সোমবার , ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত
পরিচর্যার অভাবে শিশুরা অপরাধে জড়িয়ে পড়ে: বিচারপতি ইমান আলী

পরিচর্যার অভাবে শিশুরা অপরাধে জড়িয়ে পড়ে: বিচারপতি ইমান আলী

আগস্ট ৩১, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুপ্রিম কোর্ট স্পেশাল কমিটি ফর চাইল্ড রাইটস -এর চেয়ারম্যান ও আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী বলেছেন,শিশুরা অপরাধ করার প্রবণতা নিয়ে জন্মায় না, অপরাধী হয়েও জন্ম নেয় না। মা-বাবা ঠিকমতো পরিচর্যা করতে পারে না বলে শিশুরা খারাপ পথে চলে যায়। নানা ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। এছাড়া পারিপার্শ্বিক অবস্থাও এজন্য দায়ী।

আজ শনিবার (৩১ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে সুপ্রিম কোর্ট স্পেশাল কমিটি ফর চাইল্ড রাইটস ও ইউনিসেফ যৌথভাবে আয়োজিত পুলিশ সদস্য ও সমাজসেবা অফিসারদের অংশগ্রহণে ‘ডাইভারশন ফ্রম দ্য পুলিশ স্টেশন আন্ডার দ্য চিলড্রেন অ্যাক্ট ২০১৩’ শীর্ষক কর্মশালায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী বলেন, শিশু বিচারব্যবস্থা দেখার জন্য নিউজিল্যান্ডে গিয়েছিলাম। সেখানে আমাকে বলা হয়েছিল যে, থানা থেকেই ৭০ থেকে ৭৫ ভাগ আসামি বা শিশুদের মামলা নিষ্পত্তি করে দেওয়া হয়। এভাবে ১০০ থেকে ৭৫ জন চলে গেলে মাত্র ২৫ জন যাবে কোর্টে। কোর্টে যাওয়ার পর কোর্ট থেকে আরও ১০ থেকে ১৫ ভাগ ডাইভারশনের মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তি করা হয়।

কর্মশালায় উপস্থিত পুলিশ সদস্য ও সমাজসেবা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের সর্বপ্রথম মনে রাখতে হবে, আমরা যাদের নিয়ে কাজ করতে যাচ্ছি বা করছি, তারা হচ্ছে আমাদের দেশের শিশু। শিশুরা নিষ্পাপ হয়, অবুঝ হয়। তারা ঠিকমতো চিন্তাভাবনা করে কোনও কাজ করে না।

তিনি বলেন, একটি শিশু খাবার চুরি করে। খাবার চুরি করে কেন? পেটে ক্ষুধা লাগলে পরে খাবার চুরি করে। একটি মোবাইল চুরি করে কেন? তার বন্ধুর সঙ্গে মোবাইলে কথা বলার জন্য নয়। মোবাইল চুরি করে সেটা বিক্রি করে যে টাকা পাবে সে টাকা দিয়ে সে তার প্রয়োজনীয় কিছু একটা কিনবে, যে জিনিসটি তার মা-বাবা তাকে দিতে পারেনি। মা-বাবা যোগান দিতে পারে না বলে শিশুরা খারাপ পথে চলে যায়। মা-বাবা ঠিকমতো পরিচর্যা করতে পারে না বলে শিশুরা খারাপ পথে চলে যায়। আমাদের সমাজব্যবস্থা এমন যে, মা-বাবাদের সন্তানদের ঠিকমতো দেখাশুনা করার ব্যবস্থা নেই। আমাদের সেই মা-বাবার জন্য কর্মসংস্থান করে দিতে হবে। চাকরির ব্যবস্থা করে দিতে হবে।

কর্মশালায় উপস্থিত প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাজটা হচ্ছে শিশুদের কীভাবে ভালো পথে নিয়ে আসবো। কী করলে ভালো হবে এটা নিয়ে চিন্তা করতে হবে। সেজন্য প্রবেশন অফিসার এবং পুলিশ সদস্যদের যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে।

কর্মশালায় আরও বক্তব্য রাখেন, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ, বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার, ঢাকা মহানগর পুলিশের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার ফরিদা ইয়াসমিন, সমাজসেবা অধিদফতরের পরিচালক (ইনস্টিটিউশন) মো. আবু মাসুদ ও ইউনিসেফ বাংলাদেশের চাইল্ড প্রোটেকশন স্পেশালিস্ট শাবনাজ জাহেরীন প্রমুখ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.