শনিবার , ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত
দুই সন্তান হত্যায় বাবার জিম্মায় মায়ের জামিন

দুই সন্তান হত্যায় বাবার জিম্মায় মায়ের জামিন

ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর বনশ্রীতে ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে দুই সন্তান হত্যাকারী মা মাহফুজা মালেক জেসমিন মানসিক রোগে ভুগছেন। অসুস্থ হওয়ায় গ্রেফতারের প্রায় তিন বছরের মাথায় মামলার বাদী ও তার স্বামীর জিম্মায় জেসমিনকে জামিন দিয়েছেন আদালত। চিকিৎসা করে জেসমিনকে সুস্থ করে তুলবেন এমনটাই আদালতে বলেছেন জেসমিনের স্বামী নিহত অরণী ও আলভীর বাবা আমান উল্লাহ।

চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি শুনানি শেষে ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মাকসুদা পারভীন এক লাখ টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ১৯ মার্চ দিন ধার্য আছে। মামলায় ৩৬ সাক্ষীর মধ্যে সাক্ষ্য দিয়েছেন ১৯ জন।

এ মামলায় আসামিপক্ষে জামিন শুনানি করেন কাজী নজিবুল্লাহ হিরু।

জামিন আবেদনে উল্লেখ করা হয় আসামি মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত নারী। এছাড়াও মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ড আসামি স্কিজোঅ্যাফেক্টিভ ডিসওর্ডার নামক মানসিক রোগে ভুগছেন বলে একটি প্রতিবেদন দিয়েছে।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর রামপুরা থানাধীন বনশ্রীর বি ব্লকের ৪ নম্বর সড়কের ৯ নম্বর সাততলা বাড়ির চতুর্থ তলা থেকে ইশরাত জাহান অরণী (১২) ও তার ভাই আলভী আমানকে (৭) অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরে ৩ মার্চ নিজের দুই সন্তানকে হত্যার অভিযোগ এনে জেসমিনের বিরুদ্ধে মামলা করেন তার স্বামী আমানউল্লাহ। এ মামলায় মা জেসমিন পাঁচদিনের রিমান্ডে ছিলেন। তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দুই সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

১৪ জুন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক লোকমান হেকিম হত্যার অভিযোগে একমাত্র আসামি করে মা জেসমিনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামি মাহফুজা মালেক জেসমিন তার ছেলে-মেয়ে পড়ালেখায় প্রত্যাশা অনুযায়ী রেজাল্ট না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিতভাবে ঠান্ডা মাথায় দুই সন্তানকে হত্যা করেন। প্রথমে তিনি তার মেয়ে নুসরাত জাহান অরণীকে গলায় হাত চেপে ধরে ও ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরবর্তীতে ছেলে আলভী আমানকে একই ওড়না দিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় নাক ও মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*