Home » আইন সংস্থা » ভারতের আইনজীবী এনরোলমেন্ট পদ্ধতি
মো.সিফাত, শিক্ষানবিশ আইনজীবী, ফরিদপুর আইনজীবী সমিতি।

ভারতের আইনজীবী এনরোলমেন্ট পদ্ধতি


0

আমরা বাংলাদেশের উচ্চ আদালতে প্রায়সই ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য সহ  আন্তর্জাতিক আদালতের রায়গুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে থাকি। কিন্তু আইন পেশা প্রবেশের ক্ষেত্রে এই দেশগুলো আইনের ছাত্রদের যেভাবে স্বাগতম জানায় বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ঠিক তার বিপরীত মনোভাব দেখা যায়। সার্কভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অন্যতম  বৃহৎ রাষ্ট্র হচ্ছে ভারত কিন্তু তাদের এডভোকেট এনরোলমেন্ট পদ্ধতির রেফারেন্স আমরা টানিনা বা জানিনা।

ভারতে আইনজীবীদের পেশা প্রবেশের ক্ষেত্রে একজন আইনের ছাত্রকে আইন এর ডিগ্রি অর্জন করার পর নিম্ন আদালতে আইনপেশা প্র্যাকটিস করার জন্য কোনোরূপ পরীক্ষার বাধা প্রদান করা হয় না।  চলুন জেনে আসি পাশের দেশ ভারতে এডভোকেট এনরোলমেন্ট ও তাদের পরীক্ষা পদ্ধতির বিস্তারিত-
ইন্ডিয়াতে এডভোকেটদের তালিকাভুক্তির এর মুল প্রতিষ্ঠান হচ্ছে বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া।
ইন্ডিয়াতে সেন্ট্রাল বার কাউন্সিল ১ টি এবং স্টেট বা রাজ্য বার কাউন্সিল ১৯ টি (কাশ্মীর ছাড়া) ।

ইন্ডিয়াতে এডভোকেট তালিকাভুক্তি, আইনজীবীদের ক্ষমতা ও তাদের বিধিবিধান এবং নিয়ন্ত্রণ এর জন্য আলাদা আইন রয়েছে যার নাম হচ্ছে এডভোকেটস এক্ট ১৯৬১।  এডভোকেটস এক্ট ১৯৬১ এর ধারা ১৬ থেকে ২৪ পর্যন্ত এডভোকেটদের তালিকাভুক্তির বিস্তারিত বিবরণ দেয়া আছে।  সেকশন ২৪ অনুযায়ী-
এডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্তি এর যোগ্যতা-
১. ভারতের নাগরিক হতে হবে।
২. কমপক্ষে ২১ বছর বয়স হতে হবে।
৩. ৩ বছর মেয়াদি এল এল বি বা ৫ বছর মেয়াদি এল এল বি ডিগ্রি থাকতে হবে/ ব্যারিস্টার হতে হবে।
৪. এনরোলমেন্ট এর জন্য ফি প্রদান করতে হবে। (“All applicants for enrolment as advocates are required under Section 24 (1) (f) of the Advocates Act, 1961 to pay an enrolment fee of Rs.600/- (Rupees Six hundred only) to the respective State Bar Council and Rs.150/- (Rupees One hundred Fifty only) to the Bar Council of India.”)

ভারতে একজন এল এল বি ডিগ্রিধারী ব্যাক্তি যে কোন স্টেট বার কাউন্সিলে ইন্টিমেশন জমা দিবে। যেদিন সে এনরোলমেন্ট কাগজপত্র জমা করবে সেদিন থেকে ৯০ দিন এর মধ্যে তার কাগজপত্র ও সার্টিফিকেট স্টেট বার কাউন্সিল যাচাই বাছাই করার পর অনুমতি প্রদান করবে অথবা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা ফি জমা দিতে বলবে এর পর সে তার স্থানীয় জেলা কোর্টে এডভোকেট হিসেবে কাজ শুরু/ প্র্যাক্টিস করতে পারবে যার মেয়াদকাল থাকবে ২ বছর। এটাকে পেশা প্রবেশের জন্য গ্রেস প্রেয়ড বলা হয়।

