রবিবার , ১৮ নভেম্বর ২০১৮
সদ্যপ্রাপ্ত

বাঙলা কলেজকেই বাংলা বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তর করা হোক

ফেব্রুয়ারি ২২, ২০১৮

বাংলা ভাষার জন্য আমাদের ত্যাগ বিশ্বের বুকে অমলিন । সারা বিশ্বই বাংলা ভাষাকে আলাদা মূল্যায়ন করে চলেছে । আমাদের দেশের মানুষের মত ভাষা প্রীতি পৃথিবীর কোন দেশে নেই বলেই এ সম্মান আমাদের ।কিন্তু বাস্তবিক ক্ষেত্রে বাংলা ভাষাকে সার্বজনিন ভাবে আমরা আসলে কতটা লালন করতে পারছি ? বিভিন্ন দপ্তরেই এখনও বাংলার ব্যবহার আনা সম্ভব হয়নি । উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে পঠিত বইগুলোও অনেক বাংলা ভাষায় নেই । কিন্তু কতদিন আমরা এভাবে চলবো । আদালতে বাংলার ব্যবহারের জন্য অনেক দিন থেকেই কাজ চললেও সেটা মূলত স্থবীর, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল গুলোতেও বাংলার সঠিক ব্যবহার শুরু করা যায়নি, এগুইনি বাংলার উচ্চারণ বিষয়ক মিভিন্ন মিডিয়াতে কাজগুলোও ।

উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে দেখা যায় ইচ্ছে করলেও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিষয়ে বাংলায় পাঠ নিতে পারে না । কারণ একটিই বড় বড় বইগুলো এখনও অনুবাদ করা সম্ভব হয়নি বাংলায়।
উচ্চ শিক্ষা থেকে শুরু করে আঞ্চলিক ভাষার সংরক্ষন পর্যন্ত সবগুলো ধাপেই বাংলা নিয়ে কাজ করতে হবে প্রচুর । বাংলা একাডেমী এই কাজগুলো করছে কিন্তু গবেষনার জন্য এখনও ক্ষেত্র অপর্যাপ্ত ।

এমন যে চিন্তা আগে করেনি কেউ তা নয় । এরকম চিন্তা করেই তৎকালিন সময়ে বাংলা বিষয়ক একটি কলেজ স্থাপনে কাজে হাত দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক এবং তমদ্দুন মজলিশ-এর সভাপতি আবুল কাশেম । ১৯৬১ সালে তিনি কতিপয় শিক্ষাবিদ ও জ্ঞানীগুণীদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে বাঙলা কলেজ স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাকে শিক্ষার মাধ্যম ও অফিস-আদালতের ভাষা হিসাবে চালু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। এ উদ্দেশ্যে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খাঁ, ডক্টর ইন্নাস আলীসহ তমদ্দুন মজলিসের কয়েকজন কর্মীকে নিয়ে একটি প্রস্তুতি কমিটি গঠন করেন। কমিটি কয়েকটি ঘরোয়া বৈঠকের পর দেশের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও বিশিষ্ট নাগরিকদের নিয়ে বাংলা একাডেমীতে এক সভা আহবান করে। ১৯৬১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ঢাকায় একটি বাংলা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং এর প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে একটি বাঙলা কলেজ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

১৯৬১ সালের ১৮ জুন বাংলা একাডেমী সভাকক্ষে বাঙলা কলেজ সাংগঠনিক পরিষদের সভায় ঐ বছর জুলাই থেকে বাংলা কলেজের কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। (সূত্রঃ বাংলা পিডিয়া ও উইকিপিডিয়া)
এই বাঙলা কলেজটি আরও বড় ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে আছে । একাত্তরে বাঙলা কলেজের পেছনে দোসর বাহিনীরা আমাদের মা বোনদের নির্বিচারে হত্যা করে এনে ফেলে যেত । এই পুরো কলেজটিই বদ্ধভূমির একটি স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আমাদের সামনে ।
শুধুমাত্র বাংলাভাষার বিস্তৃতির জন্যই বাংলা কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলেও তা আজ পর্যন্ত পূর্নাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপদান করা সম্ভব হয়নি । বাংলার বিষয়ে গবেষনা, বিভিন্ন স্তরে বাংলার সঠিক উচ্চারণ ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করা এবং সকল দপ্তর ও উচ্চশিক্ষায় বাংলা ভাষাকে সঠিকভাবে ব্যবহারের জন্য বাঙলা কলেজকেই বাংলা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহন করা হোক ।
এতে করে নতুন করে আর আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার প্রয়োজন হবে না এবং রাজধানীতেই একটি উন্নত মানের বাংলা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা সহজ হবে । বাংলা ভাষার সঠিক বিস্তৃতি ও গবেষনার জন্য একটি বাংলা বিশ্ববিদ্যালয় খুব বেশী প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে ।এছাড়া বাংলা ভাষার ঐতিহ্য নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশেই গড়ে তোলা যেতে পারে বাংলা ভাষার যাদুঘরও । যেখানে বাংলা ভাষার প্রাচীন যুগ থেকে শুরু করে সব যুগের নিদর্শন সহ বিভিন্ন ধরণের ছোট ছোট পান্ডুলিপি পর্যন্ত সংরক্ষন করা হবে । যেমন এখন দিন পজ্ঞিকার আর কোন প্রয়োজনই নেই কিন্তু একটা সময় মানুষ পজ্ঞিকা ছাড়া চলতেই পারতোনা । চাঁদের হিসেব থেকে শুরু করে সময় গণনার কাজও করতো এই পজ্ঞিকা দিয়েই । প্রতিটি শিক্ষিত ঘরেই একটি করে পজ্ঞিকা থাকতো যা এখন বিলীন ।
সব কিছু মিলিয়ে বাংলাভাষার ঐতিহ্য রক্ষা ও বাংলা ভাষাকে বিশ্বের কাছে সহেজে পৌছে দেওয়ার জন্যই বাংলা বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজন হয়ে পড়েছে খুব বেশী বলে মনে করি ।
আশা করি এ বিষয়ে তথ্য মন্ত্রনালয়, শিক্ষা মন্ত্রনালয়, সংস্কৃতি মন্ত্রনালয় ও বাংলা একাডেমী একসাথে কাজ করবে । একটি বাংলা বিশ্ববিদ্যালয় আলাদাভাবে স্থাপিত হলে বিশ্বের অনেক মানুষই বাংলা ভাষাকে আলাদা ভাবে জানতে পারবে ও জাতিসংঘে বাংলা ভাষা অফিসিয়াল ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া আরও সহজ হবে বলে মনে করি ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*