শনিবার , ১৯ অক্টোবর ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত
জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সপ্তাহব্যাপী গণসংযোগ শুরু ডিএমপির

জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সপ্তাহব্যাপী গণসংযোগ শুরু ডিএমপির

এপ্রিল ২৮, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক: জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জনমনে সচেতনতা বাড়াতে রাজধানীতে ঢাকা মহানগর পুলিশ ‘গণসংযোগ সপ্তাহ’ শুরু করতে যাচ্ছে। রবিবার (২৮ এপ্রিল) থেকে শুরু হয়ে এই সচেতনতামূলক কর্মসূচি চলবে ৪ মে পর্যন্ত। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়ে ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া এক অফিস আদেশ জারি করেছেন।

আদেশে, এ কর্মসূচির আওতায় মহানগর পুলিশের প্রতিটি থানার ওসিকে উঠান বৈঠক ও কমিউনিটি পুলিশিং সভা করতে বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরি করে জনঅংশীদারিত্ব বৃদ্ধি করতে চায় পুলিশ।শ্রীলংকায় খ্রিস্টানদের উপাসনালয় ও হোটেলে সিরিজ বোমা হামলার প্রেক্ষাপটে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আদেশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ইতিপূর্বে সংঘটিত সন্ত্রাসী ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, সন্ত্রাস ও জঙ্গি কার্যক্রমের পেছনে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অনুষঙ্গ কার্যকর রয়েছে। যার ব্যাপ্তি-পরিধি ব্যাপক ও বিস্তৃত। এ রকম একটি সমস্যা শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারা নিরসন করা সম্ভব নয়।

পুলিশ কমিশনার মনে করেন, জনগণের ব্যাপক ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই এ কাজে সফলতা পাওয়া সম্ভব। এছাড়া সম্প্রতি শ্রীলংকায় সংঘটিত সন্ত্রাসী তৎপরতা এবং সন্ত্রাসী ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এ কার্যক্রমন আরও জোরদার করা হয়েছে।

পুলিশ কমিশনারের ওই আদেশে বর্তমানে ডিএমপিতে চালু থাকা ৩০২টি বিটকে আরও কার্যকর ও সক্রিয় করে ক্রমাগতভাবে উঠান বৈঠক বা কমিউনিটি পুলিশিং সভার আয়োজন করতে বলা হয়েছে। পাড়া-মহল্লার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও (বিশেষ করে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল ও কলেজ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা) এ ধরনের সভার আয়োজন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে নগরবাসীকে সচেতন করতেও বেশ কিছু দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকার পুলিশ কমিশনার।

এতে আরো বলা হয়, বিট অফিসারদের নিজ নিজ অধিক্ষেত্র বা এলাকায় নিখোঁজ যুবক বা ছাত্র সম্পর্কে (যদি থাকে) হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ, ভাড়াটিয়া বা বাড়িওয়ালার তথ্য সংগ্রহ করে হালনাগাদ করা এবং যে কোনো পরিবর্তন সম্পর্কে তাৎক্ষণিক অবহিত হওয়া, বাসা বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সিসি ক্যামেরা স্থাপনে উদ্বুদ্ধ করা, বিদ্যমান ক্যামেরার হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করা, সিসি ক্যামেরা সমন্বিত করে অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকারে এ প্রযুক্তি ব্যবহারের কৌশল নির্ধারণ এবং সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ব্যবস্থা না নিয়ে বিদেশিদের যাতে বাড়ি ভাড়া না দেওয়া হয় তা নিশ্চিত করা, বিদেশিদের অবস্থানের বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করতে থানার ওসি এবং বিট অফিসারদের দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে।

পুলিশ কমিশনারের আদেশে পাড়া বা মহল্লায় নতুন কোনো ভাড়াটিয়া এলে যেসব বিষয় খেয়াল রাখতে সবাইকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে তা হলো তারা (ভাড়াটিয়া) সবসময় ঘরের দরজা, জানালা বন্ধ করে রাখছেন কিনা তা নজরে রাখা, প্রতিবেশীর সঙ্গে মেলামেশা না করলে, বাসায় স্বল্প ফার্নিচার রাখলে, টেলিভিশনসহ বিনোদনের কোনো মাধ্যম বাসায় না রাখলে, কাজের লোক ব্যবহার না করলে, পাশের দোকানে না গিয়ে দূরের দোকানে বাজার সদাই করলে তা পুলিশকে জানাতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া নিজের সন্তানের মধ্যে বিশেষ কোনো পরিবর্তন যেমন উগ্রবাদ ও সহিংস গোষ্ঠীর প্রতি সহমর্মিতা ও সহানুভূতি প্রদর্শন, ধর্মগ্রন্থের আক্ষরিক ও উগ্র ব্যাখ্যা গ্রহণে আগ্রহ, ভিন্নমতালম্বীদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ, পুরনো বন্ধুদের এড়িয়ে চলা, পারিবারিক ও সামাজিক আচার অনুষ্ঠান বর্জন, বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকা, বাঙালি সংস্কৃতিকে ইসলামের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানো, সরকারি অনুদানে তৈরি মসজিদে নামাজ না পড়া, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনিয়মিত হওয়া, অনুপস্থিতির হার বৃদ্ধি ও ক্লাসে অমনোযোগিতা, পরিবারের অন্য সদস্যদের ধর্মীয় আচারের বিষয়ে ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ এগুলো জঙ্গিবাদের লক্ষণ বলে মহানগর পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান।

জনগণের সহায়তা ছাড়া সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূল পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয় জানিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায় জানান, গণসংযোগ সপ্তাহ শুরু করা হচ্ছে। যার লক্ষ্য সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ নিয়ে জনগণকে আরও সচেতন করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.