শনিবার , ৪ জুলাই ২০২০
Home » দৈনন্দিন জীবনে আইন » হিল্লা বিয়ে, মুসলিম পারিবারিক আইন, ফতোয়া ও উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত
প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবীতে অনশন

হিল্লা বিয়ে, মুসলিম পারিবারিক আইন, ফতোয়া ও উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত

সমাজ-সভ্যতার ক্রমবিকাশের ধারাক্রমে দলপতি-নৃপতি-সমাজপতির হাত পেরিয়ে আধুনিক মানুষের বিচারব্যবস্থা এখন আদালতের হাতে ন্যস্ত রয়েছে। আদালতই হচ্ছে নাগরিকদের সম্পদ-সম্ভ্রম-অধিকারের সুরক্ষার নিশ্চয়তা প্রদানকারী বৈধ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। তবু এ কথা সত্য যে, বিশেষত অনুন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশে হয়তো অনেকের পক্ষেই সামাজিক বা অর্থনৈতিক কারণে আদালতের সুরক্ষা চাওয়ার বা পাওয়ার সুযোগ থাকে না। সে কারণ বহু বছর আগে বড় দুঃখেই রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, ‘প্রতিবাদহীন শক্তের অপরাধে/ বিচারের বাণী নীরবে-নিভৃতে কাঁদে।’ দেশে আইন-আদালত থাকা সত্ত্বেও বিচারের নামে ‘রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙ্গালের ধন চুরি’।
আধুনিক সমাজকাঠামোতে অনেক পরিবর্তন এলেও বিয়ে-সংক্রান্ত সামাজিক রীতিনীতি ও অপসংস্কার এখনও মুছে যায়নি। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে দাম্পত্য জীবনের নানা সমস্যা দরুন উদ্ভূত সমস্যাবলি নিরসনের জন্য মুসলিম আইনে বিভিন্ন বিধানের যথাযথ প্রয়োগের নির্দেশ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই তা অকার্যকর করা হচ্ছে। সহজ-সরল মানুষের এসব আইন সম্পর্কে অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে গ্রামের মাতব্বর বা মোড়লেরা ফায়দা লুটছেন, বিভিন্ন উদ্ভট ফতোয়া জারি করছেন, যা মুসলিম আইনের পরিপন্থী। হিল্লা বিয়ে নিয়েও এরকম অপপ্রচার-অপনীতি আজও আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দাম্পত্য জীবনের সমস্যাগুলোকে জটিলতর করছে।
পর পুরুষের সঙ্গে কথা বলার ‘অপরাধে’ গৃহবধূকে ৮০ ঘা দোররা মারা হয়েছে। গ্রাম্য বিচারক বলেছেন, ‘গৃহবধূর নৈতিক স্থলন ঘটায় অন্যদের শেখানোর জন্য প্রকাশ্যে সাজা দিয়েছি; যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।’ এ ‘অপরাধে’ সংশ্লিষ্ট যুবকটিকেও একই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। খবর (ভোরের কাগজ, ২২-০৫-১০)। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুরে তরুণীকে ১০১ দোররা মারা হয়েছে একটি হিন্দু ছেলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠায়। এলাকাবাসীর ভাষায়, ‘মাওলানা সাহেবরা কুরআন-হাদিস ও ইসলামি শরিয়া মোতাবেক রায় দিয়েছেন।’ ‘অপরাধী’ মেয়েটিকে দোররা মারার এক পর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তখনও দোররা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।’ (প্রথম আলো ২২-০৫-১০)।  যতটুকু জানি, পুলিশি শাস্তি প্রদানের সময় দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি জ্ঞান হারালে শাস্তি মুলতবি রেখে জ্ঞান ফিরিয়ে এনেই বাকি শাস্তি কার্যকর করা হয়। শাস্তি প্রদানের সেই মানবিক দিকটি সম্পূর্ণ অবহেলা করা হয়েছে।
