সোমবার , ১৫ জুলাই ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত
শুধু কি আইনই পারে অস্থির সমাজকে স্থির করতে ?

শুধু কি আইনই পারে অস্থির সমাজকে স্থির করতে ?

জুলাই ১১, ২০১৯

কুমিল্লায় একজনের কোপে নিহত হয়েছে তিনজন এবং আরও চারজন গুরুতর আহত ! মাওনা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের তিনজন ছাত্রী অপহৃত হয়েছে গতকাল ! ছোট্ট শিশু ধর্ষন, পাবিারিক কলহ, জনস্বমক্ষে খুন, ছিনতাই সবকিছু মিলেই কেমন যেন অস্থির হয়ে উঠেছে সব !

কি ধরণের পরিবর্তন হচ্ছে চারিদিকে ভাবা যায় না । স্কুল, কলেজ বা যেকোন বিদ্যালয়ে পড়েও নৈতিক শিক্ষার কোন কিচ্ছুই হচ্ছেনা না । ঘটনার ভিতরে ঢুকলে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে অযথা কারণেই ঘটে যাচ্ছে বড় বড় দুর্ঘটনা । কেউ কিছু বোঝার আগেই খরগ নেমে আসছে একেকজন মানুষের জীবনে ।

সমাজ বিজ্ঞানীরা হয়ত অনেক কথাই ভাববেন এ বিষয়গুলো নিয়ে কিন্তু সর্বশেষ ভাবনা একটি জায়গায় গিয়েই স্থবীর হয়ে যাবে সেটা হল আমরা বধির হয়ে গেছি এবং আমরা এখন অন্য মানুষের কথা আর ভাবিনা !

তবে যাই বলিনা কেন সময় এসেছে পরিবর্তন নিয়ে ভাবার । সামাজিক অপরাধ বাড়ার এখন শীর্ষ পর্যায় বলা যেতে পারে । এখান থেকে মানুষকে ফেরাতে হবে । অপরাধ কমানোর জন্য বার বারই বলা হচ্ছে যারা বেশী খারাপ অপরাধে অপরাধী তাদের পক্ষের আইনজীবি নিয়ে ।কথা হচ্ছে দ্রুত বিচার নিয়ে এবং কথা হচ্ছে আইনকে আরও শক্তিশালী করা নিয়ে । সবই ঠিক আছে এর সাথে যেটা করতে হবে তা হল নৈতিক শিক্ষার বিস্তৃতি । যে যেভাবে শিখতে চায় তাকে শিক্ষাটা সেভাবেই দিতে হবে ।

সন্তানকে অনেকেই স্কুলে পাঠায় কিন্তু সন্তান জানেইনা কেন সে স্কুলে যাচ্ছে । স্কুলে পড়লে শুধু ডাক্তার ইজ্ঞিনিয়ার হওয়া যায় না এর সাথে হওয়া যায় ভালো মানুষও ।

মানুষ হওয়ার সঠিক চিন্তাটা সন্তানের মধ্যে ঢুকিয়ে দিন । তাকে জানান বিদ্যালয় মানে শুধু পেশা গ্রহনের পূর্ব প্রস্তুতি নয় । বিদ্যালয়ে যাওয়া মানে একটি নিয়মের মাধ্যমে চলা, বিদ্যালয়ে যাওয়া মানে অনেক মানুষকে সমান করা, তাদের সাথে মার্জিত আচরণ করা ।

আমাদের দেশের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠা আছে সেখানে ক্লাসে পাঠদান হয় খুব কম সময় । সারা বছর পরীক্ষা আর অনুষ্ঠানেই বেশী ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় এ প্রতিষ্ঠানগুলোকে । ছুটির কোন নির্দিষ্ট সময় নেই, বখাটে ছেলেরা এসে স্কুলে ঘুরছে, কোন কোন সময় ছবিও তুলছে তারপর মেয়েদের অপহরণের মত ঘটনা ঘটাচ্ছে । এ বিষয়গুলো প্রশাসনিকভাবে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি ।শিক্ষকদের মধ্যে নৈতিক শিক্ষা প্রদানের বিষয়গুলো আরও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন ।

মানবিক আচরণ শেখানোর জন্য সন্তানের সাথে মানবিক বিষয়গুলো নিয়ে বার বার কথা বলুন । তাদের চেয়ে নিচের স্তরের মানুষ কেমন আছে তাদের কথা সন্তানের কাছে বলুন । সবচেয়ে ভালো উপায় হল সন্তানদের বিকেলে বা সন্ধ্যার পর নিয়ে বাইরে বের হয়ে সমাজের প্রতিটি উপাদান সম্পর্কে কথা বলুন । পরিবার থেকে যে নীতি কথা শেখা এটাই হল আসল অর্জন । শিশুদের সহিংশতা থেকে আমাদের রক্ষা করতে হবে ।গতাল শ্রীপুরের মাওনা থেকে অপহৃত তিনজনের মধ্যে একজন লাফ দিয়ে বেঁচে না গেলে হয়ত এই মেয়েটিকেও পাওয়া যেত নিস্তেজ দেহ নিয়ে পড়ে থাকতে !

