সোমবার , ৬ জুলাই ২০২০
Home » আইন সংস্থা » সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের খোলা চিঠি

সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের খোলা চিঠি

২০২০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রায় ৩ বছর পর বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট পরীক্ষার প্রথম ধাপ এম সি কিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এম সি কিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পরেই বাংলাদেশে ও বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়তে থাকে এবং বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট প্রসেস পরীক্ষার পরবর্তী ধাপ রিটেন পরীক্ষা কবে অনুষ্ঠিত হবে বর্তমানে সেই বিষয়ে সম্পূর্ণ অনিশ্চয়তার সম্মুখীন শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা। বিগত ৩ মাস ধরেই শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা বিভিন্ন দাবী করে আসছিলো সোস্যাল মিডিয়ায়। এরই ধারাবাহিকতায় প্রায় ১ সপ্তাহ থেকে শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের কাছে একটি খোলা চিঠি সোস্যাল মিডিয়ায় খুব আলোচনা এবং শেয়ার হচ্ছে। উল্লিখিত খোলা চিঠি— “বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এর
মহান কর্তৃপক্ষের নিকট আকূল আবেদন।

শ্রদ্ধেয় স্যার,
অতীব বিনয়ের সাথে আপনাদের সদয় বিবেচনার জন্য আমরা সমগ্র বাংলাদেশের শিক্ষানবীশ আইনজীবীগন সম্মিলিত ভাবে আকূল আবেদন জানাচ্ছি যে, আমরা কেউ বিগত ১০ বছর, কেউ ৭ বছর আবার কেউবা ৫ বছর যাবৎ শিক্ষানবীশ হিসেবে মহান আইন পেশায় আপনাদের অনুগত ও বাধ্যগত জুনিয়র হিসেবে বাংলাদেশের বিভিন্ন বার এসোসিয়েশনে আপনাদের সহচর্যে থেকে অত্যন্ত স্বল্প পারিশ্রমিকের বিনিময়ে সেবা প্রদান করে আসিতেছি।

কিন্তু অত্যন্ত মর্মাহত ও ব্যথিত চিত্তে আপনাদের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি যে, আমরা বাংলাদেশের শিক্ষানবীশ আইনজীবীগন এক চরম সংকটময় সময় অতিবাহিত করিতেছি। সারা পৃথিবীতে এই করোনা ভাইরাস নামক মহামারির কারনে আমরা অত্যন্ত মানবেতর জীবন-যাপন করিতেছি। আমাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আইনজীবী হিসেবে নিবন্ধন না থাকায় আমরা বার কাউন্সিল কিংবা বার এসোসিয়েশন থেকে আর্থিক, মানসিক ও আইনগত অধিকার থেকে সম্পূর্ণরুপে বঞ্চিত হয়ে আছি।

এই পরিস্থিতিতে আমরা দূর্ভাগ্যজনক ভাবে বা অদৃষ্টের নির্মম পরিহাসে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তনের কারনে বা অতিরিক্ত কঠোর পরীক্ষা পদ্ধতি চলমান থাকায় বা ৩/৪ বছর পর পর পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় জীবনের অনেক মূল্যবান সময় আইন পেশায় তালিকা ভূক্তির পূর্বেই হরিয়ে যাচ্ছি।

স্যার, মহামারির কারনে বর্তমানে এক সংকটময় সময় আমরা অতিবাহিত করিতেছি এবং এর সময়কাল আমাদের সকলেরই অজানা। সকল পরীক্ষার্থীরা লিখিত পরীক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্য ঢাকায় জড়ো হলে তাদের থাকার জন্য কোন প্রকার বাসা ভাড়া পাওয়া যাবে না এবং এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলে সংশ্লিষ্ট সকলে ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়।

এমতপরিস্থিতিতে আমারা যাহারা কঠোর অধ্যাবসয়ের মাধ্যমে কেউ ২০১৭ সালে আবার কেউ বা ২০২০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত এম সি কিউ পরীক্ষায় তীব্র প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পাশ করেছি তাদের পরবর্তী লিখিত পরীক্ষা মহামারির কারনে মওকুফ করে ভাইভা নিয়ে অথবা গেজেট করে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভূক্তির জন্য বিনীত ভাবে অনুরোধ করিতেছি।

বি:দ্র: স্যার, বার কাউন্সিলের ইতিহাসে দেখা যায়, দেশের এক সংকটময় মূহর্তে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান বার কাউন্সিল তালিকাভূক্তির ক্ষেত্রে শিথিলতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। আমাদের প্রান প্রিয়
নেত্রী মাননীয়া প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাও বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় চলমান বিভিন্ন পরীক্ষার ক্ষেত্রে শিথিলতা ও অব্যাহতি প্রদানের বিষয়টি মানবিক কারনে বিবেচনা করেছেন।
বিনীত—-
এম সি কিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ন
বাংলাদেশের সকল শিক্ষানবীশ আইনজীবীবৃন্দু।”