ইমরান হোসেনের স্ত্রী রহিমা খাতুনকে একই গ্রামের নবাব আলী দ্বারা শ্লীলতাহানির ঘটনায় গ্রাম্য সালিশ থেকে দায়ী নবাব ও রহিমা খাতুনকে জরিমানা এবং ১০০ ঘা দোররা মারার ফতোয়া দেওয়া হয়। প্রেম করে বিয়ে করার অপরাধে ১০০ দোররা মারার সময় স্ত্রীর গর্ভে আট মাসের সন্তান মারা যায়। এরকম হাজারো ঘটনা প্রমাণ করে বাংলাদেশে ফতোয়াবাজির নামে নারী নির্যাতনের স্বরূপটি কী রকম ভয়াবহ।
মূলত হিল্লা বিয়ে বলতে বোঝায়, কোনো তালাক দেওয়ার পর তৃতীয় ব্যক্তির কাছে একটি নিয়মের মাধ্যমে বিয়ে দেওয়ার পর ওই নারীকে পুনরায় আগের স্বামীর  সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করা। এ সম্পর্কে মুসলিম আইনে যথাযথ বিধান থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। শরিয়া নিয়মের অজুহাতে অনেক অঞ্চলেই এ সমস্যা ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে।
২০০১ সালে হাইকোর্ট ডিভিশনের একটি বেঞ্চ থেকে ফতোয়াকে অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হয়। হিল্লা বিয়ে সম্পর্কে এই রায়ে বলা হয়, হিল্লা বিয়ের ফতোয়া হচ্ছে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ধারা নম্বর ৭ এবং বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ধারা নম্বর ৪৯৪, ৪৯৮, ৫০৮ ও ৫০৯ লঙ্ঘন করা।
দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় স্বামী বা স্ত্রীর জীবদ্দশায় পুনরায় বিয়ে করার শাস্তি এবং ৪৯৮ ধারা কোন বিবাহিত নারীকে ফুসলিয়ে বা প্ররোচণায় আটকে রাখলে সশ্রম কারাদণ্ডসহ অর্থদণ্ডের বিধান করা হয়েছে। ৫০৮ ধারা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি অবৈধ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য কাউকে জোরপূর্বক কোনো কাজে বাধ্য করলে, যা আইনত বাধ্য নয়, তাহলে দায়ী ব্যক্তি এক বছরের কারাদণ্ডসহ অর্র্থদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে। ৫০৯ ধারানুসারে নারীর শালীনতার প্রতি অমর্যাদার কোন কাজ বা মন্তব্যের জন্য শাস্তির বিধান আছে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে ফতোয়াবাজির ঘটনা আইন বহির্ভূত কাজ এবং এটা কোনোমতেই সমর্থনযোগ্য নয়। হাইকোর্ট ডিভিশনের রায়টি কোনো আপিল আদালতের নির্দেশে এখন পর্যন্ত স্থগিত আছে।
কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৭ নম্বর ধারাটি আমাদের সমাজে কতটুকু মানা হচ্ছে এবং এ সম্পর্কে সাধারণ জনগণ কতটুকুই  বা জানে।
১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ধারা ৭-এ বলা আছে, কোনো লোক যদি তাঁর স্ত্রীকে তালাক দিতে চান, তাহলে স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছে যত শিগগির সম্ভব লিখিত নোটিশ প্রদান করতে হবে এবং এর একটি কপি স্ত্রীকে দিতে হবে। নইলে তালাক কার্যকর হবে না। সুতরাং এখানে মৌখিক তালাকের অকার্যকরতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এ ধারায় বলা হয়েছে, নোটিশ জারি হওয়ার পর ৯০ দিন অতিবাহিত না হলে তালাক কার্যকর হবে না।
পূর্ণভাবে তালাক কার্যকর হওয়ার পর স্ত্রী যদি স্বামীর কাছে ফিরে যেতে চান, তবে কাবিনের মাধ্যমে যথাযথ আইনগত পদ্ধতিতে পুনরায় বিয়ে করলেই যথেষ্ট হবে। এক্ষেত্রে তৃতীয় ব্যক্তির সঙ্গে সাময়িক বিয়ের প্রয়োজন নেই এবং তা তিন বার পর্যন্ত প্রযোজ্য হবে। তবে ১৯৬১ সালের অধ্যাদেশে হিল্লা বিয়ের কিছু সংশোধিত বিধি লিপিবদ্ধ আছে। দম্পতির মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তালাক হয়ে যাওয়ার পর যদি উভয় পক্ষ মনে করেন তাঁরা পূর্বাবস্থায় ফিরতে ইচ্ছুক, তবে বিয়ের কাবিন মোতাবেক তৃতীয় বার পর্যন্ত পুনর্বিবাহ করা যায়। কিন্তু তৃতীয়বারের পরে হিল্লা বিয়ের প্রয়োজন হবে। ১৯৬১ সালের এই আইনের কিছু বিধান নিয়ে মতভেদও রয়েছে। কিন্তু এই আইনের একটি ধারায় বলা আছে, এ আইন দেশে বলবৎ অন্য যে কোনো আইন বা প্রথা থেকে প্রাধান্য পাবে।
