মঙ্গলবার , ৩১ মার্চ ২০২০
সদ্যপ্রাপ্ত
দক্ষিণখানে তিন লাশ: স্বামীকে সন্দেহ পুলিশের

দক্ষিণখানে তিন লাশ: স্বামীকে সন্দেহ পুলিশের

February 15, 2020

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর দক্ষিণখানে মা ও দুই সন্তানের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় নিহত গৃহবধূর স্বামী রাকিব উদ্দিন ভুঁইয়াকে সন্দেহ করছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। লাশ উদ্ধারের পাশাপাশি তাকে ধরতে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় দক্ষিণখানের ৮৩৮ নম্বর প্রেমবাগানের চতুর্থ তলার বাসা থেকে মা মুন্নী বেগম (৩৭) এবং তার দুই সন্তান ফারহান উদ্দিন (১২) ও লাইভা ভুঁইয়ার (৩) অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মা ও মেয়ের লাশ একটি কক্ষের বিছানায় এবং ছেলের লাশ আরেক কক্ষের মেঝেতে পড়ে ছিল। মায়ের মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতুড়িও উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ ও প্রতিবেশীরা জানান, বাসা থেকে পচা গন্ধ এলে বাড়িওয়ালার সন্দেহ হয়। এর মধ্যে রাকিব উদ্দিনের ভাই সোহেলও ভাবিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে ওই বাসায় আসেন। বাড়িওয়ালাকে সঙ্গে নিয়ে চতুর্থ তলার ডান দিকের ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভেতরে তিন জনের লাশ দেখে পুলিশকে খবর দেন তিনি। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ তিনটি উদ্ধার করে।

পুলিশ সূত্র জানায়, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন লিমিটেড (বিটিসিএল) এর উপসহকারী প্রকৌশলী রাকিব উদ্দিন ভুঁইয়া প্রায় ১০-১২ বছর ধরে ওই বাসায় স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বাস করে আসছিলেন। সম্প্রতি তিনি বিটিসিএল এর গুলশান কার্যালয় থেকে উত্তরা কার্যালয়ে বদলি হন।

পুলিশের দক্ষিণখান জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার হাফিজুর রহমান রিয়েল জানান, ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে অনুসন্ধান করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ওই নারীর স্বামীরখোঁজ করা হচ্ছে।

উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) নাবিদ কামাল শৈবাল সাংবাদিকদের জানান, ধারণা করা হচ্ছে তিন জনকেই ৩-৪ দিন আগে হত্যা করা হয়েছে। ঘরের ভেতরে তিনটি লাশই ডি-কম্পোস্ট অবস্থায় পাওয়া গেছে। তবে মা ও ছেলের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আমরা খুনিকে ধরতে অভিযান চালাচ্ছি।

নিহত মুন্নী বেগমের ভাই সোহেল আহমেদ বলেন, গত বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) থেকে আমরা বোন ও বোনের স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলাম না। তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। আমরা ভেবেছিলাম হয়তো কোথাও ঘুরতে গিয়েছে। শুক্রবার খোঁজ নিতে এসে লাশ পাই।

তিনি আরও বলেন, আমার বোন ও বোনের স্বামীর সঙ্গে খুবই ভালো সম্পর্ক ছিল বলেই জানতাম। আমরা এখনও বুঝতে পারছি না কারা এবং কেন তাদের হত্যা করলো। এর আগে মাস তিনেক আগে বোনের স্বামী রাকিব একবার অপহরণ হয়েছিলেন বলে বাসায় জানিয়েছিলেন, কিন্তু বিষয়টি রহস্যজনক ছিল। কারা, কেন, কোথায় তাকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছিল তা পরিষ্কার করে কিছুই বলতে পারেননি তিনি। পুরো বিষয়টি নিয়ে আমরাও গোলকধাঁধার মধ্যে রয়েছি।

জানা গেছে, স্বামী রাকিব উদ্দিনের পিতার নাম আশরাফ উদ্দিন ভুঁইয়া। তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের ভাতশালা এলাকায়। নিহত স্ত্রী মুন্নী রাকিবের খালাতো বোন ছিল। প্রায় এক যুগ আগে তারা প্রেম করে বিয়ে করেন। স্থানীয় মারুফ নামে এক প্রতিবেশী জানান, মাস তিনেক আগে রাকিব উদ্দিন একবার কয়েকদিনের জন্য নিখোঁজ ছিলেন। পরে আবার বাসায় ফিরে আসেন। গত ৩-৪ দিন ধরেও তাকে এলাকায় দেখা যায়নি।

About বিডি ল নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.