শনিবার , ৪ জুলাই ২০২০
Home » অনিয়ম » গেজেট দিয়ে সনদ দিলেই কি শিক্ষানবিশদের দূর্ভোগ শেষ হবে?

গেজেট দিয়ে সনদ দিলেই কি শিক্ষানবিশদের দূর্ভোগ শেষ হবে?

শিক্ষানবিশরা এই মুহূর্তে রাষ্ট্রের সবচাইতে বঞ্চিত নাগরিক! তারা উচ্চ শিক্ষিত বেকার! পরিবার,সমাজ এবং রাষ্ট্রের বোঁঝা! শিক্ষানবিশদের আজকের এই চরম দুরবস্থা এর জন্য দায়ী নিয়মিত পরীক্ষা না হওয়া। ২০১৭ সালের আপীল বিভাগের পূর্নাঙ্গ রায়ের নির্দেশনা থাকা স্বত্তেও দীর্ঘদিন পরীক্ষা না হওয়ার ফলে অনেক শিক্ষানবিশদের ই স্বপ্নের আইন পেশায় আসার পূর্বেই হারাতে হয়েছে অনেক কিছু।
দীর্ঘদিন পরীক্ষার জটিলতা এবং বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে বর্তমানে লিখিত পরীক্ষা সম্পূর্ণভাবে অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় এম সি কিউ উত্তীর্ণ শিক্ষানবিশদের গেজেট দিয়ে সনদের দাবীতে বর্তমান সোস্যাল মিডিয়ায় দাবীর পক্ষে বিপক্ষে চলছে আলোচনা সমালোচনা। শিক্ষানবিশদের এই দাবী বেশ ভাইরাল এখন সোস্যাল মিডিয়ায়।
মূলত এই দাবী কতটা যৌক্তিক তা বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করি—
আপীল বিভাগের রায়ের নির্দেশনার পর ২০১৮,২০১৯ এবং ২০২০ এই ৩ বছরে যদি ৩ টি ব্যাচ বের হইত এবং প্রতি বছর যদি ন্যূনতম ৭০০০ আইনজীবী তালিকাভুক্ত হইত তাহলে ৩ বছরে ২১০০০ আইনজীবী তালিকাভুক্ত হইত! বর্তমানে ২০১৭ সালে রিটেন এবং ভাইভায় যারা অকৃতকার্য হয়েছেন এবং ২০২০ সালে এম সি কিউ পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হয়েছেন তাদের সর্বমোট সংখ্যা ১২,৪০০। নিয়মিত যদি পরীক্ষা হইত তাহলে ২১০০০ আইনজীবীর ভিতরে ১২,৪০০ শিক্ষানবিশদের থেকে ন্যূনতম ১১০০০ তালিকাভুক্ত হইত, এর কারণ বার কাউন্সিলের ৩ ধাপের পরীক্ষার ভিতরে এম সি কিউ পরীক্ষা ধাপ উত্তীর্ণ হওয়াই সবচেয়ে কঠিন এবং এম সি কিউ পাশ অর্থাৎ আপনি ৮০% আইনজীবী নিশ্চিত। বিগত পরিসংখ্যান এবং সমীকরণে এইটাই সত্য। যার ফলশ্রুতিতে একবার এম সি কিউ পাশ করলে কিন্তু ২ বার রিটেন দেয়া যায়। তাহলে সংখ্যায় গ্যাপ থাকে ১০০০-১৫০০,এখন এই ১৫০০ শিক্ষানবিশের কারণে কি ১১০০০ শিক্ষানবিশ সাফার করবে?
যদিও আমার সামর্থ্য নাই কিন্তু আলোচনার স্বার্থে বিজ্ঞ আইনজীবীদের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, বর্তমানে বাংলাদেশে যত বিজ্ঞ আইনজীবীগণ আছেন সবাই কি সমান এনরোলমেন্ট প্রসেসে আইনজীবী হয়েছেন?
যেই সমস্ত শিক্ষানবিশ এম সি কিউ পাশ করেছেন তার ভিতরে ৯৮% শিক্ষানবিশদের ই প্রাক্টিসকাল ২ বছরের উপরে।
সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষায় পাশ এবং প্রাক্টিসের দিক দিয়েও দীর্ঘ সময় প্রাক্টিস করে অভিজ্ঞতা অর্জন করা এম সি কিউ উত্তীর্ণ শিক্ষানবিশদের এই দাবী সম্পূর্ণভাবে যৌক্তিক।
২০২০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যারা এম সি কিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেণি অথবা ইন্টিমেশন পিরিয়ড সম্পন্ন হওয়ার কারণে পরীক্ষা দিতে পারেণি তাদের কি হবে?
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ ২০২১ এর মে পর্যন্ত। এম সি কিউ পাশ করা শিক্ষানবিশদের জট নিরসন হলে এবং ২০২০ থেকেই আপীল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী ক্যালেন্ডার ইয়ারে এনরোলমেন্ট প্রসেস সম্পন্ন করে দিলে, ২০২১ এর মে মাসের ভিতরে সম্মানিত বার কাউন্সিলের বর্তমান বিজ্ঞ এনরোলমেন্ট কমিটির পক্ষে এম সি কিউ এবং ভাইভা সম্পন্ন করা সম্ভব হবে তাহলে ২০২১ ক্যালেন্ডার ইয়ারের ভিতরে তাদের প্রসেস টাও সম্পন্ন হয়ে যাবে।
২০২০ সালে মুজিব বর্ষে শিক্ষানবিশদের দীর্ঘ জট নিরসনের মাধ্যমে বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট প্রসেস হতে পারে চিরদিনের জন্য নিয়মতান্ত্রিক, গোছালো এবং সুন্দর।

Share and Enjoy !

0Shares
0 0 0

Check Also

থাগস অব ইন্ডিয়া

ব্রিটিশ শাসন আমলে এই উপমহাদেশে, ডাকাতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ-রা ১৭৭২ সালে প্রথম একটি আইন করে …

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.