আরবী ‘ফতোয়া’ শব্দের অর্থ হচ্ছে ‘আইন সম্বন্ধীয় মত।’ প্রচলিত অর্থে ফতোয়া বলতে বোঝায় ইসলাম ধর্ম-সংক্রান্ত কিংবা এ ধর্মাবলম্বীদের দেওয়ানি বিষয়ে আইনগত মতামত। সংক্ষিপ্ত ইসলামী বিশ্বকোষ অনুযায়ী, ধর্মীয় আইনবিশেষজ্ঞ বা ফিকাহশাস্ত্রে অগাধ জ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ ফতোয়া দিতে পারেন। যাঁরা ফতোয়া দেন তাঁদের মুফতি বলা হয়। সাধারণত যেকোনো পরিস্থিতিতে যখন শরিয়ত-সম্পর্কিত অনুশাসনগুলোতে কোনো জটিল প্রশ্নের সরাসরি মীমাংসা পাওয়া যায় না, তখন মুফতিরা সাধারণত ফতোয়ার মাধ্যমে পূর্ববর্তী নজির এনে সমাধান দেন। ইসলামের প্রাথমিক যুগ থেকেই  বিভিন্ন ফতোয়া মুসলমান সমাজের প্রচলিত ধর্মীয় নিয়মেও পরিণত হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে ফতোয়ার এ সংজ্ঞাকে পাল্টে সাম্প্রদায়িক তুচ্ছ স্বার্থে বিব্রত করা হয়েছে, যার শিকার এখন বাংলাদেশের নিরক্ষর জনগণ। বর্তমানে যেসব ফতোয়া জারি করা হচ্ছে, তার মধ্যে দোররা মারা, পাথর ছুড়ে মারা, জুতাপেটা, মাথার চুল কেটে দেওয়া, বেঁধে পেটানো, মাটিতে অর্ধেক পুঁতে পাথর ছোড়া, হিল্লা বিয়ে দেওয়া প্রভৃতি।
এসব নির্দেশ কোনোমতেই ফতোয়ার সুস্পষ্ট সংজ্ঞাকে সমর্থন করে না। সব ঘটনা বাংলাদেশের সংবিধানের আইনের সমতা বিধান, নারী-পুরুষের সমতা বিধান, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার যেসব অনুচ্ছেদ লিপিবদ্ধ হয়েছে তা লঙ্ঘন। বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক অধিকার-সম্পর্কিত যেসব বিধান আছে, এর ২৭, ২৮, ৩১ও ৩৫ অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন।
২০০১ সালে হাইকোর্ট ডিভিশনের বেঞ্চ থেকে ফতোয়াকে যে অবৈধ বলে ঘোষণা করা  হয়, তা সাইফুল ও শাহিদা দম্পতির মৌখিক তালাকে ও হিল্লা বিয়েকে কেন্দ্র করে মামলার পরিপ্রেক্ষিতে দেওয়া  হয়। এ রায়ে স্পষ্টভবে বলা হয়, এসব ফতোয়া বাংলাদেশে প্রচলিত মুসলিম আইনসহ বিভিন্ন আইনের লঙ্ঘন করা হচ্ছে। এই রায়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের মতামত সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা একমাত্র আদালতেরই আছে। ফতোয়াবাজির ঘটনাকে আমলে নিতে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের প্রতি নির্দেশ, স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থা হিসেবে সব স্কুল ও মাদ্রাসায় পারিবারিক আইন পাঠ বাধ্যতামূলক করা প্রভৃতি। এসব ফতোয়া বাংলাদেশের বিধিবদ্ধ ১৯৬১-এর  মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৭ ধারার বহির্ভূত এবং এ আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এছাড়া দণ্ডবিধির ৪৯৪, ৪৯৮, ৫০৮ ও ৫০৯ ধারারও লঙ্ঘন। ১৯৬১ সালের আইনে তালাক সংক্রান্ত যে বিধানাবলি আছে এর ৭ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো লোক যদি তাঁর স্ত্রীকে তালাক দিতে চান, তাহলে স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছ যথাশিগগির সম্ভব লিখিত নোটিশ দিতে হবে, নইলে তালাক অকার্যকর হবে। এখানে মৌখিক তালাককে অকার্যকর করা হয়েছে। নোটিশ জারি হওয়ার ৯০ দিন অতিবাহিত না হলে তালাক অকার্যকর হবে। তালাক