বুধবার , ১৪ নভেম্বর ২০১৮
সদ্যপ্রাপ্ত

বিশ্ব নিকোটিনের দূষণের শিকার হতে যাচ্ছে

জানুয়ারি ৩১, ২০১৮

বর্তমান বিশ্বে দিন দিনই ধূমপায়ীদের হার বাড়ছে । পরিবেশের কথা ভেবে আমরা প্রায়ই বলে থাকি ফ্যাক্টরীগুলোকে পরিবেশ সম্মতভাবে গড়ে তোলার জন্য । বিশ্বও খুব চাপ প্রয়োগ করছে এক্ষেত্রে । একটু খেয়াল করলেই দেখা যায় বিভিন্নদেশ জলবায়ু উন্নয়নে উঠে পড়ে লেগেছে । কিন্তু আমরাতো ঘর থেকেই পরিবেশ দূষণ করে চলছি প্রতিনিয়ত । একজন যখন ধূমপান করছে তার একটি সিগারেট থেকে যে ধোয়া বের হচ্ছে তা কিন্তু খুব সহজেই পাশের মানুষগুলোকে প্রভাবিত করছে । যারা ধূমপান করে না তারা বেশী অনুভব করে থাকে ধূমপানের ফলে কি কি ধরনের তাৎক্ষনিক সমস্যাগুলো হয় ! মানব স্বাস্থ ব্যতিরেকে চিন্তা করলে সামগ্রিক পরিবেশে যখন এই ধোয়া যাচ্ছে তা কি ক্ষতির কারণ হচ্ছে না ?
প্রতিদিন যে ধোয়া নির্গত হচ্ছে তার কত শতাংশ সিগারেট বা ধূমপান জনিত কারণে নির্গত হয় তা পরিমানের মধ্যে নিয়ে আসলে এটাও উদ্বেগের কারণ হবে সামগ্রিক পরিবেশের জন্য ।যদি তাই হয় তবে শুধু স্বাস্থ বিষয়ক ব্যপারটি ধূমপানে আনার পাশাপাশি আনতে হবে সামগ্রিক পরিবেশ দূষণের বিষয়টিও ।
বাবা অথবা মা শিশুর মুখের কাছে ধূমপান করছে ।শিশু সেটা কার্বন ডাই অক্সাইড সহ গ্রহন করছে । শিশুর ফুসফুস চরমভাবে ক্ষতি হচ্ছে ।সে দুর্বল একজন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠছে । অল্প পরিশ্রমেই কাজের গতি থামিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে ।শুধু কি তাই পাবলিক প্লেসেও যে যার মত ধূমপান করে যাচ্ছে । আশপাশের মানুষ গুলো এতে করে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে । তবুও ধূমপান করতেই হবে কারণ এটা আলাদা একটি শান্তি নাকি দেয় তাদের বুকের ভেতর !কিন্তু আপনি নিজেও জানেনা কি বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন আপনার সন্তানকে, পরিবারকে তথা দেশের মানুষকে !
আইন আছে প্রকাশ্যে ধূমপানের ব্যপারে । বাস্তবতায় প্রয়োগ করতে গেলে যে এর বিরুদ্ধে কথা বলবে সে-ই কোন কোন ক্ষেত্রে দোষী বলে বিবেচিত হয়ে যায় । আগেকালের দিনে ধূমপান মানুষ আঢ়ালে করতো কিন্তু ব্যপকতা বৃদ্ধির সাথে সাথে এটা প্রকাশ্যে চলে আসছে যা শুধু উদ্বেগজনকই নয় হতাশারও । এখন ছেলেমেয়েদের স্কুল ড্রেস পড়েও ধূমপান করতে দেখা যায় । কয়েকদিন আগে কয়েকজন লেখককে এ বিষয় নিয়ে লিখতেও দেখেছি কিন্তু প্রতিকারে?
ধূমপানে কিভাবে ফিল্টারিং ব্যবস্থা চালু করা যায় তা নিয়ে ভাবতে হবে । ছেলেমেয়েদের কাছে রেখে ধূমপান বন্ধে পরিবার থেকেই কাজ করতে হবে । যারা পরিবেশ বিসয়ে কাজ করে তারাও অনেকে পরিবেশের কথা বলে একটি সিগারেট মুখে নিয়েই । এটা প্রথা হতে পারে না । কোন কোন সেক্টরকে ধূমপান মুক্ত করে আদর্শ হিসেবে উপস্থাপন করতে পারলেই সামগ্রিক অবস্থার উন্নয়ন সম্ভব বলে মনে করি । এ ব্যপারে সামাজিক মানুষ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করছি ।
ধূমপান সন্তানদের সামনে নিয়ে করা থেকে বিরত থাকুন । পরিবেশ রক্ষা করা আপনার নৈতিক দায়িত্ব ।

 

লেখকঃ সাঈদ চৌধুরী
সদস্য, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি, রসায়নবিদ
শ্রীপুর, গাজীপুর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*