বৃহস্পতিবার , ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০
সদ্যপ্রাপ্ত
দুই সিটির ভোট নিয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বৈঠক আজ

দুই সিটির ভোট নিয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বৈঠক আজ

January 22, 2020

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভোটকেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে কঠোর নিরাপত্তা বলয় সৃষ্টির পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ বৈঠকে নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনাসহ আটটি এজেন্ডা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রতিটি সাধারণ কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৬ জন ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৮ জন সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে ইসি। পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রের বাইরে র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করবে।

আজ বুধবার (২২ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সভাপতিত্বে ওই বৈঠক হবে। ইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিবসহ আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর প্রধান এবং দুই সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। বৈঠকে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে দুই সিটি নির্বাচনের নিরাপত্তা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করবে নির্বাচন কমিশন। সেই অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করবে।

জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বৈঠকের এজেন্ডাগুলোর মধ্যে রয়েছে- নির্বাচন পূর্ব আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টিতে করণীয় স্থির করা, চিহ্নিত অপরাধী ও নির্বাচনে বিঘ্ন সৃষ্টকারী সম্ভাব্য দুস্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও অবৈধ অনুপ্রবেশকারী রোধ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। এবং বিভিন্ন নির্বাচনি কার্যক্রম গ্রহণ এবং নির্বাচনি দ্রব্যাদি পরিবহন ও সংরক্ষণে নিরাপত্তা বিধান, নির্বাচনি আইন এবং আচরণ বিধিসহ বিভিন্ন নির্দেশেনা সুষ্ঠুভাবে প্রতিপালনের পরিবেশ সুগম করা, নির্বাচনি এলাকায় ও ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা বিষয়ক কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাসগুলোর কর্মকাণ্ড সমন্বয় সাধান ও সুসংহতকরণ।

সূত্র জানায়, ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে নিরাপত্তা পরিকল্পনায় দেখা গেছে— প্রতিটি সাধারণ ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৬ জন ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৮ জন সদস্য মোতায়েন করা হবে। সাধারণ কেন্দ্রে একজন এসআই অথবা এএসআই’র নেতৃত্বে চার জন পুলিশ সদস্য, অস্ত্রসহ আনসার দুজন ও ১০ জন অঙ্গীভূত আনসার মোতায়েন করা হবে। আর ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে পুলিশের সংখ্যা দুই জন বেশি থাকবে। যদিও এখনও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র কতটি তা নির্ধারণের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আর ভোটকেন্দ্রের বাইরের নিরাপত্তার বিষয়ে কার্যপত্রে ঢাকা উত্তর সিটির ৫৪টি ওয়ার্ডে পুলিশ ও এপিবিএন সমন্বয়ে ৫৪টি মোবাইল ও ১৮টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, র‌্যাবের ৫৪টি টিম ও ২৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনের প্রস্তাব করা হয়েছে। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৭৫টি ওয়ার্ডে পুলিশ ও এপিবিএন সমন্বয়ে ৭৫টি মোবাইল ও ২৫টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, র‌্যাবের ৭৫টি টিম ও ৩৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সংখ্যা কম-বেশি করার কথাও বলা হয়েছে কার্যপত্রে। এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে— আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভোটের দু’দিন আগ থেকে পরের দিন পর্যন্ত চার দিন এবং আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা পাঁচদিন নিয়োজিত থাকবেন। ভোটের আগের রাতে কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওই কেন্দ্রেই অবস্থান করতে হবে। প্রতিটি সিটি করপোরেশনে নির্ধারিত স্থানে পুলিশ ও র‌্যাবের প্রয়োজনীয় সংখ্যক টহল দল এবং ৩-৪ প্লাটুন বিজিবি রিজার্ভ ফোর্স সংরক্ষিত রাখার জন্য বলা হয়েছে।

কার্যপত্রে নির্বাচন প্রচার নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। এছাড়া, চিহ্নিত অপরাধী ও সন্ত্রাসী এবং নির্বাচনে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে এমন দুস্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও নির্বাচনি এলাকায় সন্দেহভাজন বা বহিরাগতদের অনুপ্রবেশকারী রোধ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কারও বিরুদ্ধে যেন হয়রানিমূলক ও বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, সে বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে বলা হয়েছে। এছাড়া, নির্বাচনি পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতেও বলা হয়েছে। এছাড়া, ভোটের কয়েকদিন আগ থেকে বৈধ অস্ত্রধারীরাও যেন অস্ত্রসহ চলাচল না করেন সেজন্য নির্দেশনাও দেওয়া হবে বৈঠকে।

ভোটগ্রহণ উপলক্ষে দুই সিটিতে ১২৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৪ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করার প্রস্তাব করেছে নির্বাচন কমিশন। ম্যাজিস্ট্রেটরা নির্বাচনি অপরাধে সংক্ষিপ্ত আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক বিচারক করে সাজা দেবেন। ঢাকা উত্তর সিটিতে ৫৪ জন ও দক্ষিণ সিটিতে ৭৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আগামী ৩০ জানুয়ারি থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনি মাঠে থাকবেন। তারা আচরণ বিধি প্রতিপালন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করবেন। আর ঢাকা উত্তর সিটিতে ২৭ জন ও দক্ষিণ সিটিতে ৩৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। তারা ৩০ জানুয়ারি থেকে ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত নিয়োজিত থাকবেন। তারা নির্বাচন বিধি ও ফৌজদারি কার্যবিধি প্রতিপালন করবেন।

About বিডি ল নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.