কার্যকর হওয়ার পর যদি স্ত্রী স্বামীর কাছে ফিরে যেতে চান, তাহলে যথাযথ আইনগত পদ্ধতিতে পুনরায় বিয়ে করলেই যথেষ্ট হবে, এতে তৃতীয় ব্যক্তির সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন বিয়ের প্রয়োজন পড়ে না। দম্পতি পূর্ণাঙ্গ তালাকের পর পূর্বাবস্থায় ফিরে যেতে চাইলে বিয়ের কাবিন মোতাবেক তৃতীয়বার পর্যন্ত পুনর্বিবাহ সমর্থন হবে। এ আইনে তালাকের নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে আপস বা বোঝাপাড়ার জন্য চেয়ারম্যানকে সালিস কাউন্সিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। এ আইনের ৩ ধারায় বলা হয়েছে, এ আইন দেশে বলবৎ অন্য কোনো আইন বা প্রথা থেকে প্রাধান্য পাবে। অর্থাৎ এ আইন অমান্য করে অন্য কোনো আদেশ বা ফতোয়া  কার্যকর হতে পারে না।
অনেক শরিয়া আইনের সঙ্গে এ বিধিবদ্ধ আইনের অসামঞ্জস্যকে একটি নিছক ভাঁওতাবাজি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কারণ শরিয়া অন্তর্ভুক্ত বিধানাবলি কোনোমতেই ফতোয়ার মতো নির্মমতা, নিষ্ঠুরতাকে সমর্থন দেয় না। এটি নিছক পবিত্র গ্রন্থের অপব্যাখ্যা করা ছাড়া আর কিছুই নয়। প্রতিটি ধর্মই শাস্তির কথা বলে কিন্তু ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার ও কৌশল হিসেবে ব্যবহার করলেই তা বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। ফতোয়া এখন ব্যবহৃত হচ্ছে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও মানবাধিকারের বিরুদ্ধে। ফতোয়াবাজদের কখনোই নির্যাতনকারী, চোরাকারবারী, ঋণখেলাপীসহ উচ্চবিত্ত লোকজনের বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করতে দেখা যায় না। এটাই প্রমাণ করে ফতোয়া এক ধরনের স্বেচ্ছাচারী ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট কাজ। হাইকোর্ট বিভাগের ঐতিহাসিক রায়ের কার্যকারিতা প্রণয়ন করা হোক। দেশের এ সংকটময় অবস্থায় সরকারের উচিত দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মৌল চেতনা রক্ষার্থে ধর্মান্ধ মৌলবাদীদের মুখাপেক্ষী না থেকে এসব নৃশংসতার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থ গ্রহণ করা।

ফতোয়া সম্পর্কে মহামান্য হাইকোর্টের একটি রায়ের পূর্ণ বিবরণ
গত ১ জানুয়ারি ২০০১, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ-এর সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রীমকোর্ট-এর হাইকোর্ট বিভাগীয় বেঞ্চ এক যুগান্তকারী রায়ে ফতোয়াবাজিকে অবৈধ ঘোষণা করেছে৷ নওগাঁর এক গ্রামে (ফতোয়া জারি করে গৃহবধূ সহিদাকে হিল্লা বিবাহে বাধ্য করার বিষয়ে হাইকোর্ট বিভাগ-এর অন্যতম সুয়োমটো (রিট পিটিশন নম্বর ৫৮ঌ৭/২০০০) রিট মামলায় সুপ্রীম কোর্টের মাননীয় বিচারপতি গোলাম রাব্বানী এবং বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা-এর সমন্বিত বিভাগীয় বেঞ্চ এই রায় দেয়৷

রায়ের বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য অংশগুলো হলো:
কেবল তিনবার ‘তালাক’ (একবারে, বা এক এক করে তিনবারে) করলেই বিবাহ বিচ্ছেদ হয় না৷ এই চর্চা কুরআন, হাদীস এমনটি মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ (ধারা-৭) এরও বিরোধী৷
‘স্বামী কর্তৃক বিবাহ বিচ্ছেদের এই অসাধু পন্থা এবং এর অপপ্রয়োগ নবী স্বয়ং নিজেও দৃঢ়ভাবে নিষেধ করেছেন৷’
