বৃহস্পতিবার , ১৭ অক্টোবর ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ফের ধর্ষণের অভিযোগ মার্কিন লেখিকার

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ফের ধর্ষণের অভিযোগ মার্কিন লেখিকার

জুন ২২, ২০১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে যেন বিতর্ক শেষ হবার নয়। এবার তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছেন ই. জিন ক্যারোল নামে এক মার্কিন লেখিকা। গত শুক্রবার (২১ জুন) ‘নিউ ইয়র্ক ম্যাগাজিন’ এক প্রতিবেদনে এই ধর্ষণের অভিযোগটি উঠে। ই. জিন ক্যারোল নামের ওই নারী জানিয়েছেন, নব্বইয়ের দশকের কোনো এক সময় নিউ ইয়র্কের একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের ড্রেসিং রুমে ট্রাম্প তাকে ধর্ষণ করেন।

তবে, এরই মধ্যে অভিযোগটিকে নিতান্তই গল্প বলে উড়িযে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের দাবি, ক্যারল তার নিজের একটি বই বিক্রির জন্যই এমন গালগল্প বানিয়েছেন। এনিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রায় এক ডজনেরও অধিক সংখ্যক নারীকে যৌন হেনস্তার অভিযোগ এনেছেন। তবে সে সব অভিযোগের পেছনে শক্ত কোন প্রমাণ উপস্থান করতে না পারায় সব অভিযোগই অস্বীকার করেছেন ট্রাম্প।

নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা ই. জিন ক্যারোলের করা অভিযোগ সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘ওই নারীর সঙ্গে আমার জীবনে কোনোদিন দেখাই হয়নি। তিনি তার লেখা নতুন বইটির বিক্রি বাড়ানোর চেষ্টা করছেন; যে কারণে তার এই উদ্দেশ্যটা স্বাভাবিকভাবে বোঝা যাচ্ছে। সবটাই বানানো একটি গল্প মাত্র।’

তাছাড়া অভিযোগকারী ক্যারল মার্কিন ডেমোক্রেটিক দলের হয়ে কিংবা নিউ ইয়র্ক ম্যাগাজিনের জন্য কাজ করছেন; কারো কাছে এমন কোনো তথ্য থাকলেও তা তাৎক্ষণিক হোয়াইট হাউসকে জানানোর জন্য নির্দেশ দেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে অভিযোগটিকে একটি ‘মানহানিকর’ অভিহিত করে; ‘নিউ ইয়র্ক ম্যাগাজিন’কে ভুয়া এবং বানোয়াট খবর প্রকাশের জন্য দায়ী করেছেন মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্প বলেন, ‘ধিক্কার জানাই তাদের; যারা নিজেদের প্রচারের জন্য কিংবা বইয়ের কাটতি বৃদ্ধির জন্য অথবা যেকোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যে এমন মিথ্যা গল্প প্রকাশ করছেন। কোনো ধরণের প্রমাণ ছাড়াই এমন অভিযোগ তোলা নিতান্তই নিন্দনীয়। এসব কেউই বিশ্বাস করবে না।’

ঘটনার কোনো ভিডিও ফুটেজ নেই জানানোয় ‘বার্গডর্ফ গুডম্যান’ কর্তৃপক্ষকে ট্রাম্প নিজের বক্তব্যে ধন্যবাদও জানিয়েছেন।

ক্যারলের অভিযোগ কি ছিলো?

শুক্রবার ‘নিউ ইয়র্ক ম্যাগাজিনে’ প্রকাশিত নিবন্ধে ক্যারল অভিযোগ করেন, ১৯৯৫ সালের শেষ দিকে কিংবা ৯৬এর শুরুতে ট্রাম্পের সঙ্গে নিউ ইয়র্কের ‘বার্গডর্ফ গুডম্যান’ নামে একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে যান ক্যারল। সে সময় তিনি ট্রাম্পকে ‘রিয়েল এস্টেট টাইকুন’ বা ধনকুবের হিসেবেই চিনতেন। তখন ট্রাম্প তাকে কোনো একটি মেয়ের জন্য উপহার কেনার কথাও বলেছিলেন।

ক্যারল জানান, সে সময় তারা দুজন বেশ খোশ মেজাজেই ছিলেন, এমনকি ঠাট্টা-তামাশা করছিলেন। তাছাড়া তখন তারা একে অন্যকে বিভিন্ন ধরনের অন্তর্বাস পরার জন্যও উৎসাহিত করছিলেন।

মূলত এরপরই তারা দুজন দোকানের একটি ড্রেসিং রুমে যান। আর সেখানেই ট্রাম্প তাকে ধর্ষণ করেন বলে ক্যারল তার অভিযোগে জানান।

ঘটনার পর নির্যাতনের শিকার ক্যারল তার দুই বন্ধুকে বিষয়টি জানালে; তাদের মধ্যে একজন তাকে পুলিশের কাছে যেতে বললেও অপরজন বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘ভুলেও তুমি পুলিশের কাছে যেও না। উনার (ট্রাম্প) ২০০ আইনজীবী আছে। তিনি তোমাকে স্রেফ মাটিতে পুঁতে ফেলবেন।’

‘নিউ ইর্য়ক ম্যাগাজিনে’ প্রকাশিত সেই নিবন্ধে ক্যারল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পসহ মোট ছয় পুরুষের বিরুদ্ধে এই যৌন হেনস্তার অভিযোগ তোলেন। ক্যারল সেই নিবন্ধে জানান, ট্রাম্পই শেষ তাকে যৌন হেনস্তা করেছেন; এরপর তিনি আর কোনো লোকের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে মিলিত হননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.