শনিবার , ১৯ অক্টোবর ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত
নেত্রকোণার দুই যুদ্ধাপরাধীর রায় আজ

নেত্রকোণার দুই যুদ্ধাপরাধীর রায় আজ

এপ্রিল ২৪, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক: মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের মামলায় নেত্রকোণার হেদায়েতুল্লাহ ও সোহরাব ফকিরের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হবে। আজ বুধবার এই রায় ঘোষণা করবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে মঙ্গলবার বিচারপতি মো: শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই দিন নির্ধারণ করেন। এর আগে ৭ মার্চ এই মামলার শুনানি শেষে সিএভি ঘোষণা করা হয়েছে।

এই মামলাটি নিয়ে প্রসিকিউটর তাপস কান্তি বল জানান, দুই আসামিদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় রায়ে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এই বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুস শুকুর জানান, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে দুই বয়োজ্যেষ্ঠ বেকসুর খালাস পাবে।

শুরুর দিকে এই মামলার আসামি করা হয় তিনজনকে। তারা হলেন- শান্তি কমিটির সদস্য ও রাজাকার হেদায়েত উল্লাহ ওরফে মো. হেদায়েতল্লাহ ওরফে আঞ্জু বিএসসি, রাজাকার এনায়েত উল্লাহ ওরফে মঞ্জু এবং রাজাকার সোহরাব ফকির ওরফে সোহরাব আলী ওরফে ছোরাপ আলী।

২০১৭ সালের ১০ জানুয়ারি মাসে স্থানীয় শান্তি কমিটির সদস্য মো: হেদায়েতল্লাহ ওরফে আঞ্জু বিএসসি (৮০), এনায়েত উল্লাহ ওরফে মঞ্জু (৭০) ও রাজাকার সোহরাব ফকির ওরফে সোহরাব আলী (৮৮) বিরুদ্ধে ৬ ধরনের অভিযোগ আনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এই তিন আসামির মধ্যে আঞ্জু ও মঞ্জু দুই ভাই। এর মধ্যে ২০১৭ সালে ২৫ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় মঞ্জুর।

এর আগে ২০১৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বরে সংবাদ সম্মেলন করে আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে ট্রাইব্যুনাল। এই মামলাটি তদন্ত করে মোহাম্মদ আমিনুর রশীদ। এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ২৩ জন সাক্ষী দেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার ৩ আসামির বাড়ি নেত্রকোণা জেলার আটপাড়া থানার কুলশ্রীতে। তবে আঞ্জু পরিবার নিয়ে বসবাস করে রাজশাহী জেলার বোয়ালিয়া থানার হেতেম খাঁ মেথর পাড়ায়।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা-গণহত্যা-আটক-নির্যাতন-অপহরণ-লুণ্ঠন-অগ্নিসংযোগ ও দেশত্যাগে বাধ্য করার মতো ৬ ধরনের অপরাধের অভিযোগ পায় ট্রাইব্যুনাল। নেত্রকোণা জেলার আটপাড়া থানার মধুয়াখারী, মোবারকপুর, সুখারী গ্রাম ও মদন থানার মদন গ্রামে এই তিন আসামি এই সব অপরাধ করে বলে মামলায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। এই তিন আসামিই একাত্তরে জামায়াতের কর্মী ছিল। তাদের মধ্যে আঞ্জু ও মঞ্জু দুই ভাই জামায়াতের রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট আছে, তা তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.