বৃহস্পতিবার , ১৭ অক্টোবর ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত
খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন, চলতি সপ্তাহেই শুনানি

খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন, চলতি সপ্তাহেই শুনানি

জুন ২৩, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক: জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের নথি হাইকোর্টে আসার পর সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে জামিন আবেদন করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে অথবা আগামী সপ্তাহে এই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

আজ রবিবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চে এই আবেদন করা হয়।

খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা খবরটি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, এই মুহুর্তে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য দুটি মামলায় জামিন প্রয়োজন। একটি জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট এবং অপরটি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার আপিল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় জামিন আবেদনের শুনানি করার পর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায়ও খালেদা জিয়ার আপিল যত দ্রুত সম্ভব শুনানির উদ্যোগ নেয়া হবে।

গত ৩০ এপ্রিল জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদনটি নথিভূক্ত করে দুই মাসের মধ্যে মামলার নথি তলব করেছিলেন হাইকোর্ট। এরপর বৃহস্পতিবার ২০ জুন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামানের আদালত থেকে এ নথি পাঠানো হয়। রোববার বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হবে। এরপর যতদ্রুত সম্ভব জামিন আবেদন শুনানির জন্য আদালতে প্রার্থনা করা হবে বলে আইনজীবীরা জানান। এর আগে গত বুধবার এ মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন শুনানি ব্যাপারে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে যান তার আইনজীবীরা। নথি আসলে জামিন আবেদনের শুনানি হবে বলে আদালত আইনজীবীদের জানিয়ে ছিলেন।

এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আজ আমরা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার জামিন আবেদন আদালতে মেনশন করেছি এবং যতদ্রুত সম্ভব শুনানির উদ্যোগ নেব। আশা করি এ মামলায় বেগম খালেদা জিয়া জামিন পাবেন। এছাড়া জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার আপিল আবেদন আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষয় রয়েছে। চেষ্টা করা হবে যতদ্রুত সম্ভব এ মামলার আপিল ও জামিন আবেদনের শুনানি করার।

খালেদা জিয়ার অপর আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেন, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার রেকর্ড আসায় আমরা আদালতে জামিন আবেদন সাবমিশন করিছি। আমরা আশাকরি দ্রুত এই মামলার জামিন আবেদনের শুনানি হবে।

এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, আমরা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার রেকর্ড আসার বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হয়েছে। আমরা আশাকরি বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা, বয়স, সামাজিক মর্যাদা সদয়ভাবে বিবেচনা করে আদালত দ্রুত জামিন আবেদনের শুনানির দিন ধার্য করবেন।

এর আগে গত ১৮ জুন মানহানির দুই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পান বেগম খালেদা জিয়া। ওইদিন আদালতের আদেশের পর খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, এই দুটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর আর দুটি মামলায় তিনি জামিন পেলে মুক্তি পাবেন। একটা হলো জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা, আরেকটা হলো জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা। তিনি বলেন, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায়ও জামিন আবেদন করা হয়েছে। ওই মামলায় নথি আসতে আর ১২দিন বাকী আছে।

মওদুদ আহমদ বলেন, বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলা রয়েছে। দুইটি মামলা ছাড়া এখন সব মামলায়ই তিনি জামিনে রয়েছেন। সর্বশেষ মানহানির ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে দায়ের করা পৃথক দুই মামলায় খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জামিন দিয়েন হাইকোর্ট। তিনি বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাটি আপীল বিভাগে রয়েছে। এই মামলায় তিনি জামিন পেয়েছিলেন। কিন্তু আদালত তার সাজা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করেছে। জিয়া চ্যারিটেবল মামলায় জামিন আবেদনের শেষ হলে অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় জামিন চাওয়া হবে। তিনি বলেন, সরকারের তরফ থেকে কোন জটিলতা তৈরি করা না হলে আগামী দুই আড়াইমাসের মধ্যেই আইনী প্রক্রিয়ায় মুক্তি পাবেন বেগম খালেদা জিয়া।

গত ৩০ এপ্রিল জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিচারিক আদালতের দেয়া সাজা বাতিল ও খালাস চেয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আপিল আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে অর্থদণ্ড স্থগিত এবং সম্পত্তি জব্দের আদেশের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেন আদালত। তবে মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি গ্রহণ করেননি হাইকোর্ট। জামিনের আবেদনটি নথিভূক্ত করে দুই মাসের মধ্যে মামলার নথি তলব করা হয়। নথি পাওয়ার পর জামিন আবেদনের ওপর শুনানি গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছিলেন আদালত। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

ওইদিন শুনানিতে খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে আদালত বলেছিলেন, সাত বছরের সাজার মামলায় আমরা জামিন দেই না, তা না। যেহেতু অন্য একটি মামলায় উচ্চতর আদালত সাজা বাড়িয়ে দিয়েছে। ওই মামলায় জামিন না হলে তিনি মুক্তি পাবেন না। ফলে বিষয়টি জরুরি দেখছি না। মামলার নথি আসুক, তখন জামিনের আবেদনটি দেখা হবে। এ মামলায় রেকর্ড না দেখে বেইল (জামিন) দিচ্ছি না।

গত ১৮ নভেম্বর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে আপিল আবেদন করেন বেগম খালেদা জিয়া। গত বছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। পাশাপাশি ১০ লাখ টাকা টাকা জরিমানা করা হয়। রাজধানীর নাজিমুদ্দিন রোডে পুরোনো ঢাকা কেন্দ্রীয় করাগারে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মো. আখতারুজ্জামান খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, তার একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খানকেও একই দণ্ড দেন আদালত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.