শনিবার , ২০ জুলাই ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত
তিন বছর পরই মুক্তি পাচ্ছেন মুরতাজা

তিন বছর পরই মুক্তি পাচ্ছেন মুরতাজা

জুন ১৭, ২০১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কিশোর বয়সে গ্রেপ্তার হয়ে কয়েদি অবস্থায়ই তারুণ্যে পা রাখা সৌদি নাগরিক মুর্তাজা কুরেইরিশের মৃত্যুদণ্ড মওকুফ করে তাকে ১২ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে। তবে সব রকম আইনি প্রক্রিয়া পার হয়ে আর মাত্র তিন বছর পরই মুক্তি পাচ্ছেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সকে জানান, মুর্তাজার মৃত্যুদণ্ড মওকুফ করে তাঁকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ সাজা তাঁর গ্রেপ্তারের সময় থেকে অর্থাৎ ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হচ্ছে। এর মানে দাঁড়াচ্ছে, তাঁর কারাদণ্ডের প্রায় পাঁচ বছর এরই মধ্যে পার হয়ে গেছে। এদিকে আবার বয়স কম হওয়ায় তাঁর কারাবাসের মেয়াদ চার বছর কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই চার বছর স্থগিত দণ্ডাদেশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সব মিলিয়ে ২০২২ সালেই তিনি কারামুক্ত হতে যাচ্ছেন।

প্রধানত সুন্নি অধ্যুষিত সৌদি আরবে সংখ্যালঘু শিয়া সম্প্রদায়ের সদস্য মুর্তাজা ২০১৪ সালে যখন গ্রেপ্তার হন, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর। সে সময় আইনজীবী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো তাঁকে সৌদি আরবের সর্বকনিষ্ঠ রাজনৈতিক বন্দি অভিহিত করেছিল। তাঁর বিরুদ্ধে এমন সব অভিযোগ আনা হয়, যেগুলোর কোনো কোনোটি তিনি তাঁর ১০ বছর বয়সে করেছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। এই যেমন—তাঁর বিরুদ্ধে আনা একটি অভিযোগে বলা হয়, তাঁর বড় ভাই সরকারবিরোধী আন্দোলনকর্মী আলী কুরেইরিশ আরব বসন্ত চলাকালে সৌদির পূর্বাঞ্চলীয় আওয়ামিয়া শহরে পুলিশ স্টেশনে যেদিন ককটেল ছুড়েছিলেন, সেদিন মুর্তাজা তাঁর সঙ্গে ছিলেন। মুর্তাজার বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ, তাঁর ভাইয়ের দাফনকে কেন্দ্র করে যে মিছিলের সূচনা হয়েছিল, তাতে মুর্তাজা অংশ নিয়েছিলেন।

মুর্তাজা নিজে অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করে এসব ব্যাপারে জবানবন্দি নেওয়া হয়, যার ওপর ভিত্তি করে মামলা পরিচালনা করা হয়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এ মাসের প্রথম দিকে তাদের ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে জানায়, মুর্তাজাকে নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে, তাঁকে মারধর করা হয় এবং তাঁর সঙ্গে কথা বলার মাঝখানে বারবার বাধা দেওয়া হয়। এসব অত্যাচার আর মৃত্যুভয় পেরিয়ে ২০২২ সালেই মুর্তাজা মুক্তি পেতে যাচ্ছেন—নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তার তথ্য সে কথাই বলছে।

মূলত ২০১১ সালের শুরুর দিকে সৌদি আরবের শিয়া অধ্যুষিত ইস্টার্ন প্রভিন্সে সরকারবিরোধী অস্থিতিশীলতা প্রবল আকার ধারণ করে। মুর্তাজা ওই অঞ্চলেরই বাসিন্দা। ওই অস্থিতিশীলতার জের তো আছেই, সেই সঙ্গে সৌদি সরকারের শিয়াবিরোধিতার জের ধরে মুর্তাজাকে কারাবন্দি করা হয় বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ। সুন্নিপ্রধান সৌদি সরকার অবশ্য শিয়াবিরোধী বৈষম্যের অভিযোগ সব সময় অস্বীকার করে। না বললেই নয়, গত এপ্রিলে সৌদি সরকার ৩৭ জনের শিরশ্ছেদ করে, যাদের বেশির ভাগই শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষ। তাদের মধ্যে কমপক্ষে তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্কও ছিল। সূত্র: সিএনএন, রয়টার্স।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.