বুধবার , ২০ নভেম্বর ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত
শ্রুতিলেখক পাচ্ছেন না দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সুদীপ চন্দ্র

শ্রুতিলেখক পাচ্ছেন না দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সুদীপ চন্দ্র

নভেম্বর ৭, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের (বিজিএস) ১৩তম পরীক্ষাসহ (নৈর্ব্যক্তিক ও লিখিত) সব ধরনের পরীক্ষায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য শ্রুতিলেখক চেয়ে হাইকোর্টে করা রিট আবেদন কার্যতালিকা (কজলস্ট) থেকে বাদ (আউট অব লিস্ট) করে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রিটটি বাদ দিয়ে আদেশ দেন।

এই আদেশের ফলে আগামীকাল শুক্রবার (৮ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিজিএস পরীক্ষায় রিটকারী দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সুদীপ চন্দ্র দাস শ্রুতিলেখকের সুবিধা পাচ্ছেন না। তবে, রিটকারী আইনজীবী বলেছেন, এই আবেদন নিয়ে হাইকোর্টের অন্য বেঞ্চে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

আদালতে আজ রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী কুমার দেবুল দে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

এর আগে ৫ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে বুধবার (৬ নভেম্বর) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে ডিগ্রি নেয়া দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সুদীপ দাসের পক্ষে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদন করেন আইনজীবী কুমার দেবুল দে।

রিট আবেদনে ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩’ এর ১৬ (ঝ) অনুযায়ী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংরক্ষিত অধিকার সুরক্ষায় বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং অনুষ্ঠেয় ১৩তম জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন পরীক্ষা অথবা সব ধরনের পরীক্ষায় আবেদনকারীকে শ্রুতিলেখক দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না মর্মে রুল জারির আরজি জানানো হয়। রিটে বিবাদী করা হয়েছে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের (বিজেএসসি) চেয়ারম্যান, সচিব, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, সুপ্রিম কার্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, আইন সচিব ও সমাজ কল্যাণ সচিব।

রিটকারী আইনজীবী কুমার দেবুল দে সাংবাদিকদের জানান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনে ডিগ্রি নেয়া সুদীপ দাস এর আগেও জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের ১১ ও ১২তম পরীক্ষায় পরীক্ষার্থী ছিলেন। তবে ২০১৭ সালে শ্রুতিলেখকের সুযোগ না পেয়ে পরীক্ষায় অংশ নেননি। ২০১৮ সালে আবেদন করে শ্রুতিলেখক না পেলেও পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সাদা কাগজ জমা দিয়ে এসেছিলেন।

সুদীপ চন্দ্র দাস বলেন, বিভিন্ন পরীক্ষায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের শ্রুতিলেখক দেয়া হয়। কিন্তু বিজেএসসির পরীক্ষায় তা দেয়া হচ্ছে না। অথচ বিভিন্ন দেশে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বিচারক রয়েছেন। ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও যুক্তরাষ্ট্রেও আছে। আমি সহকারী জজ হওয়ার ইচ্ছা থেকে এ চেষ্টা করছি। তারপরও আমি যদি এই সুযোগ না-ও পাই, আমার অনুজরা এ সুযোগ পাবে বলে আশা করছি।

২০০৭ সালে সুদীপ দাস এসএসসি ও ২০০৯ সালে এইচএসসি পাস করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন সুদীপ। পরবর্তীতে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.