‘বাস্তব তথ্য এবং আইন অনুযায়ী, সাইফুল ও সহিদার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়নি৷ তর্কের জন্য যদি ধরে নেওয়া হয় যে, তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছিল তবুও, তৃতীয় কোনো ব্যক্তির সঙ্গে সহিদার বিবাহ ছাড়া সাইফুলকে আবার বিবাহ করার ক্ষেত্রে, আইনগত কোনোই বাধা নেই৷’
‘ফতোয়াবাজি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়৷ এই ঘটনা দেশের সর্বত্র প্রায়শই ঘটছে৷ ১ঌঌ৩ সাল থেকে ২০০০ সালের মধ্যে দেওয়া ফতোয়ার একটি তালিকা অনুসারে, এর সংখ্যাধিক্যই কেবল উদ্বেগজনক নয়, এর বৈচিত্র্যও বিস্ময়কর৷ এসব ফতোয়া বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭, ২৮, ৩১-এ বর্ণিত মৌলিক অধিকারের বিপক্ষে সরাসরি হুমকিস্বরূপ।’
‘ফতোয়া-র অর্থ হচ্ছে আইনি মতামত, কেবল আইনগতভাবে প্রাপ্য অধিকারই ফতোয়া দিতে পারেন৷ বাংলাদেশের আইন ব্যবস্থায়, একমাত্র আদালতই সেই স্থল, যেখানে মুসলমান এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের যে কোনো আইনি মতামত দেওয়া যেতে পারে৷ এ ব্যতীত সকল ফতোয়াই বেআইনি৷’
‘সংশি¬ষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট যথাসত্বর ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১ঌ০ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন৷ আশা করা যায় এই নির্দেশ, সকল জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং পুলিশ এবং কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে সাবধান বাণী হিসেবে কাজ করবে৷’
‘লক্ষ করা যাচ্ছে যে, কেবল মাদ্রাসা অথবা এজাতীয় শিক্ষাব্যবস্থা থেকে আসা ব্যক্তিদের মাঝেই ফতোয়াবাজীর প্রবণতা রয়েছে৷ এক্ষেত্রে সংশ্লি¬ষ্ট শিক্ষাব্যবস্থা ও পদ্ধতিসমূহে কোনো ফাঁক থেকে যাচ্ছে কি-না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন৷ আরও সুপারিশ করা যাচ্ছে যে, একটি সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থার পথে, মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ সকল স্কুল-মাদ্রাসায় পাঠ্য করা যেতে পারে, সকল মসজিদসমূহের খতিবদের শুক্রবারের নামাজে এ বিষয়ে আলোকপাত করার জন্য আদেশ দেওয়া।’
‘একটি দীর্ঘস্থায়ী ব্যবস্থা হিসেবে সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি আরও সুপারিশ করা যাচ্ছে যে, ধর্ম চর্চার স্বাধীনতা যেন কোনোভাবেই বাংলাদেশে সংবিধান-এর অনুচ্ছেদ ৪১(১) তথা আইন, শৃঙ্খলা এবং নৈতিকতার পরিপন্থী না হয়ে পড়ে৷’

হাইকোর্ট কর্তৃক প্রদত্ত রায়ের পূর্ণ বিবরণ
অস্বীকৃত কোন ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের ফতোয়াকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করে এ ব্যাপারে আইন প্রণয়নের জন্য হাইকোর্ট সংসদের কাছে সুপারিশ করেছেন৷ এর আগে বিচারপতি মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী ও বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানাকে নিয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ গত ১ জানুয়ারী, ২০০১ এক ঐতিহাসিক রায়ে সব ধরনের ফতোয়াকে সম্পূর্ণ বেআইনী ঘোষণা করেছেন৷ যেকোন আইনের ব্যাখ্য দেওয়ার অধিকার একমাত্র আদালতের আছে বলে বিচারপতিরা রায় দিয়েছেন৷ হাইকোর্টের এই ঐতিহাসিক পূর্ণ বিবরণ :
দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকায় গত ২ ডিসেম্বর, ২০০০ তারিখে প্রকাশিত একটি সংবাদের পর একটি সুয়োমোটো রুল জারি করা হয়৷ খবরটি সংক্ষেপে এ রকম যে, হাজি আজিজুল হকের ফতোয়ার ভিত্তিতে নওগাঁর সদর উপজেলার কীর্তিপুর ইউনিয়ন পরিষদের আতিয়া গ্রামের সাইফুলের স্ত্রী সহিদাকে জোর করে তার স্বামীর চাচাতো ভাই শামসুলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়৷ কারণ প্রায় এক বছর আগে তার স্বামী রাগের বশে ‘তালাক’ শব্দটি বলেছিল৷ এরপরও তারা বিবাহিত জীবন অব্যাহত রাখে৷
