মঙ্গলবার , ২৫ জুন ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত
সুপ্রীম কোর্ট বার ল‍াইব্রেরীর কম্পিউটার ল্যাবের বেহাল দশা

সুপ্রীম কোর্ট বার ল‍াইব্রেরীর কম্পিউটার ল্যাবের বেহাল দশা

মার্চ ২০, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির তালিকাভুক্ত আইনজীবীর সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার, এর মধ্যে মোটামুটি নিয়মিত আইনজীবীর সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার। এই বৃহত সংখ্যক আইনজীবীদের জন্য বারের লাইব্রেরীতে বইয়ের পর্যাপ্ততা থাকলেও, নেই পর্যাপ্ত কম্পিউটার ব্যবহারের ব্যবস্থা। সাধারণত যে কোন প্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরীতে পড়াশুনার জন্য আলাদা কক্ষ এবং কম্পিউটার ল্যাবের জন্য আলাদা কক্ষের ব্যবস্থা থাকে। কিন্তু সুপ্রীম কোর্ট বারের লাইব্রেরী এবং কম্পিউটার ল্যাব একই কক্ষে অবস্থিত। এছাড়া লাইব্রেরীর উপরের তলায় অারেকটি কক্ষ রয়েছে, সেখানে কম্পিউটার ল্যাব তৈরির বিষয়টি মাথায় রেখেই কক্ষটি ডিজাইন করা হয়েছিল কিন্তু আজ অবধি কম্পিউটার ল্যাবের বাস্তবায়ন হয়নি। উপরের তলায় ল্যাব রুমের এসি নষ্ট প্রায় ৬ মাস যাবত। লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা জানান, বারের ইলেকট্রিশিয়ান প্রায় ৩ মাস যাবত না থাকার কারণে এসি মেরামত করা সম্ভব হয়নি।

সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবীগণের আইটি সুবিধা আনয়নের জন্য বার থেকে ২৪টি কম্পিউটার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে যার মধ্যে ১৪টি কম্পিউটার ল্যাবে বিদ্যমান এবং এই ১৪টি কম্পিউটারের মধ্যে ৫টি কম্পিউটার বিকল অবস্থায় পড়ে আছে, মানে সুপ্রীম কোর্ট বারের নিয়মিত ৫ হাজার আইনজীবীগণের জন্য রয়েছে ৮টি সচল কম্পিউটার। এছাড়া সুপ্রীম কোর্ট বার ভবনে ওয়াই-ফাই এর সুব্যবস্থা আছে, কিন্তু তা বেশিরভাগ আইনজীবী নেটওয়ার্কগত ত্রুটির কারণে ব্যবহার করতে পারেন না।

বারের সহ লাইব্রেরিয়ান মোহাম্মদ আসাদুল ইসলাম বলেন, এত বিপুল সংখ্যক বিজ্ঞ আইনজীবীগণের জন্য খুবই কম সংখ্যক কম্পিউটার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যার ফলে এই কম্পিউটার গুলোর উপর খুবই চাপ পড়ে এবং অনেক সময় কিছু কম্পিউটার বিকল হয়ে যায়। এছাড়া আমাদের নিজস্ব আইটি বিশেষজ্ঞ না থাকার কারণে যথাসময়ে এগুলো মেরামত করাও সম্ভব হয় না। এছাড়া মেরামতের জন্য কিংবা লাইব্রেরির উন্নয়নের জন্য অঅইনজীবী সমিতিকে জানানো হলে অফিসিয়াল ফরমালিটিসের কারণে তা বাস্তবায়ন হতেও প্রচুর সময় লাগে। তিনি আরো বলেন, গত বছর বিপুল সংখ্যক তরুণ আইনজীবী একত্রে তালিকাভুকাত হওয়ায় কম্পিউটার সংকট দেখা দিয়েছে, যার ফলে আমরা বিজ্ঞ আইনজীবীগণকে যথাযথ আইটি সুবিধা দিতে পারছি না। বারের লাইব্রেরীর জন্য একজন আইটি বিশেষজ্ঞ ও পর্যাপ্ত কম্পিউটার বরাদ্দ দেয়া হলে আমরা যথাযথভাবে সেবা প্রদান করতে পারবো বলে আাশা করি।

সমগ্র দেশ যেখানে ডিজিটালাইজ হয়ে গেছে, সেখানে উচ্চ আদালতের আইনজীবীগণের আইটি সুবিধায় এভাবে পিছিয়ে থাকা খুবই দুঃখজনক। এছাড়া সুপ্রীম কোর্ট বারের একটি ওয়েবসাইট রয়েছে সেটিও সবসময় আপডেট হয় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.