মঙ্গলবার , ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত
রূপপুর দুর্নীতি: ঢাকায় দুটি সংগঠনের ‘বালিশ বিক্ষোভ’

রূপপুর দুর্নীতি: ঢাকায় দুটি সংগঠনের ‘বালিশ বিক্ষোভ’

মে ২০, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনায় নির্মাণাধীন রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক এলাকায় আসবাবপত্র কেনাকাটা এবং সেগুলোর বহন খরচ নিয়ে যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, সেটির প্রতিবাদে ঢাকায় একটি অভিনব বিক্ষোভ হয়েছে।

ঢাকার প্রেসক্লাবে সামনে গণঐক্য এবং নাগরিক পরিষদ নামে দুটি সংগঠনের কিছু ব্যক্তি বালিশ হাতে নিয়ে এই বিক্ষোভ করেন। এই বিক্ষোভে ১৫ জনের মতো অংশ নেন। বিক্ষোভের নাম দেওয়া হয়েছে ‘বালিশ বিক্ষোভ’।

সম্প্রতি একটি দৈনিক পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে যে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য নির্মিত বহুতল ভবনের ফ্ল্যাটগুলোর জন্য ১ হাজার ৩২০টি বালিশ কেনা হয়েছে, যার প্রতিটির মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ৬ হাজার টাকা। এখানেই শেষ নয়, প্রতিটি বালিশ নিচ থেকে উপরে বহন করার খরচ দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা।

নাগরিক পরিষদের আহবায়ক মো: শামসুদ্দিন বলেন, যেখানে একটি বালিশের বাজার মূল্য ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা, সেখানে একটি বালিশের মূল্য দেখানো হয়েছে ৬ হাজার টাকা। তিনি বলেন, দেশে যে ‘সীমাহীন দুর্নীতি’ চলছে এটি তার একটি নমুনা মাত্র। এ বিষয়টিকে ‘ইতিহাসের সেরা লুট’ বলে আখ্যায়িত করেছে বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা। তাদের বহন করা একটি পোস্টারে লেখা ছিল, কে দেখবে এই দুর্নীতি? কে থামাবে এই মহামারি?

আরেকটি পোস্টারে লেখা ছিল, কৃষক পায়না ফসলের দাম, চারিদিকে লুটপাটের জয়গান। ব্যাপক এই দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। রোববার এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।

এদিকে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের নির্মাণাধীন ভবনের আসবাবপত্রসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজে ‘অস্বাভাবিক’ ব্যয় তদন্তে দুটি কমিটি করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ণ মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের নির্মাণাধীন ভবনের ঠিকাদারের পাওনা পরিশোধ বন্ধ করে দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

গতকাল রবিবার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. ইফতেখার হোসেনের পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিবৃতি বলা হয়, পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় হতে একজন অতিরিক্ত সচিব এবং গণপূর্ত অধিদপ্তর হতে একজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সকল প্রকার পেমেন্ট বন্ধ রাখার জন্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় হতে ইতোমধ্যে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যায় আরো বলা হয়, ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ডেলিগেটেড ওয়ার্ক হিসেবে গণপূর্ত অধিদপ্তর কর্তৃক নির্মাণাধীন ছয়টি ভবনে আসবাবপত্রসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজের জন্য দাপ্তরিক প্রাক্কলন প্রণয়নপূর্বক ছয়টি প্যাকেজে ই-জিপিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়। প্যাকেজসমূহের প্রতিটির ক্রয়মূল্য ৩০ কোটি টাকার নিম্নে প্রাক্কলন করায় গণপূর্ত অধিদপ্তর কর্তৃক অনুমোদন ও ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়। এক্ষেত্রে দাপ্তরিক প্রাক্কলন প্রণয়ন, অনুমোদন ও ঠিকাদার নিয়োগে মন্ত্রণালয়ের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।’

‘ওই কাজের বিপরীতে এখনো ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে বিল পরিশোধ করা হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশের আলোকে বাজার মূল্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে বিল পরিশোধের বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।’

নির্মিত ভবনে আসবাবপত্র কেনা ও ফ্ল্যাটে কেজিখানেক ওজনের একটি বৈদ্যুতিক কেটলি নিচ থেকে ফ্ল্যাটে তুলতেই খরচ ধরা হয় প্রায় তিন হাজার টাকা। একই রকম খরচ দেখানো হয়েছে জামা-কাপড় ইস্ত্রি করার কাজে ব্যবহৃত প্রতিটি ইলেক্ট্রিক আয়রন ওপরে তুলতে। প্রায় আট হাজার টাকা করে কেনা প্রতিটি বৈদ্যুতিক চুলা ফ্ল্যাটে পৌঁছে দিতে খরচ দেখানো হয় সাড়ে ছয় হাজার টাকার বেশি।

এছাড়া প্রতিটি শোয়ার বালিশ ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয় ৮০০ টাকা করে। আর একেকটি ওয়াশিং মেশিন ওঠাতে খরচ দেখানো হয় ৩০ হাজার টাকারও বেশি। এভাবে ওয়াশিং মেশিনসহ অন্তত ৫০টি পণ্য ওঠাতে খরচ দেখানো হয় ক্রয়মূল্যের প্রায় অর্ধেক, কোনো কোনোটিতে ৭৫ শতাংশ। অস্বাভাবিক এই অর্থ ব্যয় কেবল ভবনে ওঠানোর ক্ষেত্রেই নয়, আসবাবপত্র কেনার ক্ষেত্রেও দেখানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.