মুসলিম পারিবারিক আইন ও অধ্যাদেশের ৭ নম্বর ধারায় বাংলাদেশের মুসলিম বিবাহ স্বামীর ইচ্ছাই ভেঙে যাওয়া এবং স্ত্রীর পুনর্বিবাহ সংক্রান্ত আইন বলবৎ হওয়ার কথা রয়েছে৷ ৩ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, যে কোন আইন, রেওয়াজ ও ব্যবহার সত্ত্বেও এই অধ্যাদেশের ধারাগুলো কার্যকরী হবে৷ আমরা এখন ধারা ৭ থেকে উদ্ধৃত করছি:
‘তালাক-১) যদি কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তালাক দিতে চান তবে তিনি যেভাবেই তালাক দিন না কেন, তালাক দেওয়ার পর যত শিগগির সম্ভব তাকে চেয়ারম্যানের কাছে নোটিশ দিতে হবে৷ এর একটি কপি তার স্ত্রীকে দিতে হবে৷’
‘২) কোনভাবেই এই নিয়ম লঙ্ঘিত হলে উপধারা (১) অনুযায়ী লঙ্ঘনকারীদের এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় প্রকার শাস্তি হেত পারে৷’
‘৩) উপধারা (৫) অনুযায়ী তালাক বাতিল বলে গণ্য হবে যদি না তালাকের ইচ্ছা প্রকাশের ৯০ দিনের মেয়াদকালের মধ্যে উপধারা (১) অনুযায়ী নোটিশ দেওয়া হয়৷’
‘৪) উপধারা (১) অনুযায়ী নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে উভয়পক্ষের মধ্যে আপসের বোঝাপড়ার জন্য চেয়ারম্যান একটি সালিশি কাউন্সিল গঠন করবেন এবং আপসের বোঝাপড়ার জন্য এই সালিসি কাউন্সিল প্রয়োজনীয় সবরকম ব্যবস্থা নেবে৷’
‘৫) তালাকা দেওয়ার সময় স্ত্রী যদি গর্ভবতী হয় তাহলে উপধারা (৩) এ বর্ণিত মেয়াদকাল অথবা গর্ভাবস্থা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকরী হবে না৷’
‘৬) এই ধারা অনুযায়ী তালাক কার্যকরী হওয়ার পরও একজন মহিলাকে তার পূর্বের স্বামীকে বিয়ে করা থেকে কেউ বিরত করতে পারবে না৷ এর জন্য তৃতীয় কোন ব্যক্তির সঙ্গে ওই মহিলার বিয়ের কোন প্রয়োজন হবে না, যদি না তৃতীয়বারের মতো বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা হয়ে থাকে৷’
এই অধ্যাদেশের আওতায় চেয়ারম্যান বলতে ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা চেয়ারম্যান বা মেয়র বা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের প্রশাসককে বোঝানো হয়েছে৷ সালিশি কাউন্সিল বলতে চেয়ারম্যান এবং উভয়পক্ষের সদস্যদের নিয়ে কাউন্সিল গঠনের কথা বোঝানো হয়েছে৷
১৯৮১ সালে নোবেল জয়ী এলিয়ার কানেথ তার ‘ক্রাউডস অ্যান্ড পাওয়ার’ বইয়ে লিখেছেন, ‘কোন ব্যক্তি যখন অন্যদের শাসন করতে চায়, সে প্রথমেই তাদের অপমানিত করে তাদের অধিকার ও তাদের প্রতিরোধ শক্তি হরণ করতে উদ্যত হয়৷ এটি সে করে যায় যতক্ষণ না তারা তার সামনে পশুর মতো শক্তিহীন হয়ে পড়ে৷” বোঝা যেত একজন নারী তার পিতা কিংবা নিকট পুরুষ আত্মীয় দ্বারা বিক্রি হয়; উল্লিখিত ব্যক্তি স্বামীর দেওয়া ক্রয়মূল্য গ্রহণ করে৷ এই ক্রয়াধিকার বলে স্বামী ইচ্ছা করলে তার স্ত্রীকে ত্যাগ করতে পারবে৷
