সোমবার , ২০ আগস্ট ২০১৮
সদ্যপ্রাপ্ত

ভূগর্ভস্থ পানি আইনটি দ্রুত কার্যকর করা প্রয়োজন

মার্চ ২৩, ২০১৮

রাস্তার ধার দিয়ে গেলে যে বিষয়টি সবচেয়ে চোখে পড়ে তা হল পচা পানির দুর্গন্ধযুক্ত ড্রেন । শহরের কিছু কিছু ভিআইপি এলাকা বাদে সব এলাকাতেই পচা পানির এ ড্রেনগুলো দেখা যায় এবং খুব সহজেই চোখে পড়ে রাস্তার উপরও ময়লা পানি । পানি এমন একটি পদার্থ যা মাটি খুড়লেই পাওয়া যায় বলে এ বিষয়টা যে ভাববার তা নিয়েই কেউ ভাবেনা । অনেকেই লিখছে সামনে সুপেয় পানির অভাব হবে, অনেকেই চিন্তা করছে এই পানিই বড় বিপদের কারণ হবে এক সময় কিন্তু এই ভাবনাগুলোর ফল কতটকু হচ্ছে তা কি আমরা দেখতে পাই । এখন পর্যন্ত পানি বিষয়ক কোন ধরনের পরিকল্পনা উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব হয়নি । রাস্তায় এই পচা পানিগুলোর দূষণের মাত্রা নিয়ে ভাবনাতো দূরে থাক কেন এত দূষিত পানি আমরা পাচ্ছি তা নিয়েও কেউ ভাবেনা । গতকাল গাজীপুরের চৌড়াস্তার পর বাইপাসের পাশ দিয়ে হাঁটছিলাম । রাস্তার কাজ চলছে । পানির ড্রেন উন্মুক্ত রাখা হয়েছে । অবাক করার মত বিষয় সবগুলো ড্রেনের মধ্যেই এসে পড়ছে ফ্যাক্টরীর বর্জ্য পানি এবং তা মিশে যাচ্ছে অন্য পানিগুলোর সাথেই । প্রথম প্রশ্ন হল রাস্তার ড্রেনের সাথে কোন ফ্যাক্টরীর ড্রেন কি এভাবে উন্মুক্ত করে রাখা যায় ? যদি রাখাই যাবে তবে ফ্যাক্টরীগুলো কি এগুলো বিশুদ্ধ করে ছাড়ছে কিনা তার প্রমাণ কি ?
পানি দিবস পালন হবে সমস্বরে । এত পানি ভূগর্ভ থেকে তোলা হচ্ছে সে পানি কি সবই ভূগর্ভে যেতে পারছে ? এখানেই বড় ফ্যাক্ট । আমরা কিন্তু মাটির আগের অবস্থা ধরে রাখতে পারছিনা । খাল, নদী, বিল যাই বলুন শহরাঞ্চলের উপকন্ঠে সবগুলোই পলিথিন দূষণে আবৃত । ফ্যাক্টরীগুলো এমন কিছু কেমিক্যাল ব্যবহার করে যাতে পানির টিএস ও টিডিএস (পানিতে কঠিন পদার্থের আধিক্য) বেড়ে যায় যার ফলে মাটিতে এগুলো জমে গিয়ে মাটির শোষন ক্ষমতা নষ্ট করে দেয় । পলিথিনের আস্তরণের কারণে এবং মাটির ক্ষমতা হারানোর কারণে যে পানিগুলো নদীর বহমানতা বজায় রাখছে বলে আমরা ধারণা করছি তার সবগুলো ভূগর্ভস্থ পানি এবং বেশীরভাগই তা ভূগর্ভস্থে ফিরে না গিয়ে সাগরে পড়ছে । আপনি কি চিন্তা করতে পারেন যতটুকু পানি ভূগর্ভস্থে ফিরে যাওয়া দরকার তার থেকে দুই শতাংশ পানি কম ভূগর্ভস্থে ফিরে গেলে কি ধরনের ভয়াবহতা সৃষ্টি হতে পারে দূষণের ক্ষেত্রে ?
রাস্তায় ধুলো, দাও পাম্প ছেড়ে পানি দিয়ে ধুলো কমিয়ে ফেলি, শহরে যেখানে খাবার পানিরই সংকট সেখানে টয়লেটেন ফ্লাস করো ভুগর্ভস্থ পানি দিয়েই যেখানে প্রতিবার ফ্লাসে পানি যায় চার থেকে পাঁচ লিটার পর্যন্ত, ফ্যাক্টরীতে হাজার হাজার লিটার পানির দরকার সেট করে ফেল একটি ডিপ ! হয়ে গেল সমাধান !
পানি যে মূল্যবান তা অনেক মানুষই জানেনা সুতরাং এর আবার ব্যবহার কি ? অন্যদেশ যেখানে সাবধান হয়ে গেছে এই বিষয়গুলোতে আমরা সেখানে এখনও কেন নিজেদের ধ্বংসে ব্যস্ত ? পানি নিয়ে যুদ্ধ যেন একসময় জাতিকে সংকটময় করে তুলতে না পারে এজন্য ময়লা পানিকেই দ্বিতীয় বার ব্যবহারের ব্যবস্থার হার আরও বাড়াতে হবে । যে যেখানে ইচ্ছা ডিপ বসাতে পারবেনা এমন আইন প্রত্যেকটি শিল্পের জন্যও করতে হবে ।
পানি যদি অবহেলার বস্তু হয় তবে সংকটে পড়ে যাবে মানব জাতিই । পানি দিবস হোক পানিকে সঠিক ব্যবহারের মধ্যে নিয়ে আসার একটি উপলক্ষের দিন । সেমিনার করে গুরুত্ব বোঝানোর চেয়েও প্রয়োজন সঠিক আইনগতভাবে প্রত্যেকটি অনিয়মকে দূর করার চর্চা করা । পানি হোক সকলের জন্য নিরাপদ

লেখকঃ সাঈদ চৌধুরী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*