বৃহস্পতিবার , ২০ জুন ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত
একজন পেশাজীবীর দায়িত্ব ও একজন নুসরাত

একজন পেশাজীবীর দায়িত্ব ও একজন নুসরাত

এপ্রিল ১১, ২০১৯
কুমার দেবুল দে:

ধরুন নুসরাত হত্যা মামলার বিচার হল রায়ে দোষীদের ফাঁসি হল বিচার পরবর্তী কিছু প্রক্রিয়া এখনো বাকী। তার ফাঁসি কার্যকরের দিন ঘোষনা করতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। দেখা গেল বিচারিক প্রক্রিয়ার চলার কোন এক সময়ে আসামীর ক্যান্সার ধরা পড়ল, যেকোনো সময় সে মারা যাবে তাহলে তো ঝামেলা মিঠেই গেল রায়ে তার ফাঁসি হয়েছে, একদিকে জনগন তার মৃত্যুদণ্ড আশা করে এবং ক্যান্সারে সে মারা গেলেই তো কাহিনী শেষ।
আসলে কি এইভাবেই শেষ হয়ে যাবে কাহিনী?  আসামীকে সরকার বা জেল কতৃপক্ষ আগে তার ক্যান্সারের চিকিৎসা করাবে, প্রয়োজনে তাকে কেমোথেরাপি দেয়া হবে তাকে সেইদিন পর্যন্ত সুস্থ্যভাবে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করা হবে যেইদিন তার ফাঁসি কার্যকর করা হবে। কারন একজন অপরাধীর শাস্তি কার্যকর হবে একমাত্র আইনের অধীনেই কোন রোগ শোকের অধীনে নয়। আইন কোনদিন রোগ শোক বা অন্যকিছুর কাছে হার মানতে পারেনা। এইবার একটু ভেবে দেখুন তো এইখানে আসামীকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টায় ডাক্তারের দোষটা কোথায়?
ধরুন নুসরাত হত্যাকান্ডের বিচার চলাকালে আসামীর বাড়ীতে আগুন ধরেছে, ফায়ার সার্ভিস কি তার বাসার আগুন নেভানোর চেষ্টা করবেনা?
নুসরাত হত্যাকারীদের জেলে নেয়ার পর তাদের কি খাওয়া দেয়া হবেনা?
এইবার ধরুন যেই উদ্দেশ্যে লেখাটার অবতারণা ঃ অনেকেই ফেইসবুকে বিষোদগার করছেন নুসরাত হত্যাকান্ডের আসামী পক্ষে একজন আইনজীবীর আসামী পক্ষে ওকালতি করার সিদ্বান্তের বিষয়ে তাদের জন্য ধরুন আসামী পক্ষে কোন উকিলই দাড়ালো না তাহলে কি হবে? বিচারটা একপেশে হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায় আমাদের দেশে ফৌজদারী মামলায় একপেশে বিচার হওয়ার সুযোগ নাই যদি আসামী ধরা পড়ে জেলে থাকে।
এইরকম একজন আসামীর পক্ষে কোন আইনজীবী যদি ওকালতি করার ইচ্ছা প্রকাশ না করে থাকেন তখন সরকারের কাজ হচ্ছে সরকারী খরচেই একজন আইনজীবী আসামী পক্ষে নিয়োগ দেয়া যিনি আসামী পক্ষে আদালতে মামলা লড়বেন, এবং এই আইনজীবীকে বলা হয় State Defence Lawyer.
তাই কোন মামলায় সে যতই স্পর্শকাতর বা চাঞ্চল্যকর মামলাই হোকনা কেন আসামী ধরা পড়লে তার পক্ষে আইনজীবী থাকবেই। তাছাড়া আদালতে বিরোধীয় কোন পক্ষে ওকালতি করা একজন আইনজীবীর দায়িত্ব যদি তিনি উপযুক্ত ফি প্রদান সাপেক্ষেও যদি অনীহা জ্ঞাপন করেন তবে তা হবে অপরাধ। বিচার প্রক্রিয়ায় আসামীকে চিকিৎসা সেবা দেয়া,  বা খাবার দেয়া বা তার বাড়ীতে আগুন নিভানো যেমন একটি সাধারন বিষয় আসামীকে আইনী সেবা দেওয়াও ঠিক তেমনি একটি সাধারন বিষয় যা ন্যায় বিচারের অংশ। আমরা চাই আসামীর বিচার হোক তবে তা একপেশে নয়, আমরা চাই আসামীর সুবিচার হোক।
লেখক: আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.