বৃহস্পতিবার, ১৩ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ || ৩০শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২রা শাওয়াল, ১৪৪২ হিজরি

লকডাউনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট : আদেশ মঙ্গলবার

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
রিটকারী শিক্ষকদের নিয়োগে হাইকোর্টের আদেশের অনুলিপি এনটিআরসিএতে

ডেস্ক রিপোর্ট

জরুরি অবস্থা জারি ছাড়া লকডাউন ঘোষণা করার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিটের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।

এ সংক্রান্ত রিটের ওপর শুনানি নিয়ে রোববার (২ মে) হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে আজ রিটের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার ও অরবিন্দ কুমার রায়।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে জরুরি অবস্থা জারি করা ছাড়া সরকার ঘোষিত লকডাউন দেয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে জনস্বার্থে গত ২৫ এপ্রিল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ। রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটিকে বিবাদী করা হয়েছে।

 

 

রিটের বিষয়ে অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী বলেন, জরুরি অবস্থা জারি করা ছাড়া জনগণের চলাফেরার অধিকার, আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার সরকার স্থগিত রাখতে পারে না। এটা সংবিধান পরিপন্থী। এ কারণে রিট করেছি। রিটে চলমান লকডাউন স্থগিত চাওয়াসহ ফের লকডাউন না দেয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে প্রথমে ৫ এপ্রিল থেকে সাতদিনের জন্য গণপরিবহন চলাচলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। পরে তা আরও দুই দিন বাড়ানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় ১৪ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ শুরু হয়। নির্ধারিত এই সময় শেষ হওয়ার আগে ২০ এপ্রিল তা আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়। এ অবস্থায় সুপ্রিম কোর্টের ওই আইনজীবী ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ স্থগিত চেয়ে গত ২৫ এপ্রিল ওই রিট করেন।

রিটের আর্জিতে চলাচলে বিধিনিষেধ সংক্রান্ত ৫ এপ্রিল থেকে দেয়া লকডাউন বা কঠোর বিধিনিষেশ বাড়িয়ে ২০ এপ্রিলের প্রজ্ঞাপন কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভুত ঘোষণা করা হবে না, এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে। রুল হলে তা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় সারাদেশে লকডাউনের কার্যকারিতা স্থগিত চাওয়া হয়েছে।

ইউনুছ আলী আকন্দ বলেন, জরুরি অবস্থা ঘোষণা ছাড়া জনগণের আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার, চলাচল ও পেশার অধিকারের মতো মৌলিক অধিকার খর্ব করা যায় না। ঘোষিত লকডাউন এবং এর মেয়াদ বাড়ানো আইনের দৃষ্টিতে সমতা (সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ) ও চলাফেরার স্বাধীনতাসহ (সংবিধানের ৩৬ অনুচ্ছেদ) সংবিধানের কয়েকটি অনুচ্ছেদের পরিপন্থী— এসব যুক্তিতে মূলত রিটটি করা হয়েছে।

Responses

লেখক পরিচিতি