রবিবার , ২৫ আগস্ট ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত
গুরুতর হামলার শিকার হয়েও বিচার পাননি এড. রুমি

গুরুতর হামলার শিকার হয়েও বিচার পাননি এড. রুমি

মার্চ ২১, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

বিচার পাননি ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী রুমি আকতার, সকল অাসামী জামিন লাভ করেছে। তারা দিবি ঘুরে বেড়াচ্ছে। নওগাঁর ধামইরহাট থানায় রুমি আকতার বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন; মামলা নং ০১ তারিখ ০৪/০২/২০১৯ । পরবতিতে অাদালত তাদের জামিন দেন।

ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী রুমি আকতার জমি-জমার বিরোধ নিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে মুত্য সজ্জায়। দীর্ঘদিন ধরে তার ভাইদের সাথে তার বাবার রেখে যাওয়া পৈত্রিক সম্পত্তি বিরোধ চলে আসছিল।

গত ০৪/০২/২০১৯ তারিখে আইনজীবী রুমি আকতার তার পিতার রেখে যাওয়া ছ’ মিলে তার ভাই মোঃ মাহবুব আলম ওরফে লেবুর সাথে জমি জমা নিয়ে কথা বলতে যান। তখন রুমি আকতার বলেন যে আমাকে তোমাদের কোন আর্থিক সহযোহিতা করার প্রয়োজন নেই। আমাদের বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি আইন অনুযায়ী বন্টন করে দেন। এ কথা শোনার সাথে সাথে লেবু অনেক মারাত্বক ভাবে রেগে যায় এবং ছ’ মিলে থাকা বড় হাতুরি দিয়ে রুমি আক্তারের মাথায় সজোরে আঘাত করে এতে রুমির মাথা ফেটে যায় এবং ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। শুধু তাই নয় তার পুরো শরীর কাঠের চৌকাঠ দিয়ে পুরো শরীর থুতিয়ে দেয় এবং আঙ্গুল ফেটে যায়। এ সময় লেবুর স্ত্রী এবং ছ’মিলের বেশ কয়েকজন কর্মচারীও তাকে এলোপাতারি মারধর করে।

তারপর স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে। পরবর্তীতে নওগাঁর ধামইরহাট থানায় রুমি আকতার বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন; মামলা নং ০১ তারিখ ০৪/০২/২০১৯ । মামলা করার পর কর্তব্যরত থানা পুলিশ রুমি আক্তারের ভাবি মোসাঃ জেসমিন আরা বেগম কে গ্রেফতর করেন। ০১ নং আসামী লেবুসহ বাকী আসামীরা পলাতক রয়েছে। ঘটনার পর পুরো এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং আইনজীবী রুমি আকতারকে দেখার জন্য হাসপাতালে উৎসুক জনতা ভীড় জমান।

রুমি আকতার বিডি‘ল’নিউজকে জানান, “বাবা মারা যায় ১৭ ই মে ২০১৮, এরও প্রায় ৪ বছর আগে মা কে হারাই। মা মারা যাওয়ার পর বাবাই ছিলেন সব,বাবাই ছিলেন একধারে বাবা ও মা। বাবা মারা যাাওয়ার পর রেখে যান দুই পুত্র ও দুই কণ্যা। আমি তাদের মধ্যে তৃতীয়, বড় দুই ভাই এবং ছোট হচ্ছে বোন, বোনের বিয়ে বাবাই দিয়ে গিয়েছিলেন। বাবা মা হারানোর পর আমি অভিভাবকহীন হয়ে পড়ি। বাবা মারা যাওয়ার সময় কোন অর্থ রেখে যাননি, বিধায় আমি খুবই মানবেতর জীবন যাপন করে আসছি, অথচ বাবা অঢেল সম্পদ রেখে যান আমাদের জন্য। আমার এই অর্থ কষ্টের মানবেতর জীবনে কখনই আমার ভাইরা আমাকে আর্থিকভাবে সাহায্য করেন নি বা আমার পাশে এসে দাঁড়ায়নি বরং সব সময় ভাই ভাবিরা আমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছে। তাই উপায় না পেয়ে আমি আমার ভাইদের আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি বন্টনের জন্য অনুরোধ করি। এর প্রতি উত্তরে আমার ভাই ও ভাবি আমাকে সব সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। এক পর্যায়ে সহ্য করতে না পেরে আমি ধামইরহাট থানায় আমার জীবনের নিরাপত্তার জন্য অভিযোগ দায়ের করতে যাই কিন্তুু থানা থেকে কখনই কোন সহযোগিতা পাই নি। বরং এক পর্যায়ে থানায় গেলে থানার লোকজন বিরক্ত হওয়া শুরু করে। থানা যদি প্রথম থেকেই আমাকে সাহায্য করত, তাহলে হয়তো আজ আমার হাসপাতালে মৃত্যুও সাথে পাঞ্জা লড়তে হতো না। আমি আমার উপর এই অমানবিক হামলার বিচার চাই। আমি বাঁচতে চাই”।

প্রসঙ্গত, রুমি আকতার ঢাকা জজ কোর্টে আইন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি নওগাঁ জেলায়। তিনি স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, আইন বিভাগ থেকে আইন বিষয়ে পড়াশুনা করেন এবং পরবর্তীতে আইন পেশায় নিয়োজিত হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.