বারটি আনলিমিটেড এফ এন এফ -৯৯ প্যাকেজে আছে।
২। আমার এফ এন এফ নাম্বারগুলো:
ক) ০১৮১৯-৬১১১xx, খ) ০১৮১৫-৪৭১৩xx গ) ০১১৯৯-৭৩৮৩xx ঘ) ০১৮১৯-৫১৩১xx,
ঙ) ০১৮১৯-১৭৩১xx চ) ০১৭৯৬-৫৪৯১xx
উল্লেখিত এফ এন এফ নাম্বারগুলোর ব্যবহারকারীর নাম, ঠিকানা ও তাদের পেশা এবং বাদীর সাথে সম্পর্কের ব্যাপারটি রবি এর প্রয়োজনে বাচনিকভাবে বলার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন। তারপর ১৭/১/২০১৬ তাং এর পর হতে রবি কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও কতিপয় ব্যক্তি কর্তৃক উপরোক্ত মালিকানা তথ্য ডিলিট/মুছে ফেলা হতে পারে বলে বাদী আশঙকা করেন। সুতরাং তথ্যগুলো সংরক্ষণ পূর্বক ১৮.০১.২০১৬ ইং তারিখের আবেদন প্রাপ্তির ২৪ ঘন্টার মধ্যে আমার দেয়া তথ্য গুলো সঠিক আছে মর্মে বাদী রবি কর্তৃপক্ষ হতে লিখিতভাবে জানানোর অনুরোধ করেন। ২৪ ঘন্টার মধ্যে রবি কর্তৃক লিখিতভাবে জানানো না হলে, তার দেয়া তথ্যগুলো সঠিক আছে মর্মে প্রতিয়মান হবে।

অথচ, রবি কোনরুপ ব্যবস্থা গ্রহন করে নাই এবং কোন রুপ ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষন প্রতিয়মান হচ্ছে না। বারবার যোগাযোগ করেও কোম্পানির কোনরুপ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন না নেওয়ায় বাদী অত্র কোম্পানীর কতিপয় কর্মকর্তা কর্মচারীর সেবা প্রদানে আইনগত বাধ্যবাধকতা এড়িয়ে যাওয়ার সন্দেহের উদ্রেক করছে এবং যে কোন মুহুর্তে উক্ত সিম নাম্বার অপব্যবহার করে কোনরুপ অপরাপ সংঘটন করে আমাকে ফাসানোর সম্ভাবনার আসঙ্কা করছি। এছাড়া বাদী তার সিমের ডকুমেন্ট/সিমের বক্স হারিয়েছে মর্মে গত ২০/১১/২০১৫ ইং তারিখে চট্টগ্রাম পুলিশ কমিশনার বরাবরে লিখিত একখানা আবেদনও করেন।

বাদীর ব্যবহৃত নাম্বারটি তার ব্যাংক একাউন্ট/অনলাইন লেনদেন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, তাই যে কোন লেনদেন করা মাত্রই সয়ংক্রিয়ভাবে এসএমএস এর মাধ্যমে কতিপয় ব্যক্তির কাছে বাদীর উক্ত তথ্য পৌঁছে যাচ্ছে, যা রবি আজিয়াটা কোম্পানী অবহিত আছেন। তাছাড়া সিমটি বর্তমানে কতিপয় ব্যক্তির কাছে রয়েছে, সেহেতু উক্ত সিম দিয়ে এ সময়ে কোন অপব্যবহার হয়ে থাকলে, তার জন্য রবি কর্তৃপক্ষ দায়ি থাকিবে মর্মে অবহিত করেন।

উপরিউক্ত অবস্থান সাপেক্ষে এ ধরনের কর্মকান্ড থেকে বিপদমুক্ত থাকার জন্য বাদী তার উক্ত সিম শুধুমাত্র তার নামে ব্যবহার করার যাবতীয় সেবা প্রদানে বাধ্য করানোর জন্য যা যা পদক্ষেপ রবি আজিয়াটা কোং এর গ্রহন করা প্রয়োজন তা গ্রহন করানোর নির্দেশ প্রদান করতে এবং অত্র কোম্পানীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করতে অন্যথায় তিনি ন্যায় বিচার হতে বঞিÍত এবং আমার অপুরনীয় ক্ষতি হয়ে যাবে, এই মর্মে মোকদ্দমা দায়ের করেন।

বাদী মোঃ মোস্তফা কামাল এবং বিবাদী হিসাবে রবি আজিয়াটা লিমিটেড পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রন কমিশন, পক্ষে চেয়ারম্যান, প্রোফরমাবিবাদী করে মোকদ্দমা করায় বিজ্ঞ আদালত এই মর্মে অর্ন্তবতীকালীন আদেশ প্রদান করেন যে, রবি আজিয়াটা লিমিটেড যেন উক্ত সিম বাদী ব্যতীত অন্য কাউকে হস্তান্তর না করেন এবং ১৫ দিনের মধ্যে বিবাদীগনের বিরুদ্ধে কেন অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারী করা হবে না, এই মর্মে কারন দর্শানোর জন্য আদেশ প্রদান করেন।

About ডেস্ক রিপোর্ট