উপর্যুক্ত বিষয়ে শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের বিভিন্ন দাবী নিয়ে কর্মসূচি পালন করে আসছে এবং বাংলাদেশ শিক্ষানবিশ আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক আইনুল ইসলাম বিশাল বিডি ল নিউজকে বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে তা সম্পূর্ণ অনিশ্চিত। ১ তারিখ থেকে যদি বাংলাদেশ বার কাউন্সিল স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে তাহলে বার কাউন্সিলের প্রতি অনুরোধ থাকবে ২০১৭ সালের বার কাউন্সিলের লিখিত পরীক্ষায় অকৃতকার্য প্রায় ৩৫০০ শিক্ষার্থীদের অনলাইনে রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন করা এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আগস্টের ভিতর যদি পরীক্ষা না নিতে পারে তাহলে ২০১৭ সালের লিখিত পরীক্ষায় অকৃতকার্যদের এবং ২০২০ সালের এম সি কিউপরীক্ষায় উত্তীর্ণদের গেজেট প্রকাশ করে সনদ দেয়া অথবা অনলাইনের মাধ্যমে ভাইভা নিয়ে সনদ দেয়া।বঙ্গবন্ধু আইনের ছাত্র ছিলেন।২০২০ সাল পুরোটাই মুজিব বর্ষ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং বার কাউন্সিলের বিজ্ঞ এনরোলমেন্ট কমিটির কাছে বিনীত অনুরোধ মুজিব বর্ষে শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের এই দীর্ঘ জট নিরসনের জন্য এনরোলমেন্ট পরীক্ষার ক্ষেত্রে ২০২০ সাল থেকেই আপীল বিভাগের পূর্নাঙ্গ রায়ের নির্দেশনা অনুসরণ করে সনদ দিলে সকল শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা এই বিশাল বেকারত্ব থেকে মুক্তি পাবে এবং চিরকাল মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ থাকবে।’
শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের দাবী নিয়ে দীর্ঘদিন বিভিন্নভাবে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছে এবং শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের প্রতিনিধি ‘বোনা আসাদ’ বলেন ‘২০২০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এম সি কিউ পরীক্ষার পূর্বে বার কাউন্সিল বেশ কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রেজিষ্ট্রেশন কার্ড দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছিলেন কারণ আপীল বিভাগের রায়ের ৭ নাম্বার নির্দেশনা না মেনে ভুক্তভোগী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গুলো প্রতি সেমিস্টারে ৫০ জনের বেশি ভর্তি করিয়েছিল। কিন্তু একই মামলার আপীল বিভাগের রায়ের রায়ের ১২ নাম্বার নির্দেশনায় স্পষ্ট বলা আছে,’প্রতি ক্যালেন্ডার ইয়ারে এনরোলমেন্ট পরীক্ষার সম্পূর্ণ প্রসেস শেষ করা।’ আপীল বিভাগের এই রায় দেয়া হয় ২০১৭ সালে। এরপর ২০১৮ এবং ২০১৯ বার কাউন্সিল কোন এনরোলমেন্ট পরীক্ষাই নিতে পারেণি! এমতাবস্থায়, শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা সম্পূর্ণভাবে উচ্চ শিক্ষিত বেকার এবং আইনের সমান অধিকার থেকে বঞ্চিত। ২০২০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এম সি কিউ অনুষ্ঠিত হল ৩ বছর পর।বৈশ্বিক মহামারীর কারণে রিটেন পরীক্ষা এখন সম্পূর্ণ অনিশ্চিত। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা নিয়ে শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের অভিভাবক বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এবং পুরো দেশের অভিভাবক মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সবিনয়ে অনুরোধ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আইনের ছাত্র ছিলেন।২০২০ সালে তার শতবর্ষ পূর্তি হল। তার শতবর্ষে এই মহামারী পরিস্থিতি বিবেচনা করে ২০২০ সালের ভিতর এনরোলমেন্ট প্রসেস সম্পূর্ণ শেষ করে সনদ দিলে শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা দীর্ঘ এই বেকারত্বের জট থেকে মুক্তি পায়।মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা কখনো কিছু চায়নি। তিনি দেশের অভিভাবক। আমার দৃঢ় বিশ্বাস শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা নায্য এবং যৌক্তিক দাবীতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পুরোপুরি সমর্থন পাবে ইনশাল্লাহ।’

Share and Enjoy !

0Shares
0 0 0

Check Also

‘আমার ছেলে অনেক পাপ করেছে, ওকে গুলি করে মারুন’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ‘আমার ছেলে অনেক পাপ করেছে, ওকে গুলি করে মারা হোক। ওর অপকর্মের জন্য …

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.