শনিবার , ১৬ মার্চ ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত
দুদকের সাঁড়াশি অভিযান ও আমাদের চাওয়া

দুদকের সাঁড়াশি অভিযান ও আমাদের চাওয়া

জুন ২০, ২০১৮

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়চেতা কথা বলতে পারেন বলেই তিনি বিশ্বের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় একজন নেতৃত্বের পথপ্রদপ্রর্শক বলা যেতে পারে ।আমাদের দেশ যেখানে পিছিয়ে রয়েছে তারমধ্যে দুর্নীতি বড় সমস্যা । মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশকে একটি দুর্নীতিমুক্ত দেশ করার জন্য বার বার কথা বলেছেন । কিন্তু এবার যেটা তিনি বলেছেন সেটা হল যে “ আমি যার বিরুদ্ধে দাঁড়াই তাকে শেষ করে ছাড়ি” ।হ্যা মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর কথা অনুযায়ীই দুর্নীতি বন্ধে একটি বড় ধরনের অভিযান প্রয়োজন । কিন্তু আসলে কারা দুর্নীতিবাজ এবং কাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে হবে এবং অভিযানের পর আসলে কিভাবে জাতিকে দুর্নীতি মুক্ত রাখতে হবে তার একটি নীতিমালা তৈরী করাই বড় কাজ বলে মনে করি । আমাদের দেশের ক্ষেত্রে দুর্নীতি একটি বড় সমস্যা হওয়ার কারণ হল দুর্নীতির বিরদ্ধে উল্লেখযোগ্য কোন শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে নজির কম এবং মানুষের অসাধু উপায়ে টাকা উপার্জনের ইচ্ছা বেশী থাকার কারণ ।যে সুযোগ পাচ্ছেনা এমন মানুষই দুর্নীতি করছেনা বলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ধরা হয় আর তার প্রমাণ হল ফলে বিষ মেশানো ! সামান্য আগে বিক্রির জন্য ফল রাসায়নিক দিয়ে পাকানোর মানে হচ্ছে তারা সুযোগ পাচ্ছে এবং দুর্নীতি করে টাকা উপার্জন করার প্রবনতা তৈরী করছে ।
এখন আমার আশাবাদি হচ্ছি দুর্নীতি বিরোধী সাঁড়াসি অভিযানের কথা শুনে । এখন বাস্তবিকভাবে এই সাঁড়াসি অভিযানে সঠিক দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিতে হবে । সবচেয়ে ভোগান্তির খাতগুলো বের করে সে সে জায়গায় কাজ করতে হবে সবচেয়ে বেশী । এখানে সবার আগেই চলে আসবে ভূমি বিষয়ক দুর্নীতির ব্যপারটি । ভূমিতে রাতের অন্ধকারে রেজিস্ট্রি দেওয়ার মত অপরাধ, সরকারি জমি ভূমিহীন দেখিয়ে শিল্প মালিকদের কাছে বিক্রির মত অপরাধ ও সাধারণ মানুষকে সামান্য কাজের জন্যও ঘুষ নেওয়ার মত অপরাধগুলো বিবেচনায় আনতে হবে আর এ বিবেচনায় আনার জন্য প্রথমেই যারা ভূমিতে কাজ করে এবং যাদের বিরুদ্ধে সামান্য দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তাদের সম্পদের হিসেব নিতে হবে ।
এবার আসা যাক রাস্তার দুর্নীতির ব্যপারে । রাস্তার জন্য বাজেট হয় কিন্তু কাজ হয়না, পুরো রাস্তা মেরামতের জন্য পঁয়শা আসে সেখানে ইট বালু ফেলে কোন রকম চলাচলের উপযোগী করে তাতে ডাবল ভাউচার দেখানো হয় এবং কোন কোন সময় পিচ করার দুই ঘন্টার মধ্যে পিচ উঠে যাওয়ার মত অপরাধের কথাও শোনা যায় এবং তার সাথে বাঁশ ব্যবহারের পর্যন্ত অভিযোগ রয়েছে যা কিনা শুধু হতাশারই নয় বরং খুব বেশী লজ্জারও!
সুতরাং যারাই রাস্তার কাজে দুর্নীতি করছে তাদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং কি করলে দুর্নীতি কম হবে সে ব্যপারে মনোযোগী হতে হবে । এখানে বলা যায় তথ্য যদি সঠিক ভাবে দেওয়া যায় তবে দুর্নীতি কমে যেতে পারে অনেক ।
বিশেষ করে কোন রাস্তায় কাজ শুরু হলে রাস্তার প্রথম দিকেই যদি প্রকল্পের ধরণ, প্রকল্পের ব্যয়, সীমানা এবং কোন কন্ট্রাকটরে কাজ করছে তা দিয়ে দেওয়া হয় তবে সহজেই দুর্নীতি কমতে পারে বলে মনে করি ।