কারন ভারতীয় সংবিধান এর অনুচ্ছেদ ১৯(১)(ছ) অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের আইনসম্মত পেশা বা ব্যাবসা পরিচালনা করার পুর্ন স্বাধীনতা রয়েছে। এজন্য বার কাউন্সিল তাদের পেশা প্রবেশে বাধা প্রদান করতে পারে না।
(V.Sudeer vs Bar Council Of India & Another on 15 March, 1999) ,  “……….The writ petitioners, who have successfully completed their legal education by getting requisite Law degrees from the Universities concerned have contended before us in these writ petitions that their right to practise Law as made available under the relevant provisions of the Act is being arbitrarily denied by the impugned rules framed by the Bar Council of India and, therefore, their fundamental right under Article 19(1)(g) of the Constitution of India is being violated.…….”   (S.Ananthakrishnan vs The State of Madras on 19 oct 1951),  “……Under the Constitution the fundamental rights conferred by Part III, are supreme, that neither Parliament nor the legislatures of the States have the power to enact any law taking away or abridging those rights; that the Stamp Act is a measure of taxation; that the power to tax being the power to destroy, it cannot be exercised over fundamental rights and that the levy of stamp duty is, therefore, illegal. It was also further urged that any previous restraint on the exercise of fundamental rights must be held to be void as amounting to a prohibition of the rights.”   (C. Venkatachalam vs Ajitkumar C. Shah & Ors on 29 August, 2011) “Every person has a right to work and make an honest living. Every individual has the right and freedom to do anything so long as he does not violate any law. Thus, a retired or even an unemployed doctor, engineer, scientist, teacher or any other person has the right to offer his/her services as an `agent’. In other words, an individual has the right to choose `acting as agent’ as his profession. Article 19(1)(g) guarantees that freedom. The mandate of Article 21 is fulfilled. In doing so, he does not practice the profession of law or violate the provisions of the Advocates Act, 1961. He only invokes the freedom guaranteed under the Constitution and exercises the right conferred by the Rules…….”
বাংলাদেশ সংবিধান এর অনুচ্ছেদ ৪০ এও একই কথা বলা আছে।   (Abdul Jalil Vs. Chairman, REB, 45 DLR 24) “The petitioner’s fundamental right as enjoined in Article 40 of the constitution has been violated and he has been prejudiced thereby, the action of the Board which is statutory body is, therefore, unauthorized.”      ভারতের এনরোলমেন্ট পরীক্ষার নাম হচ্ছে AIBE (All India Bar Exam) যা বছরে ২ বার সম্পন্ন হয়ে থাকে। ২০১০ সাল থেকে এই পদ্ধতি কার্যকর হয়েছে। এর আগে ইন্ডিয়াতে কোন পরীক্ষা পদ্ধতি ছিলো না।
সাধারণত প্রতিবছর মার্চ মাসে একবার এবং আগস্ট মাসে আরেকবার।
সকল পরীক্ষার্থী বাসায় বসে অনলাইনের মাধ্যমে AIBE পরীক্ষার জন্য রেজিষ্ট্রেশন করে থাকেন।  পরীক্ষা হয় ১৬ টি বিষয় এর উপর ১০০ মার্ক এর এম সি কিউ।

Official Website

http://www.allindiabarexamination.com/

তাদের পরিক্ষা এর ২ টি বিভাগে হয়ে থাকে যার প্রথম বিভাগে এ প্রত্যেক বিষয়ে ৭ মার্ক করে মোট ১১ টি বিষয়ে ৭৭ মার্ক এবং ২য় বিভাগে এ ২৩ মার্ক বরাদ্দ থাকে। ২য় বিভাগে ৮ টি বিষয় সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত থাকে যার মধ্যে থেকে পরীক্ষায় ৫ টি বিষয়ে প্রশ্ন হয়ে থাকে।

