সোমবার , ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত
ফ্ল্যাস ব্যাক: বঙ্গবন্ধুর ৫ হত্যাকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

ফ্ল্যাস ব্যাক: বঙ্গবন্ধুর ৫ হত্যাকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

আগস্ট ১৫, ২০১৯

ডেস্ক রিপোর্ট: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে ইতোমধ্যে ৫ আসামির ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়েছে। ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এর মধ্য দিয়ে জাতির ইতিহাসের একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়ের অবসান ঘটে।

ওইদিন রাত ১২টা ১ মিনিটে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রথমে সেনাবাহিনীর সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ (আটিলারী) ও সাবেক মেজর বজলুল হুদার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এর কয়েক মিনিট পর বহিষ্কৃত লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমানের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। সর্বশেষে সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাহরিয়ার রশিদ খান এবং এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদের (ল্যান্সার) মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সামগ্রিক প্রক্রিয়া ৪০ মিনিটের মধ্যেই সম্পন্ন করা হয়।

ফাঁসির মঞ্চ থেকে বের হয়ে কারা কর্মকর্তারা ব্যাপক নিরাপত্তাবেষ্টিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটকে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা জানান। এ সময় কারাগারের বাইরের বিভিন্ন রাস্তায় শত শত উৎসুক মানুষের ভিড় ছিল।

২৮ জানুয়ারি ফাঁসি কার্যকর করার দিন সন্ধ্যার পর র‌্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও সাদা পোশাকধারী পুলিশ ঢাকা কারাগারের চারদিকে অবস্থান নেয় এবং কয়েক ঘণ্টা কারাগার ভবনের চারদিকের রাস্তা বন্ধ রাখে।

কারা কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, এ ফাঁসি প্রত্যক্ষ করতে কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশরাফুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক জিল্লার রহমান, সিভিল সার্জিন ডা. মুশফিকুর রহমান ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অভিজিৎ সরকার কারাগারে প্রবেশ করেন।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সময় সেই সময়ের স্বরাষ্ট্র সচিব আবদুস সোবহান সিকদার ও ঢাকার পুলিশ কমিশনার এ কে এম শহিদুল হক উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ফাঁসির সেলে বন্দি সাবেক এ পাঁচ সেনা কর্মকর্তার ৬১ জন ঘনিষ্ঠ আত্মীয় শেষবারের মতো তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাদের মধ্যে মহিউদ্দিন আহমেদের আটক দুই পুত্রকে তাদের বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করাতে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়।

১৯৯৮ সালে প্রথম বিচারিক আদালত সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যার অপরাধে ১৫ সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। পরবর্তীতে হাইকোর্ট তাদের মধ্যে ৩ জনকে বেকসুর খালাস দেন।

দোষী সাব্যস্ত ১২ জনের মধ্যে ২৮ জানুয়ারি ৫ জনের ফাঁসি কার্যকর করা হলেও বাকিরা পলাতক। পালিয়ে থাকা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- আবদুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, এসএইচএমবি নূর চৌধুরী, মোসলেমউদ্দিন, রাশেদ চৌধুরী ও আবদুল মাজেদ বিদেশে পালিয়ে আছেন। তাদের গ্রেফতারে ইন্টারপোলের পরোয়ানা রয়েছে। দণ্ডিত অপরজন আবদুল আজিজ পাশা পলাতক অবস্থায় জিম্বাবুয়েতে মারা যান।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট একদল সেনা বিপদগামী সদস্য ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে হানা দিয়ে আত্নীয়-স্বজনসহ তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.