কুরআন একটি সরল বিধানের মাধ্যমে স্ত্রীর এই অবস্থানের পরিবর্তন ঘটায়, যেখানে সে বিক্রয়পণ্যের বদলে একজন অংশীদার এবং স্বামীর কাছ থেকে দেনমোহর লাভ করে৷ ‘আর তোমরা স্ত্রীদের যৌতুক দাও উপহার হিসেবে এবং কোনো বিনিময় ছাড়াই” (আল কুরআন, ৪:৪)৷ কুরআন অপেক্ষমাণ সময় (ইদ্দত) পর্যন্ত বিবাহ-বিচ্ছেদের কার্যকারিতাও স্থগিত করেছে৷ এই মেয়াদ স্ত্রীর তিন ঋতু পর্যন্ত৷ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আপসে বোঝাপড়ার একটি সুযোগ করে দেওয়ার জন্যই ইদ্দতের ব্যবস্থা৷ এই ইদ্দতকালে স্ত্রী স্বামীর কাছ থেকে ভরণপোষণ পাবে৷ কুরআনে আরো বলা হয়েছে, তোমরা যখন স্ত্রীদের সঙ্গে বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটাবে এবং তারাও তাদের মেয়াদ (ইদ্দত) পূর্ণ করবে, তারপর তাদের ন্যায়সঙ্গত শর্তে তাদের মুক্ত করে দাও৷ কিন্তু তাদের আহত করতে (কিংবা) অন্য সুযোগ নিতে তাদের ফিরিয়ে এনো না৷ কেউ এমন করলে সে নিজেরই আত্মার ক্ষতি সাধন করবে (২:২৩১)। (পবিত্র কুরআন, টেক্সট, অনুবাদ ও ব্যাখ্যা আব্দুল¬াহ ইউসুফ আলী, তৃতীয় সংস্করণ)৷ এক, দুই বা তিনবার ‘তালাক’ শব্দটি উচ্চারণ করে বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটানো কুরআন ও হাদিসের বিধানের পরিপন্থী, মুসলিম পারিবারিক আইন ও অধ্যাদেশে এটি সিদ্ধ নয়৷ এ ধরনের তালাককে বলা হয় তালাকে বেদআত অর্থাৎ হেরেটিক্যাল বা খারেজি বিবাহ বিচ্ছেদ। ‘তালাকুল বেদআত” হলো হেরেটিক্যাল ডির্ভোস অর্থাৎ খারেজি বিচ্ছেদ বাক্যাংশটির মানেও তাই৷ এটি মোহাম্মদীয় যুগের দ্বিতীয় শতাব্দীতে উমাইয়া আমলে চালু হয়৷ উমাইয়া খলিফাগণ তাদের খেয়ালখুশি চরিতার্থ করতে এবং আইনের কড়াকড়ি থেকে রক্ষা পেতে নবী প্রবর্তিত বিধিনিষেধে হস্তক্ষেপ করে এবং বিচারকের নমনীয়তার সুযোগ তাতে ফাঁক-ফোঁকর বের করে৷ স্বামীর খেয়ালখুশিমাফিক ও অন্যায় বিবাহ-বিচ্ছেদ যা ইসলামের গোড়ার দিকে চালু ছিল, তা হযরত মোহাম্মদ জোড়ালোভাবে প্রত্যাখ্যান করতেন৷ বলা হয়ে থাকে, একবার তাঁর এক শিষ্য স্ত্রীকে একসঙ্গে তিন তালাক দেন৷ খবরটি শুনে তিনি ক্রোধে ঘোষণা দেন, ওই ব্যক্তি আল্লাহর বিধান লঙ্ঘন করেছে৷ তারপর স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে তাকে বাধ্য করেন। (মোহাম্মদী আইন, সৈয়দ আমির আলী, ২য় খণ্ড, ৫ম সংস্করণ, পৃষ্টা ১৭৪)৷
উল্লেখিত তথ্য ও আইনি অবস্থান থেকে বলছি সাইফুল ও সহিদার বিবাহ-বিচ্ছেদ হয়নি এবং যদি ধরে নেওয়া হয়, তাদের বিবাহ-বিচ্ছেদ হয়েছিল, তাহলেও তৃতীয় কোন ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে ব্যতিরেকে সাইফুলকে পুনরায় বিয়ে করার ব্যাপারে সহিদার কোন আইনি বাধা নেই৷ এ ব্যাপারে ফতোয়া একেবারেই ভুল৷
হলফনামা ও সেই সঙ্গে অ্যানেক্সচার পেশ করার পর আইন ও সালিস কেন্দ্রের পক্ষে ড. কামাল হোসেন এ প্রসঙ্গে তুলে ধরেছেন যে, সহিদার এই দুর্ভোগ কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়৷ এ ঘটনা দেশের প্রত্যেকটি স্থানে এবং প্রায়ই ঘটছে৷ উল্লি¬খিত অ্যানেক্সচারে ১৯৯৩ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে দেওয়া ফতোয়ার একটি তালিকা তুলে ধরা হয়েছে৷এই তালিকার সংখ্যাই শুধু উদ্বেগজনক নয়, বরং তার ব্যাপকতা ও বৈচিত্র্য বিস্ময়কর৷ ড. হোসেন বলেছেন যে, এসব ফতোয়া সংবিধানের ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩৫ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত মৌলিক অধিকারের বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জ৷ রাষ্ট্র এসব মৌলিক অধিকার রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে৷
