বৃহস্পতিবার , ২ জুলাই ২০২০
Home » দৈনন্দিন জীবনে আইন » পোশাক শিল্পের সুদিন ফেরাতে আইন, নীতিমালার সঠিক বাস্তবায়ন জরুরী

পোশাক শিল্পের সুদিন ফেরাতে আইন, নীতিমালার সঠিক বাস্তবায়ন জরুরী

সবাই জানি, তৈরি পোশাকের বাজার বাংলাদেশে খুব জমজমাট এবং তা রপ্তানীতে আমরা অন্যতম শীর্ষস্থানীয় অবস্থান ধরে রেখেছি। মাঝখানে ক্ষণিক বিপর্যয় হলেও তা কাটিয়ে ওঠার আপ্রাণ চেষ্টা পরিলক্ষিত হচ্ছে অনেক দিন ধরে। এই উদ্দেশ্যে সফলতার হাতছানি পাওয়া যাচ্ছে। সরকারী বেসরকারী পর্যায়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী এবং ব্যবসায়িক সম্মেলন করার মাধ্যমে এই খাতের মন্থর গতি কাটিয়ে ওঠার অবিরাম প্রয়াস আমাদেরকে আশার আলো দেখায়। পাশাপাশি এই বিষয়কে উপজীব্য করে কমবেশি নিত্যদিন সেমিনার, গোল টেবিল বৈঠক এবং কনফারেন্স হচ্ছে। সম্প্রতি এরকম জমজমাট এবং জনবহুল আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী হয়ে গেল ঢাকার আই সি সি বি এক্সপো জোনে। তারিখ ছিল ১৫-১৮ জানুয়ারি, ২০২০; সারা বিশ্বের শতাধিক প্রতিষ্ঠান তাদের নতুন সেবা এবং সম্ভাবনার সমাহার ঘটিয়েছিল এই প্রদর্শনীতে। পোশাক শিল্পের সোনালী দিন নিশ্চিত করণে যে কয়টি বহুজাতিক কোম্পানী বা সংস্থা প্রাণপণ চেষ্টা করছে, তাদের মধ্যে বিখ্যাত টিপিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি অন্যতম। উল্লেখ্য, গণচীন ভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠান ৭৫ বছর ধরে তাদের মানসম্মত পণ্য এবং সেবা সুলভে বাংলাদেশ সহ গোটা বিশ্ব বাজারে সরবরাহ করে আসছে। টিপিক্যাল ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশন অংশগ্রহণ করে এই এক্সপোতে।

প্রদর্শনী পরিদর্শন করতে করতে পাওয়া যায় তাদের জমকালো প্যাভিলিয়ন। কথা হয় আজহার উদ্দীন রনি’র সাথে। তিনি টিপিক্যাল ইন্ডাস্ট্রির বাংলাদেশ কান্ট্রি অপারেটিভ ম্যানেজার। তার বক্তব্যে কোনরূপ হতাশার ছাপ ছিল না। চরম আশাবাদী লোকটির মুখ থেকে অপার সম্ভাবনার কথা এবং সে সম্ভাবনা বাস্তবায়নের অপূর্ব কিছু কৌশল বেরিয়ে এলো। ২০২২ সালের মধ্যেই টিপিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি বাংলাদেশের পোশাক খাতে নেতৃত্ব দেওয়ার অবস্থান জোরালো ভাবে দখল করবে- এ বিশ্বাস তার। পোশাক খাতের অভ্যন্তরীণ দুরবস্থা সরিয়ে দিতে এবং বহিঃবিশ্বে বাংলাদেশের রপ্তানী অবস্থান সুদৃঢ় করতে নীতিমালা এবং প্রচলিত আইন মানার বিকল্প নেই। বাংলাদেশ কিন্তু বেশ কিছু আন্তর্জাতিক চুক্তি বা ট্রিটি স্বাক্ষর করেছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ অনুসমর্থনকারী একটি দেশ। এমতবস্থায়, উল্লেখযোগ্য বেশ কিছু সুপারিশমালা পাওয়া যায়- বাংলাদেশের গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রির সব সমর্থনীয় পলিসি বা নীতির সাথে খাপ খাওয়াতে হবে। ব্যবসায়িক সুবিধাজনক কর বা ট্যাক্স নীতির প্রয়োগ থাকতে হবে। আমদানী- রপ্তানীর কর সীমা যৌক্তিক মানে আনা জরুরী। বিমানবন্দর এবং সমুদ্র বন্দরের শুল্কনীতি সহজসাধ্য করার সময় এসে গেছে।

এসব আইনী জটিলতা ভেদ করা গেলে এবং উৎসাহমূলক প্রণোদনার শুভ সূচনা ঘটলে বাংলাদেশের পোশাক খাত আবারো মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে সগৌরবে। ভিশন ২০২১ লক্ষ্য নিয়ে বর্তমান সরকার যেভাবে আগাচ্ছে, গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রি একই গতিতে আগাবে বলে বিশ্বাস বিশ্লেষকদের, ব্যবসায়ীদের, টিপিক্যাল ইন্ডাস্ট্রির এবং আমাদের সবার।

ফারুক ভূঁইয়া

সিনিয়র রিপোর্টার

বিডিলনিউজ.কম

Share and Enjoy !

0Shares
0 0 0

Check Also

সারা দেশে দেড় হাজার ডিজিটাল এজলাস হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক: নতুন করে দেশের বিচার বিভাগ ডিজিটালাইজেশনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ই-জুডিশিয়ারি প্রকল্পের মাধ্যমে এ …

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.