সোমবার , ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত
শিশুদের বিচারে আলাদা আদালত হওয়া জরুরি: ইমান আলী

শিশুদের বিচারে আলাদা আদালত হওয়া জরুরি: ইমান আলী

আগস্ট ২৫, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রে শিশুদের জন্য আলাদা আদালত রয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে এখনও আমরা করতে পারিনি। আইনেই বলা আছে শিশু অপরাধীর বিচার তাড়াতাড়ি করতে হবে। কেননা তাদের ভবিষ্যত সামনে। তাকে ভালো হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। তাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিশু আদালত স্থাপন করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিমকোর্টের স্পেশাল কমিটি অন চাইল্ড রাইটসের (এসসিএসসিসিআর) সভাপতি ও আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী।

শনিবার জাতিসংঘের শিশু তহবিল বা ইউনিসেফ এবং সুপ্রিমকোর্টের বিশেষ কমিটি যৌথভাবে আয়োজিত সুপ্রিকোর্টের সম্মেলন কক্ষে ‘শিশু আইন ২০১৩’ নিয়ে বিভাগীয় পরামর্শ সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ২০১৭ সালের মে মাসে আইনমন্ত্রী হিসেবে নিজে পৃথক শিশু আদালত প্রতিষ্ঠার কথা বলেছিলেন। কিন্তু দুই বছর কেটে গেলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এটা করতে সরকারের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে বলে মনে হয়। তিনি শিশু আইন করারও তাগিদ দেন। তিনি বলেন, শিশুদের বিচারের জন্য আলাদা আইন দরকার। নতুন আইন না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় মেনে চলতে হবে। এই রায়ই আইন।

অনুষ্ঠানে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ, বিচারপতি নাইমা হায়দার আলোচনায় অংশ নেন। এ ছাড়া খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুালর বিচারক ও পাবলিক প্রসিকিউটর, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্টেট এবং চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা উপস্থিতি ছিলেন।

বিচারপতি ইমান আলী বলেন, শিশুদের জন্য পৃথক আদালত হওয়া উচিত। কারণ, শিশুদের বিচার হবে সংশোধনের উদ্দেশ্যে, শাস্তি দেয়ার উদ্দেশে নয়। শিশু আর প্রাপ্তবয়স্ক অপরাধীর বিচার একরকম নয়। তাই শিশুদের বিচারে আলাদা আদালত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। কেননা তাদের ভবিষ্যত সামনে। তাকে ভালো হওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ বলেন, আমরা প্রায়ই লক্ষ করি যে কোনো একটি অপরাধ সংগঠনের পর যদি শিশুকে আসামি করা হয় তবে তার নাম-পরিচয়, ছবি প্রকাশ করা হয়ে থাকে গণমাধ্যমে। যা ঠিক নয়।’ তিনি বলেন, শিশুকে সংশোধনের সুযোগ দিতে হবে। সে হয়তো যেকোনো কারণেই হোক অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছে। কিন্তু তার পরিচয় যদি প্রকাশ হয়ে যায় তবে সমাজে তার আর ফিরে আসার সুযোগ কমে যায়। তিনি বলেন, আইনে আছে শিশুর পরিচয় গোপন রাখতে হবে। এ বিষয়ে হাইকোর্টের রায়ও আছে। তাই এ বিষয়টি গণমাধ্যমের মেনে চলা উচিত।

উল্লেখ্য, শিশুদের বিচারের ক্ষেত্রে সর্বশেষ গত ২১ আগস্ট সাত দফা নির্দেশনা দিয়ে হাইকোর্টের একটি রায় প্রকাশিত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.