রবিবার , ১৮ নভেম্বর ২০১৮
সদ্যপ্রাপ্ত

ইটভাটা আইনের প্রয়োগ ও অস্পষ্টতা

জানুয়ারি ১২, ২০১৮

বাংলাদেশ উন্নয়শীল দেশ । প্রতিদিনই নতুন নতুন অবকাঠামোর কাজ শুরু হচ্ছে । প্রত্যক্ষ দৃষ্টিতে দেখা যায় বিশেষ করে শহরগুলোতে বড় বড় ইমারত গড়ে তোলা হচ্ছে তার প্রধানতম উপাদান হচ্ছে ইট । স্বীকার করার কোন বিকল্প নেই যে কোন ইট আমাদের অতি প্রয়োজনীয় একটি উপাদান হয়ে উঠছে দিনদিনই । আধুনিকতার যুগে প্রবেশের সাথে সাথে ইটের বিবিধ ব্যবহার বেড়েই চলবে । কিন্তু ইট উৎপাদনের ক্ষেত্রে পরিবেশের উপর বিরুপ প্রভাব একটি বড় বাঁধা । বিশেষ করে কৃষিজমি এবং কাঠের ব্যবহার ও তার ফলে উৎপাদিত কালো ধোয় সবচেয়ে বড় ক্ষতির কারণ । ইটভাটা স্থাপনে এজন্য 2013 সালের একটি যথেষ্ঠ শক্ত আইনও রয়েছে । তাতে স্পষ্ট করে যে শর্তগুলো দেওয়া আছে তার মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য কৃষিজমি, বনভূমি, রাস্তার পাশে এবং বিদ্যালয়ের পাশে ইটভাটা স্থাপন করা যাবেনা ।

কিন্তু তাতে কি আসলে কাজ হচ্ছে ? ইটভাটা নিয়ে প্রায়ই প্রতিবেদন হচ্ছে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে এবং জরিমানা করা হচ্ছে এবং আবার কিছুদিন পর সদর্পে চলছে ইটভাটাগুলো । তারপর আর তদারকিও নেই, জানাও নেই এবং সেই দূষণ আবার শুরু হচ্ছে !এভাবে চলতে পারেনা । একটি সুষ্ঠ পরিকল্পনা ছাড়া কোনভাবেই ইটভাটার দূষণ নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব নয় । কারণ আধুনিকায়নের সাথে সাথে ইট প্রয়োজন হবেই এবং যারা ইট তৈরী করছে তারা যেকোন ভাবে ইটভাটা চালাতে চাইবেই ।ইটভাটা আইনে স্পষ্ট করে বলা আছে “আধুনিক প্রযুক্তির ইটভাটা” অর্থ এমন কোন ইটভাটা যা জ্বালানী সাশ্রয়ী যেমন হাইব্রিড হফম্যান কিলন (Hybrid Hoffman Kiln), জিগজ্যাক কিলন (Zigzag Kiln), ভার্টিক্যাল স্যাফট ব্রিক কিলন (Vertical
Shaft Brick Kiln) বা টানেল কিলন (Tunnel Kiln) বা অনুরুপ কোন ভাটা স্থাপন ।
কিন্তু বড় ধরনের প্রশ্ন থেকে যায় এই পদ্ধতি ইটভাটা তৈরী করতে অনেক খরচের প্রয়োজন হয় এই অর্থায়ন করবে কারা । ইটভাটা কর্তৃপক্ষ এত টাকা লগ্নি করে ইটভাটা না চালিয়ে তখন তারা দুর্নীতির আশ্রয় নেয় । এতে করে একদিকে দুর্নীতি বাড়ছে, ইটভাটাও বাড়ছে অবৈধভাবে এবং কিছু টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কেউ কেউ ।
এ বিষয়ে এক্ষনি একটি সুষ্ঠ পরিকল্পনা প্রয়োজন । ইটভাটাগুলোকে নিয়মের মধ্যে আনতেই হবে আমাদের পরিবেশ বাঁচানোর জন্য ।
এজন্য এরকম হতে পারে সরকার একটি পদ্ধতি নির্ধারন করে প্রতিটি ইটভাটাকে নির্দিষ্ট ঋণদানের মাধ্যমে পরিবেশ বান্ধব করে গড়ে তোলার জন্য উদ্যোগ নেবে । তাছাড়া যদি এমন করা যায় যারা ইটের বড় বড় ক্রেতা তারা একটি নির্দিষ্ট পরিমান টাকা জামানত হিসেবে দিয়ে ইট ক্রয়ের চুক্তি করে তারপর ইট নেওয়া শুরু করলো এবং ইটভাটাগুলো সে টাকা থেকে তাদের প্রসেসের উন্নয়ন ঘটালো ।
এতে করে যারা ক্রেতা তারাও সঠিক ইট বাছাই করে কিনতে পারবে এবং ইটভাটাগুলোও উন্নত প্রযুক্তির হতে শুরু করলো ।
সাধারণ মানের ইট উৎপাদন বন্ধে বড় বড় ইমারতের ইটগুলো পরীক্ষা করে সেগুলো যদি মান উন্নয়ন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হয় তবে তাদের জরিমানার বিধান করা যেতে পারে এতে করে মানহীন ইট উৎপাদন কমে যেতে পারে অনেকাংশে ।
সরকারি কাজেও ইটের ব্যবহার কম নয় । দেখা যাচ্ছে রাস্তা তৈরীতেও অনেক ইট প্রয়োজন হয় । বর্তমানে আবার ইটের ছলিং রাস্তা ভাঙ্গা রাস্তা মেরামত করতে করে দেওয়া হচ্ছে । এই ইটগুলো কি সরকার পরিবেশ বান্ধব ইটভাটা থেকে সংগ্রহ করতে পারছে সবসময় ? এখানেই সমস্যা । ইটভাটা যারা অনিবন্ধিত তাদের থেকেও ইট কিনতে হচ্ছে কখনও কখনও এবং এতে করে শর্ত উপেক্ষিত হয়ে যাচ্ছে বরাবরই ।
ইটভাটাও প্রয়োজন তার সাথে প্রয়োজন পরিবেশ বাঁচানো । সুতরাং সঠিক নিয়মের চর্চা এখানে বাড়াতে হবেই । যে প্রক্রিয়ায় অল্প খরচে পরিবেশ সম্মতভাবে ইট তৈরী করা যায় সেরকম পরিকল্পনা নিয়ে ইটভাটাগুলো স্থাপনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করছি । আশা করি পরিবেশ অধিদপ্তর সহ সকলেই পরিবেশ বিষয়ক সঠিক চিন্তার নিমিত্তে ও কাঠামোগত উন্নয়নের স্বার্থে পরিকল্পিত ইট উৎপাদন ব্যবস্থা বিনির্মাণে দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন ।
লেখকঃ সাঈদ চৌধুরী
সদস্য, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি
শ্রীপুর, গাজীপুর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*