সমাজে বিশৃঙ্ক্ষল মানুষ কমিয়ে আনার জন্য কঠোর বিচারের পাশাপাশি মসজিদের ক্ষুদবার আলোচনায় জায়গায় সামাজিক অপরাধগুলোর বিষয়ে বয়ানের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন প্রতি শুক্রবারেই । স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে দ্রুত । প্রতিটি এলাকায় তাদের ভালো কাজগুলোকে ছড়াতে হবে । সরকারের সমাজকল্যান মন্ত্রনালয় এ কাজটি করতে পারে । তারা নিজেরা সমাজের কল্যানের জন্য সেচ্ছাসেবী সংগঠন করে দিতে পারে । বিষয়টি এমন নয় যে একটি সংগঠনের জন্য আবেদন করা হল তারপর তা অনুমোদন দেয়া হল । বিষয়টি হতে হবে সমাজকল্যান অধিদপ্তরগুলো থেকে স্কুল ও কলেজের ভালো ভালো নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত ছেলেমেয়ে দিয়ে প্রত্যেক এলাকায় একটি করে সংগঠন করে দেয়া । তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বলে আসবে নেশা থেকে মুক্তির কথা, তারা কাজ করবে সত্য উদঘাটনে তারা কাজ করবে মানবিক বোধ উন্নয়নে ।

সমাজ নিয়ে কোন ভাবনাই কাজে দিচ্ছেনা । যা চিন্তাও করা যায়না সেগুলোই ঘটছে স্পষ্ট । একজন রিকশাওয়াল যিনি কুপিয়ে হত্যা করে ফেলেছেন তিনজনকে । কি ভয়ানক লোকের বসবাস আমাদের চারপাশে ! ছোট্ট শিশুকে খেলার ছলে নিয়ে ধর্ষন করে হত্যা করল সে ফ্ল্যাটেরই একজন ! আসলে আমরা যখন মনে করি আমাদের উন্নতি হচ্ছে তখন আমরা ভুলে যাচ্ছি উন্নতির সাথে সমসাময়িকভাবে আর কি কি কাজ আমাদের করা প্রয়োজন । অবকাঠামো উন্নয়নে যে এসডিজির কথা বলা হয় সেখানে সাসটেইনেবল মানসিকতা উন্নয়নের বিষয়গুলোও যুক্ত করতে হবে । অপরাধ শিখে ফেলার জায়গাগুলো বন্ধ করে দিতে হবে । বন্ধ করতে হবে টিভিতে প্রচারিত অপরাধ বিষয়ক অনুষ্ঠানগুলি ।

এখনকার এই অস্থির সময়গুলো স্থির করণে অনেকগুলো কাজকে সামনে নিয়ে আসতে হবে । নীতিবোধ যেমনি জাগ্রত করতে হবে তেমনি আইনকে ব্যবহার করতে হবে । পাশাপাশি আমাদের সচেতন হতে হবে আমাদের শিশুদেরকে নিয়ে । কৈশর অপরাধ কমাতে উদ্যোগী হতে হবে বাবা মায়েরই । ছোট বয়সে যদি সন্তানদের সঠিক পথে রাখা যায় তবেই কেবল সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে । কমন কথাগুলো যতটা কমন আসলে ততটা সহজ কাজ নয় । কাজগুলোকে সহজ করার জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাই পারে সুন্দর কিছু উপহার দিতে । আসুন দেশটার জন্য ভাবি, আসুন কাজ করি দেশের জন্য । অস্থির সমাজকে স্থির করনে মূল্যবোধের শিক্ষার আলোর গাছ বুনি আর সে আলো ছড়িয়ে দেই প্রতিটি ঘরে ঘরে ।

সাঈদ চৌধুরী

সদস্য, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি

ও রসায়নবিদ

শ্রীপুর, গাজীপুর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.