বুধবার , ১১ ডিসেম্বর ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত
এবার জনতা ব্যাংকের সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ

এবার জনতা ব্যাংকের সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ

May 19, 2016

ভুয়া এলসির মাধ্যমে রাষ্ট্রয়াত্ত প্রতিষ্ঠান জনতা ব্যাংক লিমিটেড থেকে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে সাতটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। এমন অভিযোগ যাচাই-বাছাই শেষে তা যথাযথ বলে মনে হওয়ায় অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এক বৈঠকে এই বিপুল পরিমাণ সরকারি টাকা লোপাটের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। এজন্য দুদকের উপপরিচালক মো. সামছুল আলমের নেতৃত্বে দুই সদস্য বিশিষ্ট একটি অনুসন্ধানী টিমও গঠন করা হয়েছে। দুদকের একটি ঊর্ধ্বতন সূত্র বাংলামেইলকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দুদকে আসা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রথমে জনতা ব্যাংকে হিসাব খোলেন লিটুন ফেব্রিকস, রাঙ্গা সোহেল, রাঙ্গা ডেনিম, ইব্রাহীম কটন, বিআরবি স্পিনিং, চৌধুরী টাওয়েলস, গ্যালাক্সী সোয়েটার অ্যান্ড ইয়ার্ন ডায়নিং নামের সাতটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। পরে এসব প্রতিষ্ঠান মালামাল আমদানির নামে ভুয়া এলসি খোলে। তাদের খোলা ভুয়া এলসিগুলোর বিপরীতে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের যোগসাজসে পৃথকভাবে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকটির এই বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করেন ওই জালিয়াত চক্র।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের একজন পদস্থ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত মঙ্গলবার (১৭ মে) এই বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এলে তা আমলে নিয়ে যাচাই-বাছাই শাখায় পাঠানো হয়। যাচাই-বাছাই কমিটি এই অভিযোগটি যথাযথ বলে অনুসন্ধানের জন্য সুপারিশ করেন। সেজন্য কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজকে তার অনুসন্ধান শুরু হলো।

দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনকে ওই অনুসন্ধান কাজের তদারকি কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত করে দুই সদস্য বিশিষ্ট টিম গঠন করেছে কমিশন। ওই টিমের বাকি সদস্য হিসেবে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রধানকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

এর বেশি অনুসন্ধানের স্বার্থেই অনুসন্ধানের শুরুতে বলা যাচ্ছে না। অনুসন্ধান শেষেই বিস্তারিত জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জনতার ব্যাংকের এই বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ছাড়াও গত সাত বছরে দেশের আর্থিক প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে।  এর মধ্যে ২০০৬ থেকে ২০১২ সালে ঘটে ৪ হাজার ১১৯ টাকার আত্মসাতের ডেসটিনি কেলেঙ্কারি। এই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মামলা করা হয়েছে এবং ডেসটিনি  প্রধান রফিকুল আমীনসহ অনেকে জেলে আছেন।

অনুরূপভাবে ২০১১ থেকে ২০১২ সালে হয় বিসমিল্লাহ গ্রুপের বিরুদ্ধে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ কেলেঙ্কারি। এ ঘটনায় মামলাসহ গ্রুপটির প্রধানরা কারাগারে আছেন। সোনালী ব্যাংক থেকে সাড়ে ৪ হাজার কোটি আত্মসাৎ করে হলমার্ক গ্রুপ। যেটা ইতিহাসে হলমার্ক কেলেঙ্কারি হিসিবে পরিচিত। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং গ্রুপ প্রধানরা জেলে আছে। ২০১২ থেকে ২০১৪ সালে উঠে বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি। এতে ব্যাংকটি থেকে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠে।  যার মধ্যে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অনুসন্ধান কাজ করে তা প্রমাণিত হওয়ায় ৫৬টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। বাকি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এখনো অনুসন্ধান করছে দুদক।

এছাড়া ২০১০ সালের দিকে শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারিতে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যাক্তির বিরুদ্ধে। যাকে অনেকে শেয়ার বাজার ধ্বসের ঘটনাও বলে থাকে। যদিও এই অভিযোগে এখনো পর্যন্ত কারো বিরুদ্ধে মামলা হয়নি। এসব ছাড়াও সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৮০০ কোটি টাকা রিজার্ভ চুরির অভিযোগ উঠেছে। যেটি এখনো তদন্তাধীন। এ পর্যন্ত এই অভিযোগে কারো বিরুদ্ধে মামলা হয়নি।

About বিডিএলএন রিপোর্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.