রবিবার , ১৯ জানুয়ারি ২০২০
সদ্যপ্রাপ্ত
বিএনপির আইনজীবীদের হট্টগোল নজিরবিহীন ঘটনা: অ্যাটর্নি জেনারেল

বিএনপির আইনজীবীদের হট্টগোল নজিরবিহীন ঘটনা: অ্যাটর্নি জেনারেল

December 5, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক: অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন শুনানিতে আজ বিএনপির আইনজীবীরা আদালতে যা করল তা আমার জীবনে কখনো দেখিনি। এটি আদালত অবমাননার সামিল। জনসভায় যেরকম হট্টগোল হয় আদালতে সেরকম হইচই শুরু করেন বিএনপির আইনজীবীরা। এটি নজিরবিহীন, এমনটি মেনে নেয়া যায় না।

বৃহস্পতিবার (০৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১ টায় সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে আদালতে বিএনপির আইজীবীদের হট্টগোলের প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।

মাহবুবে আলম বলেন, বাইরের আন্দোলনকে এজলাসে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা, যেটি কোনো অবস্থাতেই কাম্য নয়। এমনকি আসামিপক্ষের আইনজীবীদের বিশৃংখ্যলায় আদালত তার কার্যক্রম চালাতে পারেননি। আমি প্রধান বিচারপতির কাছে অনুরোধ করব ভবিষ্যতে এরকম বিশৃংখ্যলা করলে বিশৃংখ্যলাকারীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন।

এরআগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ছয় সদস্যের বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা, দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান। এবং খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সরকার, খন্দকার মাহবুব হোসেন, জয়নুল আবেদীন, এজে মোহাম্মদ আলী, মাহবুব উদ্দিন খোকন, সগীর হোসেন, ব্যারিস্টার মীর হেলাল, রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ বিএনপির শতাধিক আইনজীবী।

শুনানির শুরুতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ডের বরাত দিয়ে আদালতকে জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কিছু স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাকি আছে, সেগুলো করতে সময় লাগবে। খালেদা জিয়ার মেডিকেল প্রতিবেদন এবং শুনানির জন্য দুই সপ্তাহ সময় প্রার্থনা করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। আদালত আগামী ১১ ডিসেম্বর মেডিকেল প্রতিবেদন দাখিল এবং শুনানির জন্য ১২ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় দেন।

এ সময় খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনসহ অন্যরা আজকের মধ্যেই শুনানি করার দাবি জানান। এ সময় দুপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে চরম উচ্চবাচ্য শুরু হয়। জয়নুল আবেদীন বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ, আগে তার জামিন দেন, প্রয়োজনে শুনানি পরে হোক। তিনি খালেদা জিয়ার অন্তর্বর্তী জামিন প্রার্থনা করেন। এর বিরোধিতা করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

তখন আদালত জানান আগামী বৃহস্পতিবার শুনানি হবে। এর পর বিএনপির আইনজীবীরা কোর্টে হট্টগোল শুরু করেন। কয়েক মিনিট ধরে তাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় চলার পর আপিল বিভাগের প্রধান বিচারপতিসহ ছয় বিচারপতি এজলাস ছেড়ে খাসকামরায় চলে যান। এ সময় আদালতে উপস্থিত বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা শেইম শেইম বলে চিৎকার করতে থাকেন।

কোর্ট উঠে চলে গেলেও আইনজীবীরা কেউ কারও জায়গা ছাড়েননি, যে যার জায়গায় বসে থাকেন। তারা জামিন শুনানি না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান নেয়ার কথা বলছেন। দুপক্ষের আইনজীবীদের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে বন্ধ রয়েছে বিচারিক কাজ।

About বিডি ল নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.