বুধবার , ২০ নভেম্বর ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত
নুসরাত হত্যার ১৬ আসামি আদালতের এজলাসে

নুসরাত হত্যার ১৬ আসামি আদালতের এজলাসে

অক্টোবর ২৪, ২০১৯

ফেনী প্রতিনিধি: সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার রায় আজ বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে। ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ রায় ঘোষণা করবেন। ইতিমধ্যে কারাগার থেকে আদালতের এজলাসে নেয়া হয়েছে গ্রেফতারকৃত ১৬ আসামিকে। বেলা ১১টার পর আদালতের কার্যক্রম শুরু হবে।

এ মামলায় অপরাধ প্রমাণ হয়েছে দাবি করে আসামিদের ‘সর্বোচ্চ শাস্তি’ দাবি করেছেন রাষ্ট্র ও বাদীপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, আসামিরা যে রাফির গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে তা আদালতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আশা করছি, আসামিরা সর্বোচ্চ শাস্তি পাবে। মামলার রায় বাংলাদেশে উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী ফেনী বারের সিনিয়র অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিন নান্নু ও কামরুল হাসান দাবি করেছেন, ন্যায়বিচারে আসামিরা খালাস পাবেন। কারণ রাষ্ট্রপক্ষ তাদের মামলার কিছুই প্রমাণ করতে পারেনি।

ফেনীর মানবাধিকার নেতা ও আন্তর্জাতিক অপরাধ বিশ্লেষক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম নান্টু বলেন, এ মামলায় এমন একটা রায় চাই, যে রায় উদাহরণ হয়ে থাকবে। এর ফল হিসেবে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠবে।

এ মামলার ১৬ আসামি হলেন- সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদ্রাসার শিক্ষক আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদ্রাসার ছাত্র নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহি উদ্দিন শাকিল।

রায়কে ঘিরে ফেনী ও সোনাগাজীর বিভিন্ন স্থানে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আদালতের ভেতরে সাদা পোশাক ও ইউনিফরম পরা অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছেন। সেখানে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিও দেখা গেছে। এছাড়া আদালত ভবনের বাইরের প্রাঙ্গণে র‍্যাব ও পুলিশ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। আদালত এলাকায় ঢুকতে প্রত্যেককে তিন স্তরের নিরাপত্তা তল্লাশি পার হতে হচ্ছে। শুরুতে ঢাকা চট্রগ্রাম পুরতন সড়কে, এরপর আদালত প্রাঙ্গণে ঢোকার মূল গেট ও আদালত ভবনে ঢোকার সময় তল্লাশি করা হচ্ছে। শহরের ট্রাংক রোড় ও পাগলা মিঞা সড়কেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

শহরের মোড়ে মোড়ে নিরাপত্তা তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে। আদালত পাড়ার আশপাশে রাস্তাতেও পুলিশ সদস্যরা অবস্থান করছেন। আদালত প্রঙ্গণের আশপাশের সব দোকানপাট বন্ধ রয়েছে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর এ মামলার দুই পক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ রায়ের জন্য আজকের দিন ঠিক করেন।

নুসরাত হত্যা মামলাটি দায়ের করা হয় ৮ এপ্রিল। নুসরাতের ভাই নোমান এই মামলার বাদী। ১০ এপ্রিল থানা থেকে মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মোট ৩৩টি কার্য দিবসে ১৬জন আসামিকে অভিযুক্ত করে এই মামলার চার্জশিট দেয় পিবিআই। পরবর্তীতে ২০ জুন চার্জ গঠন এবং ২৭ জুন সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। চার্জশিটে মোট ৯১ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৭ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, নুসরাত জাহান রাফি সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিমের পরীক্ষার্থী ছিলেন। ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে এর আগে ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এসময় তাকে কৌশলে একটি বহুতল ভবনে ডেকে নিয়ে যায় অধ্যক্ষের ভাগ্নি পপি। সেখানে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান নুসরাত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.