রবিবার , ২৫ আগস্ট ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত
বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি, নারী নিহত

বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি, নারী নিহত

জুলাই ২০, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার উত্তর বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে এক নারীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। নিহত নারীর পরিচয় জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

আজ শনিবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে উত্তর বাড্ডার কাঁচাবাজারের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত অবস্থায় ওই নারীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বাড্ডা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ছেলেধরা সন্দেহে এক নারী গণপিটুনির শিকার হয়েছেন। খবর পাওয়ার পর পুলিশ গিয়ে ওই নারীকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয়রা জানান, উত্তর বাড্ডায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি মাদরাসা পাশাপাশি। সেখানে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তিনজন বোরকা পরিহিত নারী যান। তারা স্কুলের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। বাধার মুখে দু’জন পালিয়ে গেলেও আরেক গণপিটুনির শিকার হন।

বান্দরবানে ছেলেধরা সন্দেহে রোহিঙ্গা তরুণীকে গণপিটুনি
এবার ছেলেধরা সন্দেহে বান্দরবানে এক রোহিঙ্গা তরুণীকে (১৮) পিটুনি দিয়ে পুলিশে হস্তান্তর করেছেন স্থানীয়রা। শুক্রবার বিকেলে জেলার বালাঘাটা এলাকার পাহাড়ি অঞ্চলে এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানায়, বালাঘাটার লেমুঝিরি ও অক্ষ্যংঝিরির মাঝামাঝি পাহাড়ে গরু চরাচ্ছিল বিজয় ইসলাম শুভ (১৫) নামের এক কিশোর। এ সময় আটক তরুণী ও আরও তিন তরুণ তাকে ধাওয়া করে। পরে কিশোরের চিৎকারে এলাকাবাসী ওই তরুণীকে ধরে ফেলেন।

অক্ষ্যংঝিরির বাঙালি পরিবারের সন্তান কিশোর বিজয় ইসলাম জানায়, সে গরু চরানোর সময় হঠাৎ ওই তরুণী এসে তাঁকে ডাক দেয় এবং সঙ্গে যাওয়ার জন্য বলে। কিন্তু সে যেতে অস্বীকার করলে তরুণী তাকে ধাওয়া করে। এ সময় আরও তিন তরুণ এসে তাকে ঘেরাও করার চেষ্টা করে। তখন সে চিৎকার দিলে তরুণ তিনজন পালিয়ে যায়। অন্যদিকে স্থানীয় লোকজন এসে পালানোর সময় পড়ে যাওয়া তরুণীকে ধরে ফেলে।

এদিকে বান্দরবান সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই রোহিঙ্গা তরুণীর নাম রোকেয়া বেগম (১৮)। সে জানায়, সে ছেলেধরা নয়। থাকে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে। বিবাহিত এ তরুণীর স্বামীর নাম হামিদ উল্লাহ। শরণার্থী শিবির থেকে চিকিৎসার জন্য বাবার সঙ্গে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে গিয়েছিল।

রোহিঙ্গা তরুণী আরও জানায়, শুক্রবার সকালে হাসপাতালে যাওয়ার জন্য বের হলে তিন যুবক তাকে ট্যাক্সিতে তুলে সরাসরি বান্দরবানে নিয়ে আসে। এরপর ওই পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে তারা তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। সে পালানোর চেষ্টা করার সময় পথে ওই কিশোরের দেখা পায় এবং কিশোরের কাছে সাহায্য চায়। কিন্তু কিশোরটি ভুল বুঝে চিৎকার দিলে এলাকাবাসী এসে তাকে ধরে ফেলে এবং পিটুনি দেয়।

রোকেয়া বেগম ভাষ্য মতে, যে তিন তরুণ তাকে চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবানে নিয়ে আসে, তাদের নাম রহমত উল্লাহ, আয়াত উল্লাহ ও জাবেদ। তাদের নাম জানতে পারলেও তাদের ঠিকানা জানতে পারেনি সে।

বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গা তরুণীকে চট্টগ্রাম থেকে কারা কীভাবে কী উদ্দেশ্যে নিয়ে এসেছে- তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। মারধরে তরুণীটি সামান্য আহত হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় এখনো জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি।

তবে দেশব্যাপী যে ছেলেধরার গুজব ছড়িয়ে পড়েছে- তাতে কান না দিয়ে এবং আতঙ্কিত না হওয়ার জন্যও সবার প্রতি আহবান জানান ওসি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.