সোমবার , ৯ ডিসেম্বর ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত
মুন সিনেমার জমি ১০ নভেম্বরের মধ্যে রেজিস্ট্রি করার নির্দেশ

মুন সিনেমার জমি ১০ নভেম্বরের মধ্যে রেজিস্ট্রি করার নির্দেশ

October 27, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুরনো ঢাকার ওয়াইজঘাটের মুন সিনেমা হলের জমি ও স্থাপনা মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের অনুকূলে ১০ নভেম্বরের মধ্যে রেজিস্ট্রি করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। একইসাথে এই বিষয়ে আগামী ১১ নভেম্বর পরবর্তী আদেশ দেয়া হবে বলে জানিয়েছে আদালত।

রবিবার (২৭ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। মুন সিনেমা হলের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি। সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট সাইফুল্লাহ মামুন।

এর আগে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ ৩০ জুনের মধ্যে ৯৯ কোটি ২১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৪ টাকা ২৭ পয়সা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছিলেন। জমি রেজিস্ট্রি নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়ায় সরকার টাকা দেয়া থেকে বিরত থাকে। শেষ পর্যন্ত উভয়পক্ষের সমঝোতার পর আপিল বিভাগ জমি রেজিস্ট্রি করে দেয়ার নির্দেশ দেন।

তার আগে গত বছরের ৮ অক্টোবর এ অর্থ পরিশোধে সম্মত হয়েছিল অর্থ মন্ত্রণালয়। সেই টাকা মূল মালিককে পরিশোধের জন্য সরকারকে দুই মাস সময় দিয়েছিলেন আদালত।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাটে একসময়ের মুন সিনেমা হলের মূল মালিক ছিল ইতালিয়ান মার্বেল ওয়ার্কস লিমিটেড নামের একটি কোম্পানি। মুক্তিযুদ্ধের সময় ওই সম্পত্তি ‘পরিত্যক্ত’ ঘোষণা করা হয় এবং পরে শিল্প মন্ত্রণালয় ওই সম্পত্তি মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনে ন্যস্ত করে।

ইতালিয়ান মার্বেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাকসুদুল আলম ওই সম্পত্তির মালিকানা দাবি করলেও বিষয়টি আটকে যায়। ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান একটি সামরিক ফরমান ঘোষণা করেন। এতে বলা হয়, সরকার কোনো সম্পত্তিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করলে আদালতে তা চ্যালেঞ্জ করা যাবে না। মুন সিনেমা হলের সম্পত্তিও এর আওতায় পড়ে যায়।

এর পর ২০০০ সালে ইতালিয়ান মার্বেল ওয়ার্কস হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করে, যেখানে সংবিধানের ওই পঞ্চম সংশোধনী চ্যালেঞ্জ করা হয়। ২০০৫ সালের ২৯ আগস্ট হাইকোর্ট যে ঐতিহাসিক রায় দেয়, তাতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর খন্দকার মোশতাক, বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম, মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা গ্রহণ সংবিধানবহির্ভূত ও বেআইনি ঘোষণা করা হয়।

সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ ২০১০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে এবং ৯০ দিনের মধ্যে মুন সিনেমা হল ইতালিয়ান মার্বেল ওয়ার্কস লিমিটেডকে ফেরত দিতে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টসহ সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দেন।

এর পর দীর্ঘদিনেও মালিকানা ফিরে না পেয়ে ২০১২ সালের ১০ জানুয়ারি ইতালিয়ান মার্বেল কর্তৃপক্ষ তখনকার ভূমি সচিব, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ দাখিল করে।

সেই অভিযোগের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, ১৯৭২ সালে মুন সিনেমা হল মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২০০১ সালে প্রতীকী মূল্য ১ টাকা দরে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট তা হস্তান্তর করে ডেভেলপারদের কাছে। ডেভেলপাররা মূল সিনেমা হলটি ভেঙে বহুতল ভবন নির্মাণ করে এবং নিজেদের অংশ বর্তমান দোকান মালিকদের কাছে বিক্রি করে দেয়।

এ অবস্থায় মুন সিনেমা হল আগের অবস্থায় ফেরত দেয়ার কোনো উপায় নেই জানিয়ে জমির মূল্য ও মুন সিনেমা হলের মূল কাঠামোর মূল্য ধরে এর মালিককে দেয়া যেতে পারে বলে আদালতে মত দেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

ওই শুনানির পর আপিল বিভাগ সিনেমা হলের জমি, স্থাপনার মূল্য নির্ধারণের জন্য অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীকে দায়িত্ব দেয়। তিনি মুন সিনেমা হল ও এর জায়গার মূল্য ৯৯ কোটি ২১ লাখ টাকা নির্ধারণ করে প্রতিবেদন দেন।

ওই প্রতিবেদন পাওয়ার পর চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি মুন সিনেমা হলের মালিককে ওই অর্থ তিন কিস্তিতে পরিশোধের জন্য মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টকে নির্দেশ দেন আদালত।

আদেশে বলা হয়, প্রথম কিস্তিতে দুই মাসের মধ্যে ২৫ কোটি টাকা, পরের দুই মাসের মধ্যে আরও ২৫ কোটি এবং বাকি টাকা ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট বলে আসছিল, এত টাকা দিতে তারা অপারগ। সরকারকেই এ দায় শোধ করতে হবে।

About বিডি ল নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.