বুধবার , ১৩ নভেম্বর ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত
ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ায় খুলনায় প্রবীণ সাংবাদিক গ্রেফতার

ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ায় খুলনায় প্রবীণ সাংবাদিক গ্রেফতার

অক্টোবর ২২, ২০১৯

খুলনা প্রতিনিধি: ভোলার ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ায় খুলনার প্রবীণ সাংবাদিক দ্য নিউ নেশন পত্রিকার খুলনা প্রতিনিধি খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনির উদ্দিন আহমেদ শান্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে পুলিশ। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিরুল ইসলামের আদালতে আজ মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) রিমান্ড শুনানি হবার কথা রয়েছে।

সোমবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তার বিরুদ্ধে খুলনা সদর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে (আইসিটি এ্যাক্ট) মামলার পর তাকে মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে রবিবার (২০ অক্টোবর) রাত আড়াইটার দিকে নগরীর দোলখোলা এলাকার বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। খুলনার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) আসলাম বাহার বুলবুল এই তথ্য জানিয়েছেন।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রবিবার রাতে তাকে থানায় আনা হয়। পরে খুলনা সদর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক শরিফুল আলম বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন। মামলা নং- ২৩, তাং (২১.১০.১৯ইং)।

সাংবাদিক মুনির উদ্দিন ভোলার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন বলে মামলায় বলা হয়।

তার বিরুদ্ধে উসকানি দেয়া, দেশের শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্ট করা, সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করা, হিন্দু-মুসলমানদের সম্প্রীতি বিনষ্ট করা এবং পুলিশ বাহিনীর মনোবল নষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

খুলনা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র এডিসি শেখ মনিরুজ্জামান মিঠু জানান, মনির আহমেদ তার ফেসবুক পেজে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় উসকানিমূলক স্ট্যাটাস দেন।

এতে ভোলার পুলিশ সুপারকে নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক মন্তব্য করায় ঊর্ধ্বতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ হয়। এ জন্য পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে তার বাসা থেকে মোবাইল ফোন জব্দ করে পুলিশ।

এডিসি আরও জানান, মনির উদ্দিন আহমেদ শান্তি ভোলার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকার সঙ্গে ইসরায়েলি পুলিশ বা ইহুদিদের সঙ্গে তুলনা করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ফেসবুকে আরও একটি স্ট্যাটাস পোস্ট করেন তিনি, যাতে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সম্প্রতি বিনষ্ট করার প্রমাণ পায় পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সাইদুর রহমান বলেন, তার ফেসবুক স্ট্যাটাস ছিল উসকানিমূলক। তাকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.