ফতোয়ার অর্থ আইনি মতামত৷ অপর অর্থ হলো আইনগত ভাবে স্বীকৃত ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের আইনি মতামত৷ বাংলাদেশের আইনি ব্যবস্থা শুধু আদালতকেই মুসলিম ও অন্যান্য আইন সম্পর্কে মত দেওয়ার অধিকার দেওয়া হয়েছে৷ সুতরাং আমরা  যেকোন ধরনের ফতোয়াকে বেআইনি ঘোষণা করছি৷ মিস তানিয়া আমীর বলেছেন, তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়া ফতোয়া দণ্ডবিধির ৫০৮ ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ৷ এই বিধির অন্যান্য ধারা অনুযায়ী ফতোয়া কার্যকরের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির কথা বলা হয়েছে৷ ফতোয়া কার্যকরী করার পন্থা অনুযায়ী তার বা তাদের শাস্তি হবে৷ আমরা পুনরায় অস্বীকৃত ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের দেওয়া ফতোয়া যাতে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় সেজন্য অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংসদের কাছে সুপারিশ করছি৷
বিজ্ঞ এডভোকেট আমিরুল ইসলাম, ড. কামাল হোসেন ও মিস তানিয়া আমিরের যুক্তি বেঞ্চ গ্রহণ করেন৷
আমরা আরো মনে করি, দণ্ডবিধির ১৯০ ধারায় কথিত অপরাধের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা প্রয়োজন ছিল৷ আমাদের প্রত্যাশা অন্যান্য সব জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ কর্মকর্তারা এটিকে সর্বশেষ সতর্ক সংকেত হিসেবই নেবেন৷
এ বিষয়ে শেষ কথা বলার আগে একটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া প্রয়োজন৷ প্রশ্নটি হলো, কেন একটি বিশেষ মহল মাদ্রাসা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে অথবা ধর্মীয় গোষ্ঠী গঠন করে, ভুল দৃষ্টিভঙ্গির কারণে ধর্মান্ধ হয়ে পড়ছে৷ তবে স্বল্পস্থায়ী পরিকল্পনা হিসেবে আমরা প্রস্তাব করছি যে, সকল স্কুল ও মাদ্রাসার পাঠ্যক্রমে মুসলিম পারিবারিক আইন ও অধ্যাদেশ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং জুমার নামাজের খুতবায় মুসল্লি¬দের সামনে এই অধ্যাদেশ তুলে ধরতে মসজিদের খতিবদের নির্দেশ দিতে হবে৷ আর দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনা হিসেবে আমরা একই ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা চালু এবং সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদের (১) অনুসারে আইন, জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতা সাপেক্ষে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণকারী আইনের প্রস্তাব করছি৷ রাষ্ট্র অবশ্যই জনগণের নৈতিকতা নির্ধারণ ও গঠন করবে৷ রাষ্ট্র অবশ্যই সমাজকে শিক্ষিত করে তুলবে৷

লেখকঃ  অ্যাডভোকেট সিরাজ প্রামাণিক,সাংবাদিক, আইনগ্রন্থ প্রণেতা, এম.ফিল গবেষক ও আইনজীবী জজ কোর্ট, কুষ্টিয়া। ই-মেইল: seraj.pramanik@gmail.com

Share and Enjoy !

0Shares
0 0 0

Check Also

জাল দলিলের ফাঁদে পড়লে কী করবেন?

যদি কোন ব্যক্তি জানতে পারেন যে তার জমি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে কেউ জাল দলিল রেজিস্ট্রেশন করেছে …

2 comments

  1. খাঙ্কির পোলারা তোরা ইসলামের কি বুঝিস? মৌখিক তালাক ই তালাক। মুখ থেকে যদি তিনবার তালাক উচ্চারন হয় তাহলেই কোরআন এবং হাদিস অনুযায়ী তালাক কার্যকর হবে। তালাক কার্যকর হবার পর ইদ্দত পালনের পঢ়ে অন্যত্র বিয়ে হবার পরে সেখানে যদি তালাক হয় তবেই কেবল মাত্র পুর্বের স্বামীর নিকট নতুন করে দেন মহর ধার্য করে বিয়ের মাধ্যমে আসা যাবে। দুনিয়ার কন লোক বা কোন কাজী বা বিচারক এটা অস্বীকার করলে সে নিশ্চিতভাবে কাফের। কাফেরের স্থান নিশ্চই জাহান্নাম।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.