রবিবার , ২০ অক্টোবর ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত
আন্দোলনরতদের সঙ্গে বুয়েট শিক্ষক সমিতির একাত্মতা প্রকাশ

আন্দোলনরতদের সঙ্গে বুয়েট শিক্ষক সমিতির একাত্মতা প্রকাশ

অক্টোবর ৮, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক: মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে যে সাত দফা দাবি জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা, তার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে বুয়েটের শিক্ষক সমিতি। এসময় শিক্ষক সমিতির সভাপতি একেএম মাসুদ ফাহাদ হত্যার জোরালো দাবি জানিয়েছে বলেন, বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা দরকার।

আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় আবরার হত্যার বিচার চেয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে তিনি এ ঘোষণা দেন।

একেএম মাসুদ বলেন, অতীতে যেসব বেআইনি ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর কোনো বিচার হয়নি। তারই খেসারত হিসেবে আজকের এই হত্যাকাণ্ড। আগের ঘটনার কোনো ব্যবস্থা নিলে এ ঘটনা ঘটত না। শিক্ষক সমিতির সদস্যরা গতকাল ভিসির সঙ্গে দেখা করেন। তিনি বলেছিলেন ব্যবস্থা নেবেন। তারপর আর তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। শিক্ষক সমিতি ছাত্রদের এই আন্দোলনের সঙ্গে একমত। এটি যৌক্তিক বলে মনে করে।

এদিকে বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ছাত্রকল্যাণ পরিচালক প্রফেসর মিজানুর রহমান বলেন, চলমান পরিস্থিতির আলোকে বু‌য়ে‌টে ছাত্ররাজনী‌তির কোনো প্রয়োজন নেই। আমরা বৈঠকে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব। বুয়েটের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব আমাদের।

এর আগে আজ সকাল থেকেই বুয়েটের প্রধান ফটকের সামনে অনস্থান নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন নিহত আবরারের সহপাঠীরা। এসময় ‘বিচার চাই, বিচার চাই’, ‘এই মৃত্যু উপত্যকা আমার বু‌য়েট না’, ভয় নেই আমরা আছি, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ ইত্যাদি শ্লোগান উত্তাল করে ক‌রে তু‌লে বু‌য়েট ক্যাম্পাস।

প্রসঙ্গত ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে শনিবার বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন ফাহাদ। এর জের ধরে রোববার রাতে শেরেবাংলা হলের নিজের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে তাকে ডেকে নিয়ে ২০১১ নম্বর কক্ষে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পিটুনির সময় নিহত আবরারকে ‘শিবিরকর্মী’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালায় খুনিরা।

ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, তার মরদেহে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আবরার বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭ তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন।

গতকাল সোমবার আবরার হত্যার প্রতিবাদে দিনভরই উত্তপ্ত ছিল বুয়েট ক্যাম্পাস। গতকাল দুপুর থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত শেরেবাংলা হলের প্রভোস্টকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। তারা হলের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা রোববার রাতের ফুটেজ দেখানোর এবং দোষী ব্যক্তিদের নাম প্রকাশের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

এ ঘটনায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলসহ মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় ১৪ জন জড়িত বলে জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কৃষ্ণপদ রায়।

এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে তার বাবা চকবাজার থানায় সোমবার রাতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। বুয়েট কর্তৃপক্ষ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে। পাশাপাশি গঠন করেছে একটি তদন্ত কমিটিও। এদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলায় বুয়েট শাখার সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১১ জনকে ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.