শনিবার , ১৮ জানুয়ারি ২০২০
সদ্যপ্রাপ্ত
অযোধ্যা রায় পুনর্বিবেচনায় আরো চার পিটিশন

অযোধ্যা রায় পুনর্বিবেচনায় আরো চার পিটিশন

December 7, 2019

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অযোধ্যায় রামমন্দির গড়ার রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়ে মোট সাতটি আবেদন জমা পড়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে। নতুন করে দায়ের হয়েছে চার পিটিশন। শুক্রবার চার আবেদনকারী দাবি করেন, অযোধ্যা মামলার রায় সঠিক বিচার হয়নি। কোথাও গিয়ে ব্যর্থ হয়েছে বিচারব্যবস্থা।

এই চারটি পিটিশনকেই সমর্থন জানিয়েছে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড। এই রায়ের পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়ে আবেদন করেছেন মিসবাউদ্দিন, মওলানা হাসিবুল্লা, হাজি মেহবুব এবং রিজওয়ান আহমেদ। প্রকাশ্য আদালতে এই আর্জির শুনানি হলে আবেদনকারীদের পক্ষে সওয়াল করবেন আইনজীবী রাজীব ধাওয়ান।

বিতর্কিত জমিতে রামমন্দির গড়ার রায়ের ২৪ দিনের মাথায় অযোধ্যা নিয়ে প্রথম পিটিশন দায়ের হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। অযোধ্যা মামলার রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়ে পিটিশন দায়ের করেছিল জমিয়তে উলেমায়ে হিন্দ। সংগঠনের প্রধান মওলানা আর্শাদ মাদানি দাবি করেছিলেন, দেশের মুসলিমদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই এই রায় পুনর্বিবেচনার পক্ষে মত দিয়েছেন।

প্রায় একই দাবি করে রিভিউ পিটিশনের আর্জি জানায় অল ইন্ডিয়া পার্সোনাল ল বোর্ডও। দু’পক্ষেরই রায় পুনর্বিবেচনার আর্জির সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছিলেন কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী মুখতার আব্বাস নকভি।

মামলা দায়ের হওয়ার পর জমিয়তের শীর্ষ নেতা মাদানি বলেন, ‘আদালতই আমাদের অধিকার দিয়েছে মামলা করার, তাই মামলা দায়ের করা হয়েছে। অযোধ্যা মামলায় বিতর্কের মূল বিষয়বস্তু ছিল মন্দির ধ্বংস করে মসজিদ তৈরি হয়েছিল কি না। শীর্ষ আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেছে, মন্দির ধ্বংস করেই যে মসজিদ তৈরি হয়েছিল, এমন কোনও প্রমাণ নেই। সুতরাং মুসলিমদের অধিকার প্রমাণিত। অথচ চূড়ান্ত রায় এর বিপরীতধর্মী। আমরা রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়েছি কারণ, রায় বোধগম্য হয়নি।’ যদিও পাঁচ একর জমি মুসলিম পক্ষকে দেওয়ার যে রায় আদালত দিয়েছে, জমিয়ত সেটা মেনে নেবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট করেনি তারা।

গত ৯ নভেম্বর ঐতিহাসিক অযোধ্যা মামলার রায় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ-এর নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চের রায়ের প্রধান বক্তব্য ছিল, অযোধ্যার মূল বিতর্কিত ২.৭৭ একর জমিতে রাম মন্দির তৈরিতে কোনো বাধা নেই। মুসলিমদের মসজিদ তৈরির জন্য ওই বিতর্কিত জমির বাইরে ৫ একর জমি দিতে হবে সরকারকে।

প্রায় একই দাবি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয় অল ইন্ডিয়া পার্সোনাল ল বোর্ডও। সেই মামলাও দায়ের হয়। মামলা দায়ের হওয়ার পর সংগঠনের নেতারা জমিয়তের সুরেই কথা বলেছিলেন। তাঁদের বক্তব্য, ‘অযোধ্যা রায়ের পর থেকেই বিশ্বাস দুর্বল হচ্ছে। দেশের ৯৯ শতাংশ মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষই রিভিউ পিটিশনের পক্ষে।’ এবারে আরও চারটি পিটিশন দাখিল হল দেশের শীর্ষ আদালতে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগে বিচারকদের এজলাসে বসার জায়গা ছিল না। আমরা অ্যানেক্স ভবন তৈরি করে দিয়েছি। সারা দেশে আরও বেশি বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নারী বিচারক নিয়োগের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে আগে নারী বিচারক ছিলেন না। আমাদের সময়ে হাইকোর্টে প্রথম বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমরা মনে করি, একটি দেশের উন্নয়নে নারী-পুরুষ সকলের ভূমিকা থাকা দরকার।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যারা অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসেছিল, বিচার বিভাগ সেই অবৈধ সরকারকে অবৈধ ঘোষণা করে। এ সাহসী ভূমিকার জন্য বিচার বিভাগকে আমি ধন্যবাদ জানাই।

তিনি আরো বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর খুনিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে পুরষ্কৃত করা হয়েছিল। খুনিকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করা হয়েছিল। হত্যাকারীদের নানাভাবে মদদ দেওয়া হয়েছিল। হত্যার বিচার বন্ধে ইনডেমনিটি বিল জারি করা হয়। আমরা যারা ভুক্তভোগী ছিলাম আমাদের ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ ছিল না। সেই সময় দেশে বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে এমন অবস্থা ছিল। স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে আর কেউ বছরের পর বছর অতিবাহিত করুক আমরা তা চাই না।

About বিডি ল নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.