রবিবার , ১৮ নভেম্বর ২০১৮
সদ্যপ্রাপ্ত

জনতা ব্যাংকের ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট

ডিসেম্বর ৩, ২০১২

বিডিলনিউজ: জনতা ব্যাংকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ বাংলাদেশ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত একজন গভর্নরের নেতৃত্বে কমিটি করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ গতকাল রোববার এ আদেশ দেয়। আদালতের আদেশে সাত দিনের মধ্যে একটি তদন্ত কমিটি করতে অর্থ সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যে কমিটির প্রধান হবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন সাবেক গভর্নর। এছাড়া তিন সদস্যের কমিটিতে অর্থ মন্ত্রণালয় ও ব্যাংকিং বিভাগের দুজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাকেও রাখতে বলা হয়েছে।
কমিটিকে জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করে তিন মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ঋণ নিয়ে দুর্নীতি বন্ধে একটি নীতিমালা তৈরি করে প্রতিবেদন আকারে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জনতা ব্যাংক গত দশ বছরে কতো টাকার ঋণ মওকুফ করেছে_ তার একটি তালিকা চাওয়া হয়েছে ব্যাংকিং বিভাগের সচিবের কাছে। এ জন্য তাকে তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে। জনতা ব্যাংকের অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে_ তা প্রতিবেদন আকারে জমা দিতে গভর্নরকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
গত ২২ নভেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে ‘দুর্নীতির আখড়া জনতা ব্যাংক/ঘুষ ছাড়া ঋণ মেলে না’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি যুক্ত করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ রিট দায়ের করেন প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ঘুষের বিনিময়ে অখ্যাত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে জনতা ব্যাংক। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে ঠেকেছে যে, ঘুষ ছাড়া দেশের স্বনামখ্যাত ব্যবসায়ীরাও এ ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় ঋণ পাচ্ছেন না।’
আদালতে অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘জনগণের সঞ্চিত অর্থ ব্যাংকে জমা রাখা হয়। জনতা ব্যাংকের কতিপয় কর্মকর্তা নিয়ম ভঙ্গ করে অর্থ বেআইনিভাবে নাম ঠিকানাবিহীন ব্যক্তিদের ঋণ দিচ্ছে। যার মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা বেহাত হচ্ছে। এ বিষয়ে এখনই পদক্ষেপ না নিলে হলমার্কের মতো ঘটনা ঘটতে পারে।’ শুনানি শেষে আদালত পত্রিকায় প্রকাশিত দুর্নীতির ঘটনায় জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কেও জানতে চেয়েছে। এক মাসের মধ্যে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, একই ব্যাংকের শিল্প ঋণ বিভাগের জিএমকে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দিতে হবে।
পাশাপাশি জনতা ব্যাংকের ‘দুর্নীতি ও অবৈধ ঋণ বন্ধে’ বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না মর্মে রুল জারি করে। এছাড়া ‘জনগণের টাকার অবৈধ ব্যবহার’ এবং ‘দুর্নীতিতে জড়িত জনতা ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে’ যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তার কারণও জানতে চেয়েছে আদালত। অর্থ সচিব, ব্যাংকিং বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, শিল্প ঋণ বিভাগের জিএম নাজিমুদ্দিন ও এজিএম এমএ রশিদ এবং দুদক চেয়ারম্যানকে দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*