বুধবার , ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত
দুই ঘন্টায় সরাতে হবে বিজিএমইএ ভবনের মালামাল: রাজউক

দুই ঘন্টায় সরাতে হবে বিজিএমইএ ভবনের মালামাল: রাজউক

এপ্রিল ১৬, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজউকের প্রশাসনিক পরিচালক খন্দকার অলিউর রহমান বলেছেন, রাজধানীর হাতিরঝিলে অবৈধভাবে নির্মিত বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে আমরা সার্বিকভাবে প্রস্তুত আছি। ভবন ভাঙার জন্য বুলডুজারসহ অন্যান্য গাড়ি সামনে প্রস্তুত রাখা আছে। কিন্তু এই ভবনে ব্যাংকসহ অন্যান্য অনেক অফিস আছে। ব্যাংকের ভল্টের টাকাসহ অফিসের অন্য মালামাল সংশ্লিষ্টরা সরিয়ে নিতে আমাদের কাছ থেকে তারা দুই ঘণ্টা সময় চেয়ে নিয়েছে। আমরা তাদের মালামাল সরিয়ে নেয়ার জন্য সময় এবং সুযোগ দিয়েছি।

আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কারওয়ান বাজার-সংলগ্ন বিজিএমইএ ভবনের সামনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন রাজউক পরিচালক (প্রশাসন) খন্দকার অলিউর রহমান।

তিনি বলেন, এটি ১৫ তলা বিল্ডিং, এখানে অনেক অফিস আছে। তারা তাদের মালামাল সরিয়ে নেবে এরপর আমরা ভাঙার কাজ শুরু করতে পারব। বর্তমানে আমরা এসব প্রাথমিক কাজগুলো করছি। তবে আমরা বসে নেই, ভবন ভাঙার প্রাথমিক কাজ আমরা করছি। সব অপসারণের পর আমাদের কার্যক্রম শুরু হবে-এটা ১০ ঘণ্টা লাগতে পারে আবার একদিনও লাগতে পারে।

এই ভবন ভাঙ্গার বিষয়টিতো পূর্ব নির্ধারিত ছিল তাহলে আজ কেন অপসারণ করা হচ্ছে- গণমাধ্যম কর্মীদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মহামান্য হাইকোর্ট ১২ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দিয়েছিলেন। মাঝখানে কয়েকদিন বন্ধ ছিল। এরপর কর্মদিবস শুরু হয়েছে আমরাও আমাদের কাজ শুরু করেছি।

এর আগে সকাল ৯টার দিকে বিজিএমইএ ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছে রাজউক কর্মকর্তারা। ভবনটি ভাঙার কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য পুলিশ, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ভবনটি ভাঙার কার্যক্রম তদারকিতে রাজউকের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান, রাজউক বোর্ডের সদস্যগণ, হাতিরঝিল প্রকল্পের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে মেজর জেনালের সাঈদ আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী ও পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত থাকবেন।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ বিজিএমইএ ভবন ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়ে রায় দেন। হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে বিজিএমইএ আপিল আবেদন করে। ওই আবেদনের শুনানি শেষে ২০১৩ সালে বিজিএমইএকে কিছু নির্দেশনা দিয়ে ভবন ভাঙার জন্য বলা হয়। এরপর রিভিউ আবেদনটিও খারিজ হয়। পরবর্তীতে আদালতের কাছে সময় চেয়ে বারবার আবেদন করে সংগঠনটি। সবশেষ গত বছরের ৩ এপ্রিল এক বছরের জন্য সময় দেয় সর্বোচ্চ আদালত।

একাধিকবার সময় নিয়েও আদালতের নির্দেশে বিজিএমইএ ব্যর্থ হলে ভবন করার ক্ষেত্রে জায়গা না পাওয়ার অজুহাত দেখায়। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ৫০ শতাংশ কমমূল্যে উত্তরার ১৭ নং সেক্টরে ১১০ কাঠা জমি দেয়া হয়। আর সেই জমির ওপর ২০১৭ সালে ১৩তলা বিজিএমইএ কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ শুরু হয়। এখন পর্যন্ত ৬তলার নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। ভবনটির পুরো কাজ শেষ হবে ২০২০ সালের জুন মাসে। তবে কয়েকটি তলার নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ায় ও হাইকোর্টের নির্দেশের বাধ্যবাধকতায় চলতি মাসেই বিজিএমইএর প্রধান কার্যালয় উত্তরায় স্থানান্তরিত হয়।

সর্বশেষ ১২ এপ্রিলের মধ্যে ভবনটি সরিয়ে নিতে সময় দিয়েছিল আদালত। নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে নামছে রাজউক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.