এবার আসুন শিক্ষার বিষয়ে । উপবৃত্তির টাকা থেকে শুরু করে একটি টয়লেটের ভবন নির্মান পর্যন্ত দুর্নীতি হয়ে থাকে তৃনমূল পর্যায়ে । টয়লেটের জন্য এক লাখ টাকা আসলে তাতে ব্যয় করা হয় পঞ্চাশ হাজার টাকা তবে আর টাকা ? তদারকির অভাব ও শাস্তি হবে না এ বিশ্বাস থেকে যে দুর্নীতি হচ্ছে তা দুর্নীতি বিরোধী সাঁড়াসি অভিযানে কাটবে আমরা তাই আশা করি তবে দুর্নীতি বন্ধে সক্রিয় অবস্থানে যেতে চাইলে যাদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে তার প্রচার আরও বাড়াতে হবে এবং দুর্নীতিবাজদের ঘৃণার জন্য প্রয়োজনে একটি স্থান নির্বাচন করে সেখানে দুর্নীতিবাজদের উদ্দেশ্যে থুতু ফেলার জায়গাও নির্মান করা যেতে পারে ।
মৌলিক অধিকারের প্রতিটি ক্ষেত্র আজ অবৈধ টাকার খনি কোন কোন অসাধু মানুষের কাছে । হাসপাতালে সরকারি সেবার পেছনে ওষুধ বিক্রি থেকে শুরু করে হাসপাতালে সরজ্ঞামাদি বিক্রি ও ইমপোর্টেও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে অনেক । তবে মানুষ যাবে কোথায় ? একজন সুবিধা বঞ্চিত মানুষ অসুস্থ হলে সরকার তার দায়িত্ব নেয় আর সেখানে অসাধু মানুষগুলো সেই টাকা নিজের মনে করে নিয়ে নেয় । কত ঘৃণ্য দুর্নীতি যে হয় তা চোখে না দেখলে বোঝা দায়! !
এক কথা “দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে: এবং তার জন্য প্রয়োজন একটি রোড ম্যাপ । মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষনা দিয়েছেন এবং দুর্নীতি দমন কমিশন সে হিসেবে কাজ করেছেন তার মানে একটি সুফল আমরা পেতে যাচ্ছি তবে এই সুফলের অর্থবহতা তখনই আসবে যখন দুর্নীতি নিজেরাই বন্ধ করবে এদেশের মানুষ । তারজন্যই প্রয়োজন শাস্তির ব্যবস্থা ও স্কুল ভিত্তিক নৈতিকতার শিক্ষার বিস্তৃতি ।দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক কর্মকান্ডে সরকার নৈতিক শিক্ষার ব্যপারে আরও আগ্রহী হবেন এটাই কামনা করি আমরা । দুদকের স্বচ্ছতা ও একাগ্রশীলতায় দেশ দুর্নীতি মুক্ত হবে এটাই বড় প্রত্যাশা এখন তবে দুদকের সামাজিক ও প্রশাসনিক কর্মকান্ডে আরও বেশী সংশ্লিষ্টতা প্রয়োজন ।এ বিষয়টিও সরকারের আরও বেশি দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি । সবশেষে বলতে চাই- “দুর্নীতি রুখতে হলে, নিজে আগে জাগতে হবে” ।

সাঈদ চৌধুরী
সদস্য, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি
ও রসায়নবিদ
শ্রীপুর, গাজীপুর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.