সোমবার , ২৩ জুলাই ২০১৮
সদ্যপ্রাপ্ত

আইনগত সহায়তা প্রাপ্তি কোনো দয়া নয়, মৌলিক মানবাধিকার

জুলাই ৭, ২০১৮

অ্যাডভোকেট শাহানূর ইসলাম সৈকত, নওগাঁ ডেক্সঃ সরকারী আইন সহায়তা কার্যক্রমে কেইস রেফারেল পদ্ধতির বাস্তবায়ন এবং চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি অবহিতকরণ বিষয়ক দিনব্যাপী এক কর্মশালা আজ নওগাঁর হোটেল মল্লিকা ইন এ অনুষ্ঠিত হয়। নওগাঁ জেলায় কর্মরত বিচার বিভাগের সকল কর্মকর্তা, ১১টি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, ৯৯টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, প্রশিক্ষনপূলের সদস্য, পুলিশ প্রসাশন এবং ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ অনু্ষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

নওগাঁ জেলা আইনগত সহায়তা প্রদান কমিটির চেয়ারম্যান এবং জেলা ও দায়রা জজ জনাব একেএম শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার পরিচালক এবং সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ জনাব মো: জাফরুল হাসান।

জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সহকারী জজ জনাব এজিএম মনিরুল হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে অংশগ্রহণ করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) জনাব মো: রাশেদুল হক, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের উপসচিব জনাব ইফতেখার বিন আজিজ এবং নওগাঁ জেলা প্রশাসক জনাব মো: মিজানুর রহমান।

অনুষ্ঠানে আইনগত সহায়তা প্রদানে জাতিসংঘ উন্নয়ন প্রোগ্রাম (ইউএনডিপি)’র অবদান বিষয়ক উপস্থাপনা করেন ইউএনডিপি’র রেসপনসিভ জাস্টিস আইপি প্রোজেক্ট এর প্রোগ্রাম অফিসার মেরিনা শওকত আলী। কেস রেফারেল পদ্ধতির কার্যকারিতা মূল্যায়ন, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাব্য সমাধান শীর্ষক দলীয় কাজের সহায়ক হিসাবে অংশগ্রহণকারীদের দলীয় কাজ সম্পাদনে সহায়তা করেন জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার উপ পরিচালক ও যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ জনাব আবেদা সুলতানা এবং সহকারী পরিচালক ও সিনিয়র সহকারী জজ জনাব কাজি ইয়াসিন হাবিব।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার পরিচালক এবং সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ জনাব মো: জাফরুল হাসান তাঁর বক্তব্যে বলেন যে, মানুষ যখন জন্মগ্রহণ করে তখন কিছু অধিকার নিয়ে জন্ম গ্রহণ করে। সেসব অধিকারের কিছুটা রাস্ট্র, কিছুটা সমাজ এবং কিছুটা পরিবার প্রদান করে। সেসব অধিকারের মধ্যে একটি হল আইনগত সহায়তা লাভের অধিকার। কেউ যেন আর্থিক দুর্বলতার জন্য আইনী সেবা হতে বঞ্চিত না হয়।

তিনি আরো বলেন যে, সংবিধানের মৌলিক অধিকারের মধ্যে একটি হলো আইনের দৃষ্টিতে সবায় সমান এবং আইনের আশ্রয় লাভে সবার সমান অধিকার। কেউ যেন আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয় সে লক্ষে ২০০০ সালে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান আইন পাশের মাধ্যমে সরকার জনগণের সে অধিকার নিশ্চিত করণের জন্য কাজ করে চলেছে এবং সরকারের রাজস্ব বাজেট থেকে আর্থিক বরাদ্দ প্রদানের মাধ্যমে আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল ব্যক্তিদের বিনা খরচে আইনগত সহায়তা প্রদান করছে।

তিনি আরো বলেন যে, আমাদের দেশের প্রাতিষ্ঠানিক আদালতগুলো আজ মামলা জটে জর্জরিত। মামলার দীর্ঘসত্রিতার কারণে মানুষ মামলা করতে আদালতে আসতে ভয় পায়। সেই প্রেক্ষিতে খুব সহজে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সরকার জেলা জজ আদালতে এডিআর কর্নার প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা করেছে। যার মাধ্যমে বিনা খরচে খুব সহজে ও দ্রুত বিচার প্রার্থীরা কাংখিত সেবা পাচ্ছে।

সর্বোপরি, যারা লিগ্যাল এইড নিয়ে কাজ করে তাদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, যারা লিগ্যাল এইড নিতে আসে তাদেরকে যেন নিচু করে দেখা না হয়, তাদেরকে যেন হেয় করে দেখা না হয়। কারণ তারা দয়া চাচ্ছেন না, বরং লিগ্যাল এইড পাওয়া তাদের সাংবিধানিক অধিকার।

বিশেষ অতিথি জনাব মো: রাশেদুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) তাঁর বক্তব্যে বলেন যে, এই কর্মশালার মাধ্যমে লিগ্যাল এইড কার্যক্রম আরো বেশী তরান্বিত হবে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ হতে মাঠ পর্যায়ে লিগ্যাল এইড বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করতে সহায়ক হবে। পুলিশ প্রশাসন নিয়মিতভাবে মাঠপর্যায়ে বিচার প্রার্থীদের তথ্য সরবরাহ করে যাচ্ছে এবং আবারও সকল থানাকে লিগ্যাল এইড সম্পর্কে সাধারণ বিচারপ্রার্থীকে তথ্য সরবরাহের নির্দেশনা প্রদান করবেন বলে তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন।

বিশেষ অতিথি জনাব মো: মিজানুর রহমান, জেলা প্রশাসক, নওগাঁ তাঁর বক্তব্যে বলেন যে, এই প্রোগ্রামের ফলশ্রুতিতে ইতোমধ্যে লিগ্যাল এইডে কেস রেফারেল বৃদ্ধি পেয়েছে। তাঁর বিশ্বাস সবায় মিলে যদি কাজ করা হয় তাহলে লিগ্যাল এইড কার্যক্রম সফলতা পাবেই। তিনি সকল ইউনিয়ন পরিষধের চেয়ারম্যানদের প্রতি মাসে অন্তত করে একটি হলেও মামলা রেফার করার আহবান জানান।

তাছাড়া, তিনি তাঁর বক্তব্যে প্যানেল আইনজীবীর মান বৃদ্ধি, বিভিন্ন সফলতার গল্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিশেষ করে ফেসবুক, ইউটিউবে প্রকাশ ও প্রচার করাসহ মোবাইল লিগ্যাল এইড ক্লিনিক চালু করার ব্যবস্থা গ্রহণের আহবান জানান। তিনি নওগাঁ জেলা লিগ্যাল এইড কমিটিকে একটি কার্যকর ও মডেল কমিটি হিসাবে প্রতিষ্ঠার ব্যপারে আন্তরিকভাবে কাজ করবে বলে জানান।

বিশেষ অতিথি জনাব ইফতেখার বিন আজিজ, উপ সচিব, আইন ও বিচার বিভাগ তাঁর বক্তব্যে বলেন যে, জন প্রতিনিধি এমন একটা জায়গা যারা চাইলে অর্ধেক মামলা হবে না, বাকী অর্ধেক মিমাংশা হবে এবং চার ভাগের একভাগ রেফার করতে পারেন। তিনি অংশগ্রহণকারী ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের সকল ব্যক্তির সহজে আইনী সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন লিগ্যাল এইড কমিটিকে শক্তিশালী ও কার্যকরী করণের উদ্যোগ গ্রহণের আহবান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*