বুধবার , ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮
সদ্যপ্রাপ্ত

যে কোন ফৌজদারি (Criminal) মামলায় আইনজীবীর ভূমিকা

ডিসেম্বর ৩১, ২০১২

অ্যাডভোকেট শাহানূর ইসলাম সৈকত<>ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থা বিচারক, সরকার পক্ষের আইনজীবী ও অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবীর সমন্বয়ে গঠিত এবং প্রতিটি পক্ষের কিছু নির্দিষ্ট ভুমিকা রয়েছে। বিচারকের ভুমিকা অভিযুক্ত অপরাধ সম্পর্কে উত্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতে প্রযোজ্য আইনের আলোকে নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত প্রদান করা।

নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত প্রদানের জন্য বিচারককে সরকার পক্ষ ও অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবীর যুক্তি-তর্ক মনযোগ সহকারে শ্রবণ করতে হয়। সরকার পক্ষের আইনজীবী অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করতে যুক্তি উত্থাপন করেন। অন্যদিকে,অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষে যুক্তি উত্থাপন করে তাকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করেন।

ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করার সর্বোচ্চ দায় রাষ্ট্রের এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনয়ন করা হয়, তা যুক্তিসংগত সন্দেহ ছাড়াই রাষ্ট্রকে প্রমাণ করতে হয়।

অভিযুক্ত ব্যক্তির ঘটনা প্রমাণের দায় থাকে না। তাকে কোন প্রমাণ উত্থাপন করতে হয় না। তাই অভিযুক্ত ব্যক্তির নির্দোষীতাও প্রমাণ করতে হয় না। অভিযুক্ত ব্যক্তি সকল প্রকার নাগরিক অধিকার সমভাবে ভোগের অধিকারী এবং তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পর্কে যুক্তি তর্ক উত্থাপনের অধিকারী।

– একজন ডিফেন্স ল’য়ার প্রয়োজনীয় তথ্য প্রমাণ উত্থাপন করে সরকার পক্ষে উত্থাপিত সকল যুক্তি খণ্ডন করেন এবং সরকার পক্ষের আনিত অভিযোগসমূহ প্রমাণের দায় নিশ্চিত করতে সরকার পক্ষ কর্তৃক উত্থাপিত সন্দেহজনক উত্থাপন সমূহকে চ্যালেঞ্জ করেন।

– একজন ডিফেন্স ল’য়ার মামলা চলাকালীন পদ্ধতিগত ভুল সম্পর্কে চ্যালেঞ্জ করে এবং অবিশ্বাস্য প্রমাণের ভিত্তিতে আনিত অভিযোগসমূহ বাতিলের চেষ্টা করেন।

– একজন ডিফেন্স ল’য়ার অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তার প্রাপ্য অধিকার সম্পর্কে অবগত করেন এবং সে সকল অধিকার যেন লংঘিত না হয় তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন।

– একজন ডিফেন্স ল’য়ার অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ঘটনার শুরু থেকে তার প্রাপ্ত অধিকার সম্পর্কে অবগত করেন,যেন অভিযুক্ত ব্যক্তি সে সকল অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে পারে। যা থেকে পরবর্তীতে মামলা চলাকালীন সময়ে সুবিধা পাওয়া যায়।

– একজন ডিফেন্স ল’য়ার মামলা পরিচালনায় সুবিধা পেতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জামিনের মাধ্যমে সাময়িকভাবে মুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারেন।

– একজন ডিফেন্স ল’য়ার সরকার পক্ষের আইনজীবীর সাথে মধ্যস্থতার মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ হ্রাস, এমন কি বাতিল করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারেন।

– একজন ডিফেন্স ল’য়ার মামলা মোকাবেলায় সুবিধা আদায়ের জন্য মামলার বিভিন্ন স্তরে গৃহীতব্য বিভিন্ন কৌশল ও যুক্তি-তর্ক সম্পর্কে অভিযুক্ত ব্যক্তির সাথে পরামর্শ করতে পারেন।

– একজন ডিফেন্স ল’য়ার অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষে মামলা সঠিকভাবে মোকাবেলার জন্য অন্যান্য সাক্ষীদের অভিযুক্ত ব্যক্তির সুবিধা প্রাপ্তির দৃষ্টিতে বোঝার চেষ্টা করেন এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করেন।

– একজন ডিফেন্স ল’য়ার কোন কোন সাক্ষীকে ডাকা হবে বা কিভাবে তাদের পরীক্ষা করা হবে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন।

– একজন ডিফেন্স ল’য়ার জুরিবোর্ডের কোন সদস্য অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব করছে কিনা তা নির্ধারন করে তাকে জুরিবোর্ড থেকে সরিয়ে নিতে আবেদন করতে পারেন।

তাই যত দ্রুত সম্ভব অভিযুক্ত ব্যক্তির একজন আইনজীবীর সহযোগিতা নেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ঘটনার প্রাথমিক পর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সুরক্ষা প্রদান করতে একজন আইনজীবী যেভাবে সাহায্য করতে পারেন, মামলা চলাকালীন অনেক সময় তা সম্ভব হয় না।

লেখক: মানবাধিকার কর্মী,আইনজীবী ও সাংবাদিক; প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব, জাস্টিসমেকার্স বাংলাদেশ। ইমেলঃ saikotbihr@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*