মঙ্গলবার , ২৫ জুন ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত
বিজিএমইএ ভবন ভাঙার সিদ্ধান্ত ২৫ এপ্রিল: গণপূর্তমন্ত্রী

বিজিএমইএ ভবন ভাঙার সিদ্ধান্ত ২৫ এপ্রিল: গণপূর্তমন্ত্রী

এপ্রিল ১৭, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক: উচ্চ আদালতের নির্দেশ মোতাবেক রাজধানীর হাতিরঝিল লেকে আইন না মেনে গড়ে তোলা পোশাক শিল্প প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির প্রধান কার্যালয় বিজিএমইএ ভবন ভাঙার বিষয়টি নিয়ে ২৫ এপ্রিল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। আর ভবনটি ভাঙতে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে জানান তিনি।

আজ বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

দেশের সর্বোচ্চ আদালত বিজিএমইএ ভবন ভাঙার রায় দেয়ার পর কয়েক দফায় সময় নিয়েছিল তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা। সবশেষ আদালতের দেয়া সাত মাস সময়সীমা গত ১২ এপ্রিল শেষ হয়েছে। এই সময়সীমা পার হওয়ায় গত মঙ্গলবার সকালে ভবনটি ভাঙার জন্য বুলডোজার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি নিয়ে বিজিএমইএ ভবনের সামনে উপস্থিত হয় রাজউকের কর্মকর্তারা। এসময় ছিলেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সদস্য। তবে ভবনে ১৯টি প্রতিষ্ঠানের অফিস থাকায় তাদের মালামাল সরাতে চার দফা সময় দেয়া হয়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ভবনটি সিলগালা করে দেয় রাজউক। বন্ধ করে দেয়া হয় ভবনটিরর গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, টেলিফোন লাইনসহ সব ইউটিলিটি সার্ভিস।

বিজিএমইএ ভবনটি কখন ভাঙা হবে জানতে চাইলে শ ম রেজাউল করিম বলেন, ২৫ এপ্রিলের পরবর্তী এক সপ্তাহের মধ্যে বিজিএমইএ ভবন ভাঙার কাজ শুরু হবে এবং তার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে ওই জায়গাটি সম্পূর্ণ খালি করে দেয়া হবে।

গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, ভবনটি ভাঙার জন্য আগ্রহীদের কাছ থেকে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এই নিয়ে আজ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়েছে। ২৪ এপ্রিলের মধ্যে আগ্রহীদের প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়েছে।

২০১১ সালের ৩ এপ্রিল বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ বিজিএমইএ ভবন ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়ে রায় দেন। হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে বিজিএমইএ আপিল আবেদন করে। ওই আবেদনের শুনানি শেষে ২০১৩ সালে বিজিএমইএকে কিছু নির্দেশনা দিয়ে ভবন ভাঙার জন্য বলা হয়। এরপর রিভিউ আবেদনটিও খারিজ হয়। পরবর্তীতে আদালতের কাছে সময় চেয়ে বারবার আবেদন করে সংগঠনটি। সবশেষ গত বছরের ৩ এপ্রিল এক বছরের জন্য সময় দেয় সর্বোচ্চ আদালত।

একাধিকবার সময় নিয়েও আদালতের নির্দেশে বিজিএমইএ ব্যর্থ হলে ভবন করার ক্ষেত্রে জায়গা না পাওয়ার অজুহাত দেখায়। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ৫০ শতাংশ কমমূল্যে উত্তরার ১৭ নং সেক্টরে ১১০ কাঠা জমি দেয়া হয়। আর সেই জমির ওপর ২০১৭ সালে ১৩তলা বিজিএমইএ কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ শুরু হয়। এখন পর্যন্ত ৬তলার নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। ভবনটির পুরো কাজ শেষ হবে ২০২০ সালের জুন মাসে। তবে কয়েকটি তলার নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ায় ও হাইকোর্টের নির্দেশের বাধ্যবাধকতায় চলতি মাসেই বিজিএমইএর প্রধান কার্যালয় উত্তরায় স্থানান্তরিত হয়।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ ১২ এপ্রিলের মধ্যে ভবনটি সরিয়ে নিতে সময় দিয়েছিল আদালত। নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে নামছে রাজউক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.