সোমবার , ১১ নভেম্বর ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত
ধানমন্ডিতে জোড়া খুনের দায় স্বীকার সুরভীর

ধানমন্ডিতে জোড়া খুনের দায় স্বীকার সুরভীর

নভেম্বর ৪, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর ধানমন্ডিতে গলাকেটে জোড়া খুনের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত গৃহকর্মী নাহিদা আক্তার সুরভীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার সম্পৃক্ততা পেয়েছে পুলিশ। এই তথ্য নিশ্চিত করেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায়।

রবিবার (০৩ নভেম্বর) রাতে রাজধানীর আগারগাঁও বস্তি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার শেরেবাংলা থানা পুলিশ। রাতে ধানমণ্ডি থানায় তাকে হস্তান্তর করা হয়। সুরভী খুনের ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিলেন।

গ্রেফতারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গৃহকর্ত্রী আফরোজা বেগম ও গৃহকর্মী দিতিকে হত্যার কথা স্বীকার করে সুরভী আক্তার বলেছে, স্বর্ণালঙ্কার লুট করতে দুইজনকে একাই হত্যা করেছি।

একা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে সুরভী জানালেও এই ঘটনায় আরো কেউ জড়িত কি-না, সেই বিষয়ে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ। তার গ্রামের বাড়ি ভোলার কালুপুরে।

পুলিশ জানায়, গৃহকর্মী সুরভীর দেয়া তথ্যের ভিত্তিকে জড়িত অন্যান্যদের আটক করতে অভিযান অব্যাহত আছে। এর আগে এই ঘটনায় জড়িত আরো ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

এর আগে রোববার নিহত গৃহকর্ত্রী আফরোজা বেগমের মেয়ের জামাইয়ের বডিগার্ড বাচ্চুকে প্রধান আসামি করে পাঁচ জনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার আসামিরা হলেন- আফরোজার মেয়ে দিলরুবার স্বামী কাজী মনির উদ্দিনের বডিগার্ড আতিকুল হক বাচ্চু, বাড়ির সিকিউরিটি গার্ড নুরুজ্জামান, কেয়ারটেকার বেলাল, প্রিন্স এবং অজ্ঞাতপরিচয় একজন নারী (২৭)।

অজ্ঞাতপরিচয় ওই নারী ছাড়া বাকি চারজন পুলিশি হেফাজতে ছিলেন।

শুক্রবার (০১ নভেম্বর) রাতে ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে গৃহকর্ত্রী আফরোজা বেগম ও গৃহকর্মী দিতির গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার দিন দুপুরে এক নারী গৃহকর্মী হিসেবে ওই বাসায় কাজ করতে আসেন। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।

পুলিশের ধারণা, বাসায় গৃহকর্মীর ছদ্মবেশে ঢুকে ওই নারী গৃহকর্ত্রী এবং বাসার অন্য গৃহকর্মীকে জবাই করে খুন করে স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যায়।

আফরোজা ও গৃহকর্মী যে ফ্ল্যাটে থাকতেন, তার ঠিক উল্টো দিকের ফ্ল্যাট এবং তার ঠিক উপরে ছয়তলার ফ্ল্যাট নিয়ে ডুপ্লেক্সে বাসায় স্বামী-সন্তান নিয়ে থাকেন আফরোজার মেয়ে দিলরুবা সুলতানা রুবা।

রুবার স্বামী মনির উদ্দিন তারিম বলেছিলেন, শুক্রবার ওই বাসায় নতুন এক গৃহকর্মী কাজে এসেছিল। নিরাপত্তাকর্মী বা কর্মচারীদের যোগসাজশে ওই কাজের লোকই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.