বিভাগ ১-(১১ টি বিষয়)
ADR, CPC & Limitation Act, Constitutional Law, Contact Law including SR & NI Act, CrPC, IPC, Drafting Pleading & Conveyancing, Evidence, Jurisprudence, Professional Ethics and Professional COC, Property Law. (77 Marks)  বিভাগ ২ ( ৮ টি বিষয় কিন্তু ৫ টি বিষয় থেকে প্রশ্ন থাকবে)- Company Law, Environmental Law, Family Law, Human Rights law, Labor & Industrial Law, Law of tort including Motor Vehicle Accidents & Consumer Protection Law, Principles of Taxation Law, Public International law. (23 Marks)  যদিও তাদের এতো বড় সিলেবাস কিন্তু তাদের পরীক্ষা হচ্ছে ওপেন বুক এক্সাম এবং সময় দেয়া হয় ৩ ঘন্টা ৩০ মিনিট। (এর প্রধান কারণ হচ্ছে যেনো প্রায় সকলেই পাস করে যায়)
পরীক্ষার নিয়মাবলী-  *পরীক্ষার সময় ৩ ঘন্টা ৩০ মিনিট।
*কোন নেগেটিভ মার্কিং থাকে না।
* পাশ মার্ক ৪০ (সাধারণ নাগরিক), ৩৫( উপজাতি/আদিবাসী) কিন্তু প্রত্যেক বিভাগে আলাদাভাবে ৪০% মার্ক পেতে হয়।
* পরীক্ষা পদ্ধতি হচ্ছে ওপেন বুক এক্সাম। মানে পরীক্ষার হলে আপনি বই দেখে পরীক্ষা দিতে পারবেন।
* একযোগে সারা ভারতে একই দিনে একই সময়ে পরীক্ষা হয়ে যায় এবং কয়েকদিনের মধ্যেই রেজাল্ট দিয়ে দেয়া হয়।

গ্রেস এডভোকেট হিসেবে থাকাকালীন ২ বছরের মধ্যে আপনার AIBE পাশ করতে হবে। যদি ৪ টা পরীক্ষায়ও আপনি পাশ না করতে পারেন তাহলে আপনার এডভোকেটশীপ হোল্ড হয়ে যাবে এবং আপনি তখন কোর্টে মামলা মুভ করতে পারবেন না। আপনার স্ট্যাটাস হয়ে যাবে প্রভিশনাল এডভোকেট এবং প্রভিশনাল এডভোকেটের বার এসোসিয়েশনে ভোটার অধিকার স্থগিত হয়ে যায়।

আপনি যেদিন AIBE পাশ করবেন ঠিক সেদিন থেকে আবার আপনি এডভোকেট হয়ে যাবেন। সেখানেও বাংলাদেশ এর মত আজীবন পরীক্ষা দেয়া যাবে। বয়স এর কোন বাধানিষেধ নাই।

২০১১ সালে তাদের প্রথম পরীক্ষায় প্রায় ৭০% পরীক্ষার্থী পাশ করে। এবং বর্তমানে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৪০ হাজার এডভোকেট নতুন করে জয়েন করে। বর্তমানে ভারতে প্রায় ২০ লাখ এডভোকেট রয়েছে।

সবচাইতে অবাক করা বিষয় হচ্ছে তাদের বার কাউন্সিল খুবই আধুনিক এবং গতিশীল। পরীক্ষার রেজিষ্ট্রেশন এর জন্য ৬ মাস আগে থেকেই ডেট সহ সিডিউল করে রাখে। অনলাইনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন হয়। সেন্ট্রাল বার কাউন্সিল এ সাধারণত কারো যাওয়াই লাগে না।
আমরা আশাকরি আমাদের আইন অঙ্গনও কোন এক সময় আধুনিক, ডিজিটাল এবং গতিশীল হবে এবং বার কাউন্সিল তাদের পুরোনো নিয়ম সংস্কার করে নিয়মিত পরীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে আইন পেশায় আগমনকে স্বাগত জানাবে।  অনিয়মিত এবং কঠিন পরীক্ষার মাধ্যমে আইন শিক্ষার্থীদের এই মহান পেশা থেকে দূরে ঠেলে দিবেন না।

http://www.barcouncilofindia.org/
এনরোলমেন্ট পরীক্ষার লিংক: http://www.allindiabarexamination.com/

Bookmark(0)

Check Also

আইন

আইন কি? আইন সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা

পৃথিবীর প্রত্যেকটি মানুষের আইন সম্পর্কে জ্ঞান থাকা দরকার। উন্নত বিশ্বে প্রতিটি দেশে জনসাধারণদের আইনের বিষয়ে …

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.